• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৮:৩৯মিঃ

খোলামেলা পোশাক পরায় টুর্নামেন্ট থেকে কিশোরীকে বাদ

২:২৭ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, মে ২, ২০১৭ চিত্র বিচিত্র

news_picture_49072_dress02


নিউজ ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বরঃ

টুর্নামেন্ট থেকে বাদ কিশোরী। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যাবে না। কিন্তু কেন? কারণ টুর্নামেন্টে প্রতিযোগী অত্যন্ত খোলামেলা পোশাক পরে এসেছে। শুনতে অবাক লাগলেও এমনই অভিযোগ তুলে ১২ বছরের কিশোরীকে মালয়েশিয়ান দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বের করে দেওয়া হল।

গত ১৪ এপ্রিল মালয়েশিয়ায় জাতীয় স্কলাস্টিক দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের আসর বসেছিল। ফাইনাল ছিল ১৬ এপ্রিল। টুর্নামেন্ট চলাকালীন টুর্নামেন্টের ডিরেক্টর নিজে কোচকে ফোন করে এমন অভিযোগ তোলেন। কোচ কৌশল খন্ধর জানান, তাঁর শিষ্যের পোশাক বেশি আকর্ষণীয় হওয়ার কারণেই তাঁকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে জানান আয়োজকরা। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়াতেও এ নিয়ে সরব হন কোচ। বলেন, “এ ধরনের কথার কোনও মানেই খুঁজে পাইনি আমরা। টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত তাঁর শিষ্যকে অত্যন্ত লজ্জিত করেছে।” এর ফলে কিশোরী খেলায় মনোসংযোগ হারিয়ে ফেলেছেন বলেও অভিযোগ তাঁর।

বিশ্ব দাবার গভর্নিং বডির তরফে টুর্নামেন্টের আগেই প্রতিযোগীদের ড্রেস কোড ঠিক করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে মহিলাদের পোশাকে কিছু কিছু পরিবর্তনও দেখা যায়। মুসলিম অধ্যুষিত দেশ যেমন ইরান, ইরাকের ক্ষেত্রে আয়োজনরা সেখানকার মহিলাদের সাধারণ পোশাককে মাথায় রেখেই প্রতিযোগীদের পোশাক ঠিক করা হয়।

কিন্তু মালয়েশিয়ান মহিলাদের ক্ষেত্রে হাঁটু পর্যন্ত স্কার্ট অথবা শর্টস পরার অনুমতি রয়েছে। ১২ বছরের কিশোরী তেমন পোশাকই পরেছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে তাকে এমন সিদ্ধান্তের শিকার কেন হতে হল? খন্ধর বলেন, “প্রায় দু’দশক ধরে মালয়েশিয়ায় দাবা খেলছি। কখনও টুর্নামেন্টে এ ধরনের ইস্যুর কথা শুনিনি।” আয়োজকদের আচরণে বিস্মিত হওয়ার আরও একটি কারণ তুলে ধরেন কোচ।

জানান, প্রথম রাউন্ডে একই পোশাকে যখন কিশোরী খেলে, তখন তাকে কিছু বলা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হলেই তাকে খেলা ছেড়ে দিতে বলা হয়।বলা হয়, প্রতিযোগিতার জন্য তার পোশাক ঠিক নেই। তবে সরাসরি তাকে টুর্নামেন্ট ছাড়তে বলা হয়নি। আয়োজকরা বলেন, একটি ট্রাউজার কিনে পরের দিন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে সে। কিন্তু রাত ১০টায় এমন অপশন কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তাই টুর্নামেন্ট থেকে নাম তুলে নেওয়া ছাড়া কিশোরীর কাছে কোনও উপায় ছিল না।

গোটা ঘটনায় অত্যন্ত বিরক্ত ও হতাশ মালয়েশিয়ার ওই দাবাড়ুর কোচ এবং কিশোরীর মা। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য সমস্ত অর্থ তাঁদের নষ্ট হল। এমন ঘটনায় টুর্নামেন্টের ডিরেক্টরের থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই থানাতে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে খবর। এদিকে, মালয়েশিয়ান দাবা ফেডারেশন জানিয়েছে, গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।