কলেজ জাতীয়করণের শেষ ধাপে সাব-রেজিস্ট্রারদের প্রতিবন্ধকতা

৮:৪১ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, মে ২, ২০১৭ অপরাধ, শিক্ষাঙ্গন

নিউজ ডেস্ক,সময়ের কণ্ঠস্বরঃ জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি উপজেলায় একটি করে কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই কাযক্রমের শেষ প্রান্তে একমাত্র সাব-রেজিস্ট্রারদের জন্য ভেস্তে যেতে বসেছে।

গত ২০ এপ্রিলের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে ২৮৫টি কলেজের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের নিকট হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু আজ অবধি হাতে-গোনা কয়েকটা কলেজ ছাড়া বাদবাকী কোন কলেজের দলিল হস্তান্তর হয়নি।

Education ministry

কারণ সাব-রেজিস্ট্রারগণ টাকা ছাড়া কোন দলিলে সই করতে রাজী নন। তাদের বক্তব্য দলিল রেজিস্ট্রি করতে তাদের কর দিতে হবে ৩শতাংশ। যা একটা কলেজে ৩০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ছাড়ায়ে যেতে পারে। এই টাকা কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ এত টাকা কোন প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে নেই অন্য দিকে অডিট হওয়ার পর কোন প্রতিষ্ঠানের তার ফান্ড ব্যবহার করার অধিকার নেই।

গত ২৮ এপ্রিল শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র অনলাইন জাতীয় পত্রিকা দৈনিক শিক্ষা ডটকমে এই সমস্যা সমাধানের জন্য একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে সমাধান সম্পর্কে একজন সাবেক শিক্ষাসচিবের বরাত দিয়ে বলা হয় রেজিস্ট্রি বিধিমালার ২০ নং বিধি মোতাবেক এবং ১৮৯৯ সালের স্ট্যাম্প আইন অনুযায়ী এই দলিল রেজিস্ট্রির জন্য কোন ফিস-এর প্রয়োজন হবে না। যার কপি জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে জমা আছে। এতে মাত্র দুই থেকে তিন শত টাকা খরচ হতে পারে। তিনি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠান সরকারকে দান করতে হচ্ছে। এখানে গ্রহীতা সরকার এবং দাতা প্রতিষ্ঠান, তাই এই দলিলের জন্য প্রতিষ্ঠান কোন টাকা খরচ করতে পারবে না।

২০১৪ খ্রিস্টাব্দে জাতীয়করণকৃত বর্তমান সরকারের রাষ্টপতির নামে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কলেজের একটি দলিলও মন্ত্রণালয় থেকে জোগাড় করে পাঠকদের জন্য প্রকাশ করে।যার উপর রেজিস্ট্রার কর্তৃক লেখা আছে রেজিস্ট্রি বিধিমালার ২০নং বিধি মোতাবেক এবং ১৮৯৯ সালের স্ট্যাম্প আইন অনুযায়ী এই দলিলের ফিস ৩২৫ টাকা মাত্র। যা দেখালে সাব-রেজিস্ট্রারগণ কারো অনুমতি ছাড়াই দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারবে এবং এটি ২৮৫টি কলেজের জন্য প্রযোজ্য।

গত ২৩ এপ্রিল বিহারী লাল শিকদার কলেজের অধ্যক্ষ দলিল হস্তান্তরের জন্য মাগুরা সদর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব, যিনি শালিখা উপজেলার দায়িত্বে আছেন, এর সাথে যোগাযোগ করেন। সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব ২৬ এপ্রিল বুধবার দলিল করে দিতে রাজি হন। কিন্তু অফিসে গেলে বিভিন্ন কাজের অজুহাত দেখিয়ে বিকাল ৫ টার দিকে বলে আজ দলিল করা সম্ভব নয়। আপনারা আগামীকাল আসেন।

পরের দিন গেলে তিনি অধ্যক্ষ সাহেবকে অপেক্ষা করতে বলেন। বিকাল সাড়ে চারটচায় তিনি অধ্যক্ষ সাহেবকে জানান আপনারা আর একটু সময় অপেক্ষা করেন। এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের মন্ত্রণালয়ে একটা মিটিং বসেছে এবং একটু পরই আমরা এর রেজাল্ট পাবো, আমি রাত ৯টা পর্য়ন্ত অফিসে অপেক্ষা করব এবং আপনাদের দলিল করে তারপর অফিস ত্যাগ করব। কিন্তু তিনি অধ্যক্ষ সাহেবকে কিছু না জানিয়ে বিকাল সাড়ে পাঁচটায় অফিস ত্যাগ করেন।

সর্বশেস গত ৩০ এপ্রিল সাব-রেজিস্ট্রার সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে চিঠি না এলে আমি এই দলিল করতে পারবো না। এই অবস্থা চলতে থাকলে কলেজসমূহ জাতীয়করণের পথ রুদ্ধ হবে। যা কারো কাছে কাম্য নয়।

তাছাড়া বর্তমান ২৮৫টি কলেজের মধ্যে অনেকগুলো কলেজ নামমাত্র খরচে তার দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেছে। কিন্তু এই কলেজটি সহ মাগুরা সহ ,যশোরের কোনো প্রতিষ্ঠানের দানপত্র দলিল রেজিস্ট্রি হচ্ছে না।