সংবাদ শিরোনাম

হাসপাতালের ওষুধ পাচারের ছবি তোলায় ১০ সংবাদকর্মী তালাবদ্ধবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রীনির্মাণকাজ শেষের আগেই ‘মডেল মসজিদের’ বিভিন্ন স্থানে ফাটলআহসানউল্লাহ মাস্টারসহ ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কারঐতিহাসিক ৭ মার্চের সুবর্ণ জয়ন্তী: টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে মানুষের ঢলচট্টগ্রাম কারাগারে হাজতি নিখোঁজ, জেলার-ডেপুটি জেলার প্রত্যাহারদেবীগঞ্জে ট্রাক্টরের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুকরোনার এক বছর: মৃত্যু ৮৪৬২, শনাক্ত সাড়ে ৫ লাখটাঙ্গাইলে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপনমোবাইল ইন্টারনেট গতিতে উগান্ডারও পেছনে বাংলাদেশ

  • আজ ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয় অভিনেত্রী শাবানা জানালেন ‘হুট’ করেই তার অভিনয় ছেড়ে দেয়ার গল্প!

৪:০৭ পূর্বাহ্ন | বুধবার, জুন ২৮, ২০১৭ বিনোদন

বিনোদন আপডেট ফিচার ডেস্ক- বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের বিউটি কুইনখ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা এখন ঢাকায়। দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকলেও দর্শকের মন এবং চলচ্চিত্রের মানুষের খুব কাছে আছেন তিনি। প্রায় দেড়যুগ ধরে অভিনয় থেকে দূরে সরে আছেন চলচ্চিত্রের গুণী অভিনয়শিল্পী শাবানা । অভিনয়জীবনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় হুট করেই যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। স্বামী ওয়াহিদ সাদিকসহ সন্তানদের নিয়ে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে।

যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও শাবানা প্রায়ই ঢাকায় আসেন, প্রয়োজনীয় কাজ সেরে আবার চলে যান। এ বছরের এপ্রিলে আবার ঢাকায় আসেন তিনি। থাকবেন মাস তিনেক। গণমাধ্যম এড়িয়ে চলা শাবানা এদিন টেলিফোনে একটি জাতীয় দৈনিককে দেয়া সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন ‘হুট করে অভিনয় ছেড়ে দেয়ার গল্প, প্রবাসজীবন, ঈদের স্মৃতি, সন্তান, যৌথ প্রযোজনাসহ আরও নানা প্রসঙ্গে।

মাত্র আট বছর বয়সে সিনেমায় নাম লেখান শাবানা। এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ নামের ছবিতে তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন। এরপর ‘চকোরী’ ছবিতে নায়িকা চরিত্রে অভিনয় শুরু। বরেণ্য চিত্রনায়িকা শাবানা প্রায়সময়েই ঈদের সময়টাতে বাংলাদেশে চলে আসেন। গত বছরও এসেছিলেন। প্রতি বছর সম্ভব না হলে দুই বছর পর আসেন। এবার তিনি ঈদের সময় ঢাকায় ​আছেন। তবে দেশে আসা কিংবা যাওয়ার সময় আলাদা করা সবাইকে জানানো হয় না। সংবাদ মাধ্যমকে এভাবেই জানালেন তিনি।

শাবানা এখন স্বামী আর সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে আছেন। ১৭ বছর আগে হুট করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তখন থেকে আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি।

এখনো ছোটবেলার ঈদের কথা বেশি মনে পড়ে তার। স্মৃতি হাতড়িয়ে উদাস ভঙ্গীতেই জানালেন, কিশোরীবেলায় বান্ধবীদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতেন। বড়দের সালাম করে সালামি নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন। ঈদের নতুন জামা ঈদের আগের দিন পর্যন্ত লুকিয়ে রাখতেন। কাউকে দেখতে দিতেন না।

