• আজ শুক্রবার। গ্রীষ্মকাল, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১২:০৩মিঃ

জবি থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদে আলোচনায় যারা

⏱ | মঙ্গলবার, মে ২, ২০১৭ 📁 শিক্ষাঙ্গন

জবি প্রতিনিধি: ছাত্রদলে ফের কমিটি গঠনের তোড়জোড় চলছে। সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার করার পাশাপাশি আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে বরাবরের মতো এবারও দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজাতে চান বিএনপির নীতি নির্ধারকরা।

এবারের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শীর্ষ দুটি পদের অন্তত একটি পদ চায় জবি ছাত্রদলের বর্তমান এবং সাবেক নেতারা। কেন্দ্রীয় ওই শীর্ষ পদের আলোচনায় যারা আছেন – কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল হাসান হাওলাদার, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এবং বর্তমান জবি ছাত্রদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক।

২০১৪ইং সালের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে বিএনপির ভ্যানগার্ড ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্য বিশিষ্ট (আংশিক) কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। তখন আরো ঘোষণা দেয়া হয়, ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। কিন্তু পরে  মোট ৭৩৬ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে নতুন কমিটি গঠনের আলাপ-আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও পছন্দ সই পদ পেতে ইতোমধ্যেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা। শীর্ষ দুই পদ দখলে নিতে বর্তমান কমিটির কয়েক সারির নেতাদের লড়াই যেমন চলছে তেমনি দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের পদের জন্য জুনিয়র নেতারাও ছুটছেন নিজ নিজ বলয়ে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ দুটিতে (সুপার টু’য়ের) পদের দৌড়ে এবার পদপ্রত্যাশী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের বর্তমান এবং সাবেক নেতারা। যারা বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে রয়েছেন। বিগত সময়ে পুরনো ঢাকার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল সরকার বিরোধী সকল আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এলেও শীর্ষপদ না পাওয়ার কারণেই হতাশ তারা।

জেল জুলুমের শিকার বর্তমান ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফ আল মামুন অনেক আগে থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ভুমিকা রেখে আসছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সুপার ফাইভ কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর আগের কমিটিতে যুগ্ম-আহবায়ক ছিলেন। তিনি গত ৪ বছরে প্রায় ৫ দফায় ১৫ মাস জেলে ছিলেন। এছাড়া বর্তমানে তার নামে ৩০ এর অধিক মামলা রয়েছে। বিএনপির ডাকা অবরোধে (বিশ্বজিত হত্যার দিন) পুলিশের গুলিতে মারাত্মক আহত হন তিনি। সর্বশেষ ২০১৫ইং সালের ২২ ফেব্রুয়ারিতে গ্রেফতার হন তিনি।

জবি ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল হাসান হাওলাদার পারিবারিকভাবেই বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। বাবা ও মা দুইজনই স্থানীয় বিএনপির নেতা। তিনি ১/১১ এর সময় রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ওই সময় মিছিলে আহত হন। ২০১২ইং সালে ডিবি পুলিশের নির্যাতনে শিকার হন। তার বিরুদ্ধে নিজ জেলা ৭টি সহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। রাজপথ থেকে বেশ কয়েকবার আটক হন তিনি।

জবি ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। তারেক রহমানের সাজার প্রতিবাদে নয়াপল্টনে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন তিনি। একাধিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তার বাবা স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

জবি ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক সকল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছেন। দেশে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সরকারের আমলে ছাত্রদল মহড়া না দিতে পারলেও রফিকের নেতৃত্বে জবি ক্যাম্পাসে মহড়া দিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এছাড়া পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে পুরান ঢাকায় সরকার বিরোধী কর্মসূচি পালনে সক্রিয় ভুমিকা রাখেন। তিনি মইন উদ্দিন ও ফখরুদ্দিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় র‌্যাব-পুলিশের লাঠি চার্জে গুরুতর আহত হন। সেই ক্ষতগুলো আজও শরীরে বহন করছেন রফিক। ওই আন্দোলনের মামলাসহ ১৭টি মামলার আসামী হন তিনি।  তিনি ৮ বারে প্রায় ১৮ মাস কারাবরণ করেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুব দলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বরাবরই ছাত্র রাজনীতি এমনকি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সব কিছুতেই প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে এ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে বলেন, কর্মীবান্ধব কমিটি সবার প্রত্যাশা। ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হলে ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দিলে দেশের ক্রান্তিকালে ছাত্রদল রাজপথে সাহসী ভূমিকা রাখবে। পুরান ঢাকাসহ বিএনপির রাজনীতি এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনকে চাঙ্গা করতে এ শাখা সংগঠনটির নেতাদেরকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ দুটি পদের অন্তত একটিতে হলেও স্থান দেওয়া সময়ের দাবি।