সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৭শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘বাংলাদেশে না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে’

১০:৪২ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, মে ২, ২০১৭ Breaking News, খেলা, স্পট লাইট

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক:  বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে পাকিস্তান বোর্ড কথা দিয়েছিল টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি খেলতে চলতি বছরের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে আসবে পাকিস্তান দল। পাকিস্তানের প্রাথমিক চাওয়া ছিল দুটি টি-টুয়েন্টি পাকিস্তানে গিয়ে খেলে আসুক সাকিব-তামিমরা।

বিসিবি এই প্রস্তাবে সাফ না করে দেয় পাক বোর্ডকে। এরপর শ্রীলঙ্কায় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের মিটিংয়ে বাংলাদেশ বোর্ড পাকিস্তানে হাই পারফর্মেন্স দল পাঠাতে রাজি হয়। একই সাথে পাকিস্তানের বাংলাদেশে এসে খেলা নিশ্চিত হয়।

কিন্তু দুবাইয়ে আইসিসি বোর্ড মিটিং শেষে পাক বোর্ডের সভাপতি শাহরিয়ার খান বাংলাদেশ সফর বয়কট করার ঘোষণা দেন। যদিও আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম অনুযায়ী সফরটি বাংলাদেশের হোম সিরিজ হিসেবে বিবেচিত।

নিয়ম অনুযায়ী চাইলেই সফর বাতিল করতে পারবে না পাকিস্তান। যদি সেটা করেও থাকে… তাহলে বিসিবি চাইলে পিসিবির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।

এই ইস্যুতে দুই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে পাক বোর্ডের এহেন আচরনে দেশের সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে পিসিবিকে।

সাবেক পাকিস্তানি ফাস্ট শোয়েব আখতার তো স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, পাকিস্তানি বোর্ড বাংলাদেশকে ধমক দিয়ে কাজ আদায় করে নেয়ার চেষ্টায় আছে। আরেক কিংবদন্তী ওয়াসিম আকরাম পিটিভির এক অনুষ্ঠানে আবার তার ভাষায় বলেছেন, ‘ধমক দিয়ে কাজ হয় না। এই সব ইস্যু কূটনৈতিক পন্থায় সামাল দিতে হয়। বাংলাদেশ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং সেটা স্বাভাবিক। যদিও পিএসএল ফাইনালে সব ভালো মতোই সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সব কিছুর একটা নিয়ম আছে। বাংলাদেশের বোর্ড কর্তাদের দাওয়াত দিয়ে নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রেজেন্টেশন ও ব্রিফিং দেয়া হোক। একটা নিয়ম মেনে সব কিছু ঠিক করার চেষ্টা করা দরকার। আমরা বাংলাদেশকে আমাদের ভাইয়ের মত দেখে এসেছি। অনেক বছর ধরেই আমরা বাংলাদেশর সাহায্য করে এসেছি।’

শোয়েব আখতার আবার বাংলাদেশের হাই পারফর্মেন্স দল পাকিস্তানে পাঠানোকে অপমান হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি মনে করেন, কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় স্বার্থে বাংলাদেশ সফরে যাওয়া উচিত পাকিস্তান দলের। তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশে আমাদের এখানে হাইপারফরমেন্স দল পাঠাবে… এটা কিছুটা হলেও অপমানজনক। আইসিসির পূর্ণ দল সদস্য হিসেবে এটা মেনে নেয়া যায় না। বিশেষ করে যখন বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মত দলের বেড়ে ওঠায় পাকিস্তানের অনেক সাহায্য ছিল।

এখন আমাদের বিপদে তাদের পাশে থাকা উচিত। তার উপর পাকিস্তান যদি বাংলাদেশ না যায়, তাহলে সেটা আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে পাকিস্তানের জন্য। সেটা এড়ানোর জন্য পাকিস্তানের সফরে যাওয়া উচিত। আর সেখানে খেললে পাকিস্তানের উপকার হওয়ার কথা। টেস্ট-ওয়ানডে যাই হোক… সফর হলে সেটা সহজ হবে না। বাংলাদেশ এখন ভালো দল।’

পিটিভির একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত আরেক পাকিস্তানি সাবেক রাশিদ লতিফও বাংলাদেশ সফরের পক্ষে কথা বলেছেন। যদিও পাকিস্তানের আকস্মিক মত বদলে ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। রাশিদ বলেছেন, ‘প্রশ্ন হলো ওই সময়টা বাংলাদেশ সফরে না গেলে কি করবে পাকিস্তান দল। ভারতের সাথে কোন সফরের কথা হচ্ছে না তো? ভারত হয়ত চাইবে আইসিসি লভ্যাংশের ক্ষতি পাকিস্তানের সাথে সিরিজ খেলে পুষিয়ে নিতে। সেটা না হলে পাকিস্তানের বাংলাদেশে যাওয়া উচিত।

ইংল্যান্ড নিরাপত্তা সমস্যা থাকার পরও বাংলাদেশ সফর করে গেল কিছুদিন আগে। এখন রাজনৈতিক কোন কারনে এমন হচ্ছে না তো? যেমনটা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হয়েছে। মাঝের ১৭ বছর তো পাক-ভারত ম্যাচই হয় নি। তেমন কিছু হচ্ছে না তো এখানে? ক্রিকেট প্রেমীরা ভারতের সাথে সেটা হয়েছে একই জিনিস বাংলাদেশের সাথেও হতে দেখতে চাইবে না। কারন বাংলাদেশ এখন খুবই ভালো দল।’