শাবানার মা, ভাইবোন, সন্তানেরা সবাই থাকেন নিউজার্সিতে। কিন্তু সেখানে ঈদের আনন্দ টের পান না।

এবার সাংবাদিকদের বেশ কিছু প্রশ্ন নিয়ে একটু থেমে একনাগারে বলতে শুরু করলেন নিজের কথা।
আমি বছরে একবার সম্ভব না হলেও দুই বছর পর ঢাকায় আসি। সন্তানদের ব্যস্ততা কমলেই আসি। গতবারও ঈদ ঢাকায় করেছি। আমি নিজের মতো করে আসি, কাজ সেরে আবার চলে যাই।

বললেন, আমার মা, ভাইবোন, সন্তানেরা সবাই তো ওখানে। সবাই একসঙ্গে থাকতে পারার আনন্দটাই অন্য রকম। তবে ওখানে ঈদের আনন্দ টের পাই না। আমার কাছে ঈদের আনন্দ দেশেই সবচেয়ে বেশি।’ এখানে যেমন ঈদ নিয়ে সবার মধ্যে হইচই একটা ব্যাপার, উচ্ছ্বাস—সেটা ওখানে পাই না। দেশের টান, মনের টান—এটা একেবারেই অন্য রকম। আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা, অভিনয়জীবন, মানুষের ভালোবাসায় শাবানা হয়ে ওঠা—সবই তো এখানে। তাই যতই আমি দেশের বাইরে থাকি না কেন, আমার কাছে ঈদের আনন্দ দেশেই সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ঈদে যখন ঢাকায় থাকি, তখন বাচ্চাদের মিস করি। এবার ঈদেও তাঁদের মিস করব।

এবার প্রশ্ন ছিলো শাবানা ভক্তদের মনের কথাটাই হয়তোবা। গুনী এই সাবেক অভিনেত্রীকে জিজ্ঞেস করা হলো হঠাৎ করে সিনেমা ছেড়ে দেবার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণটা কী ছিল?

স্মীত হাঁসি শাবানার মুখে এবার। বলতে লাগলেন, সবার আন্তরিকতা নিয়ে দীর্ঘদিন সিনেমায় অভিনয় করলাম। লাখো মানুষের ভালোবাসায় শাবানা হলাম। হঠাৎ মনে হলো, সন্তানদেরও তো সময় দেওয়া দরকার। আমার বড় মেয়ে সুমী তখন এ লেভেল শেষ করল। উচ্চশিক্ষার জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলো। কিছুদিন পর ছোট মেয়ে ঊর্মি আর ছেলে নাহিনও যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেল। ওদের সবার বয়সই বা তখন আর কত। বাচ্চারা আমাকে খুব মিস করছিল। দেশে যখন ছিল, তখন তো আমার চোখের সামনেই ছিল। কাজের ফাঁকে দেখতাম। তখন আমিও ভাবলাম, মা হিসেবে আমার তো কিছু দায়িত্ব আর কর্তব্য আছে। সন্তানদের যদি ঠিকভাবে গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমার এই অভিনয়জীবন দিয়ে কী হবে! তাই কষ্ট হলেও সিনেমা ছেড়ে সন্তানদের ব্যাপারে মনোযোগী হলাম। এ জন্যই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। সাদিক সাহেবও (শাবানার স্বামী ) ওখানে কিছু ব্যবসার ব্যবস্থা করলেন।

এ জন্যই আমি দেখলাম যে অনেক দিন তো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে ছিলাম, এবার ঘরের দিকে মনোযোগী হই। তাই চলে গেলাম।

