এবার পাল্টা জবাবে এবার সারাদেশের সিনেমা হল বন্ধের হুমকি !

৯:৪০ অপরাহ্ন | শনিবার, জুন ২৪, ২০১৭ বিনোদন

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক- রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত সিনেমা হল ‘মধুমিতা’র মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদের ‘লাঞ্ছনাকারী’দের গ্রেপ্তার না হলে দেশের সব সিনেমা হল বন্ধের 'হুমকি' দিয়েছে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি ও সিনেমা হল মালিক সমিতি ও চলচ্চিত্র প্রযোজনাকারী প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া।

আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টার পর রাজধানীর মগবাজারের একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই হুশিয়ারী  দেয় সংগঠন তিনটি ।

যৌথ প্রযোজনাকে যৌথ প্রতারণা আখ্যা দিয়ে গত মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড ঘেরাও করে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) সক্রিয় ১৪টি সংগঠনের জোট ‘চলচ্চিত্র পরিবার’। এ সময় পুলিশ ও সেন্সর বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি হয় চলচ্চিত্র পরিবার সংশ্লিষ্টদের। এর একপর্যায়ে চলচ্চিত্র পরিবারের শিল্পী ও কলাকুশলীদের হাতে মধুমিতা হলের মালিক নওশাদ লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে দুটি সংগঠন ও একটি প্রতিষ্ঠান।

সংবাদ সম্মেলনে হল মালিক সমিতির উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিবারের নাম দিয়ে যারা আন্দোলন করছে, তাদের চলচ্চিত্র পরিবারের অংশ বলা হচ্ছে। অথচ সিনেমা হলমালিকদের সেই পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। যারা দিনের পর দিন সাধারণ মানুষকে সিনেমা দেখিয়ে গেছে, তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।’

সাইফুল আরো বলেন, ঈদ থেকে পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে নওশাদকে লাঞ্ছনাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে বাংলাদেশের সব সিনেমা হল বন্ধে করে দেওয়া হবে।

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ঈদের সাতদিনের মধ্যে যদি সুষ্ঠু বিচার না হয়, তাহলে এফডিসির ১৪ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারো চলচ্চিত্র সিনেমা হলগুলোতে প্রদর্শন করা হবে না। এ ছাড়া ঈদের পর প্রদর্শক সমিতি ও হল মালিক সমিতি সারা দেশ থেকে চলচ্চিত্র প্রদর্শক ও মালিকদের নিয়ে এফডিসিতে মহাসমাবেশ করবে।

আওলাদ আরো বলেন, এফডিসি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এখানে কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে না। এ সময় তিনি এফডিসিতে অভিনেতা শাকিব খান ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আজিজকে নিষিদ্ধের প্রতিবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ বলেন, তাঁরা দুটি সমিতির পাশে থাকবেন এবং চলচ্চিত্রের উন্নয়নে ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক কাজী হায়াৎ, হল মালিক সমিতির সভাপতি নওশাদ, প্রযোজক মো. ইকবাল প্রমুখ।

এর আগে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে হিন্দি সিনেমা ‘ওয়ান্টেড’এর মুক্তির দিনে চার হলে গিয়ে পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলো চলচ্চিত্র অঙ্গনের শিল্পী ও কলাকুশলীরা। এই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে চলচ্চিত্র অভিনেতা শাকিব খান হিন্দি সিনেমা আমদানীকারক দের উদ্দেশ্য করে বলেন, “তারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা একটি রাজাকার চক্র। এতো সাহস তারা পায় কোথা থেকে?”

হিন্দি সিনেমা আমদানি ও প্রদর্শনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের ডাকে বৃহস্পতিবার থেকেই এফডিসির ভেতরে ও বাইরে চলচ্চিত্র বিষয়ক সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঢাকার চারটি প্রেক্ষাগৃহের সামনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের ব্যানারে শিল্পী-কুশলীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ।

এ সময় শ্যামলী হল, ফার্মগেইটের আনন্দ সিনেমা হল ও কারওয়ানবাজারের পূর্ণিমা সিনেমা হলের সামনের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। পূর্ণিমার ওপর থেকে নামিয়ে ফেলা হয় ‘ওয়ান্টেড’এর ব্যানার। তবে বিকালে মতিঝিলের মধুমিতা হলের সামনে বিক্ষোভের সময় পোস্টার ছেঁড়ার চেষ্টা হলে তাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ হলের সামনে থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে তারা রাস্তায় অবস্থান নেন এবং সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী সমিতির সভাপতি শাকিব খান এদিন বলেন, “আমাদের দেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে, একটি দেশ ধ্বংস করতে হলে তার সংস্কৃতি ধ্বংস করতে হয়। আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে তারা।”

চলচ্চিত্র আমদানীকারদের উদ্দেশ্য করে শাকিব বলেন, “শুধু চলচ্চিত্র নয়, এটা হচ্ছে দেশ রক্ষার আন্দোলন।” বিক্ষোকারীদের নিয়ে বিভিন্ন হলের অবস্থা দেখেছেন জানিয়ে শাকিব বলেন, ‘ওয়ান্টেড’ দেখতে দর্শকদের ‘তেমন’ সাড়া নেই। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সহসভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, “আমরা দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি বিকৃত হতে দেব না।”
অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিশা সওদাগর, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার এ সময় বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘ওয়ান্টেড’সহ আরও তিনটি চলচ্চিত্র আমদানি করে বাংলাদেশে প্রদর্শনের অনুমতি পেয়েছেন ইনউইন এন্টারপ্রাইজ-এর কর্ণধার মোহাম্মদ ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। তিনি মধুমিতা হলেরও মালিক। এই হলটি বিক্ষোভকারীদের অন্যতম লক্ষ্য হওয়ায় সেখানে আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বাংলাদেশ হল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দিনও বিক্ষোভ চলাকালে মধুমিতায় ছিলেন।
তিনি জানান, দুই দিনে ‘ওয়ান্টেড’ মুক্তি পেয়েছে পঞ্চাশটি হলে। শুক্রবার ঢাকার চারটি হলের টিকিট বিক্রি ও দর্শক সংখ্যা তাদের কাছে আশাব্যাঞ্জক বলে মনে হয়েছে।
বাংলাদেশে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সহসভাপতি সুদীপ্ত দাসও ‘হলের অবস্থা ভাল’ বলে জানান।
তিনি বলেন, “বাংলা ছবি দর্শক টানতে পারে না।”

এই সংক্রান্ত আজকের আরও কিছু সংবাদ

“জান থাকতে এ দেশের মাটিতে বিদেশি সিনেমা চালাতে দেব না”

এফডিসিতে নিষিদ্ধ হলেন আজিজ-শাকিব

শাকিবকে আমি তিন তিনবার বিপদ থেকে বাঁচালাম আর সে কিভাবে এগুলো বলে: আলমগীর