এবার কিছুটা আবেগ ফুটে উঠলো গলায়, জানালেন, তবে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিও কিন্তু আমার কাছে একটা পরিবারের মতো ছিল। সেখানে আমি রাত-দিন অবসরবিহীন কাজ করেছি। সহশিল্পী, পরিচালকদের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক গড়ে উঠল। কাউকে ভাই, আবার কাউকে চাচা ডাকতাম।
এখন দুর থেকে যখন শুনি সিনেমার কাজ সেভাবে হচ্ছে না, আগের মতো হলও নেই, দর্শকেরা সিনেমা হলে যাচ্ছে না, তখন মনটা খারাপ হয়। অথচ একটা সময় কী জমজমাট ছিল এফডিসি! প্রত্যেক ফ্লোরে কাজ ছিল। সেট ফেলার কোনো জায়গা পাওয়া যেত না। শিল্পীদের শিডিউলও পাওয়া যেত না। ঈদে যখন সিনেমা মুক্তি পেত, তখন তো উৎসব। দেখার মতো পরিবেশ ছিল। আবার মাঝেমধ্যে যখন খবর নিয়ে জানতে পারি, এখন সেভাবে সিনেমা নেই, তখন মনটাই খারাপ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ চুপ হয়ে যাই।

দেশের বর্তমান চিত্রজগতের সম্পর্কে জানাতে গিয়ে এই অভিনেত্রী বললেন, শাকিব খানের সিনেমা টেলিভিশনে দেখেছি। কয়েক বছর ধরে তাঁর নাম শুনছি, অপু বিশ্বাসের কথাও শুনেছি। শুনলাম, শাকিব নাকি এখন ভারতেও বেশ জনপ্রিয়। আমাদের দেশের শিল্পী ওই দেশে জনপ্রিয়, এটা শুনে খুব ভালো লেগেছে। এ ছাড়া পত্রিকার মাধ্যমে মাহী ও পরীমনির কথাও জেনেছি। টেলিভিশনের বাইরে পত্রিকাও পড়া হয় বেশি।

এসময় আবারো সৃস্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পর শাবানা বললেন,
বড় মেয়ে সুমী ইকবাল এমবিএ ও সিপি-এ করেছে। বিয়ে করে এখন সে পুরোদস্তুর গৃহিণী। ছোট মেয়ে ঊর্মি সাদিক মাস দু-একের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি শেষ করবে। ছেলে নাহিন সাদিক রটগার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে এখন ব্লুমবার্গে চাকরি করছে। এখানে তো সব কাজ নিজেকেই করতে হয়। তাই ব্যস্ততা একটু বেশি। ব্যস্ততার ফাঁকে যখন টেলিভিশন ছাড়ি, তখন নিজের সিনেমা চললে দেখা হয়। আমাদের ওখানে চ্যানেল আই, এনটিভি, এটিএন, বাংলাভিশন দেখার সুযোগ আছে। এসব চ্যানেলে আমার সিনেমা প্রায়ই দেখায়। যখন দেখি সত্যি ভালো লাগে। সিনেমাগুলো দেখার সময় শুটিংয়ের সময়ের স্মৃতিগুলো মনে পড়ে। আনন্দও হয়।

অভিনয়ে আসার গল্পটা প্রায় সব ভক্তদেরই জানা হয়তো, তারপরেও কথা প্রসঙ্গেই এল প্রসঙ্গটা। এবার বেশ উতফুল্ল লাগলো সবুজ এই অভিনেত্রীকে। বলতে লাগলেন, আমার বয়স যখন আট বছর, তখন ‘নতুন সুর’ সিনেমায় অভিনয় করি। পরিচালক ছিলেন এহতেশাম সাহেব। সম্পর্কে তিনি আমার চাচা ছিলেন। আমার আব্বার খালাতো ভাই। এহতেশাম সাহেবে চিফ অ্যাসোসিয়েট ডাইরেক্টর ছিলেন আজিজুর রহমান।

শিশুশিল্পী হিসেবে যখন কাজ করি, তখনই আজিজ চাচাকে পাই। এটা আনুমানিক ১৯৬৩ সালে। আমার নাম ছিল রত্না। তখন তো সিনেমায় মহড়া হতো। আজিজ চাচা আমাকে দিয়ে স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করানো, কীভাবে সংলাপ দেব, কীভাবে স্ক্রিনের সামনে দাঁড়াব—সব তিনি শিখিয়ে দিতেন। এখন তো অনুশীলন নেই। নায়িকা হওয়ার পর চাচার ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমার পরিবারের দারুণ একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। এই সম্পর্কটা এখনো আছে। তাঁর সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ হয়। সিনেমা মুক্তির খবর, মানুষের আগ্রহ কেমন, সিনেমার কে কেমন আছেন—সবই তাঁর মাধ্যমে জানতে পারি।
এবার বিদায় নেবার পালা, শেষ কথায় বললেন, ‘সবাইকে খুব মিস করি। কিন্তু মানুষের জীবনে একটা সময় আসে, যখন কোনো উপায় থাকে না। জীবনের ধাপে ধাপে কিছু সময় আসে, সে সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব দরকার। সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া, আমি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি। আল্লাহ আমাকে সবদিক থেকে পরিপূর্ণ করেছেন। এসময় বাংলাদেশের কোটি দর্শকের ভালোবাসা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরন করেন শাবানা।

প্রায় দেড় যুগ আগে অভিনয় ছেড়েছেন শাবানা। কিন্তু দর্শকরা এখনও তাকে ছাড়েননি, ভক্তদের হৃদয়ের মণিকোঠায় রয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী। শাবানা দেশ ছেড়ে আমেরিকায় স্থায়ী হয়েছেন। এর আগে এই অভিনেত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে। উপলক্ষ ছিল শাবানার বোনের ছেলের বিয়ে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বারিধারা ডিওএইচএসের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়।

ঢালিউডের বিউটি কুইনখ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা এখন ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসারী। বড় পর্দার শাবানার সাথে বাস্তবের শাবানার এখন কোনো মিল নেই। ফুলহাতা কামিজ ও হিজাব সেই শাবানাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছে। এখন তার দেখা পাওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে তো বটেই, কোনো সাংবাদিকের পক্ষেও প্রায় অসম্ভব। স্বামী ওয়াহিদ সাদিক, দুই মেয়ে সুমী ও উর্মি এবং একমাত্র পুত্র নাহিনকে নিয়ে তিনি এখন বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে। গুণী এই অভিনেত্রী এখন অনেকটাই লোকচুক্ষুর আড়ালে। এখন তিনি আত্মীয়স্বজন ছাড়া কারো সাথে দেখা দেন না, কথাও বলেন না।

কোটি দর্শকের স্বপ্নের নায়িকা হিজাবপরা শাবানাকে এখন দেশে-বিদেশে দেখলে তার পরিচিতরা অবাক হন। একজন শীর্ষস্থানীয় নায়িকা হঠাৎ পর্দার অন্তরালে নিজেকে এভাবে লুকিয়ে রাখবেন এটা তারা ভাবতেও পারেন না।

শাবানা তার ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন, হজ করার পর তিনি আর ছবি না করে পর্দা করার সিদ্ধান্ত নেন। তাছাড়া এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে সাধারণ জীবন-যাপন তার খুব ভালো লাগছে। এই দূর প্রবাসে সংসার, সন্তান, নাতি-নাতনি নিয়েই একান্ত সময় কেটে যায় শাবানার। তিনি এখন প্রবাসে একটা বুটিক হাউস দেয়ার চিন্তা করছেন।

একনজরে শাবানা

শাবানার আসল নাম রত্না। মাত্র ৯ বছর বয়সে ১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ ছবিতে ছোট্ট মেয়ের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শাবানার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু। তার পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে। তার বাবা ফয়েজ চৌধুরী একসময় চিত্র পরিচালক ছিলেন। এরও আগে তার আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় মেয়েকে ফিল্মে দিয়ে এবং নিজে চলচ্চিত্রে জড়িয়ে ভাগ্য গড়ার চেষ্টা চালাতে থাকেন। একদিন তার সে আশা পূরণ হয়েছিল। শাবানা তখন রত্না নামে ‘নতুন সুর’ ছবিতে অভিনয়ের পরে তালাশ, সাগর, ভাইয়াসহ আরও কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করলেন।

১৯৬৬ সাল থেকে তার উত্থান ঘটতে শুরু হয়। সে বছরই ‘আবার বনবাসে রূপবান’-এ সুলতানা জামানের কন্যা সোনাভানের চরিত্রে অভিনয় করে নায়িকা হিসেবে রত্না প্রথম দর্শকের মন কাড়লেন। এরপর ‘জংলি মেয়ে’ এবং ‘চকোরি’ ছবি দুটিতে প্রধান নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করার পর শাবানাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

শাবানা তার অভিনয়ের প্রথম দিককার সম্পর্কে একবার বলেছিলেন, ১৯৬৭ সালে ‘চকোরি’ রিলিজের পর থেকে আমার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল ঢাকার বাইরে লাহোর ও করাচিতে। ১৯৬৮ সালে নায়িকা হিসেচে চাঁদ আওর চাঁদনি, ভাগ্যচক্র এবং কুলিতে; ১৯৬৯ সালে-দাগ, মুক্তি; ১৯৭০ সালে ‘পায়েল, সমাপ্তি, ছদ্মবেশী, বাবুল, মধু মিলন ও একই অঙ্গে এত রূপ’-এ অভিনয় করলাম। রাজ্জাক-সুচন্দা জুটির অসম্ভব জনপ্রিয়তার সময় কাজী জহিরের ‘মধুমিলন’-এ অভিনয় দেখে দর্শক প্রশংসা শুরু করল আমাকে নিয়ে। দ্বৈত অনুরাগের সংঘাত ও পরিণতির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এ ছবি দর্শকের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। আমার তো মনে হয়, ‘মধু মিলন’ ছবিতে সম্ভবত প্রথম হৃদয়স্পর্শী অভিনয় দেখাতে সক্ষম হয়েছিলাম।

স্বাধীনতার পর আবার ছবি নির্মাণ শুরু। শাবানা আগের জনপ্রিয়তা নিয়ে ১৯৭২ সালেই ৮টি ছবির নায়িকা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি ‘ওরা এগারো জন’ আর কাজী জহিরের ‘অবুঝ মন’ করে সারা বাংলাদেশে জানান দিলেন ঢাকার ফিল্মে শাবানার তুলনা হয় না। অন্যান্য ছবি যেমন- সমাধান, ছন্দ হারিয়ে গেল, এরাও মানুষ, মুন্না আওর বিজলি, চৌধুরী বাড়ি আর স্বীকৃতিও সফল হয়েছিল।

সেই শাবানা বনাম আজকের দিনের শাবান

শাবানা মোট ১০ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি প্রথম এই পুরস্কার পান ‘জননী’ সিনেমার জন্য। এরপর ১৯৮০, ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৭, ১৯৯০, ১৯৯১, ১৯৯৩ এবং ১৯৯৪ সালেও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তার অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে আছে ১৯৯১ সালে প্রযোজক সমিতি পুরস্কার, ১৯৮২ ও ১৯৮৭ সালে বাচসাস পুরস্কার, ১৯৮৪ সালে আর্ট ফোরাম পুরস্কার, ১৯৮৮ সালে আর্ট ফোরাম পুরস্কার, ১৯৮৮ সালে নাট্যসভা পুরস্কার, ১৯৮৭ সালে কামরুল হাসান পুরস্কার, ১৯৮২ সালে নাট্য নিকেতন পুরস্কার, ১৯৮৫ সালে ললিতকলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৮৪ সালে সায়েন্স ক্লাব পুরস্কার, ১৯৮৯ সালে কথক একাডেমী পুরস্কার এবং জাতীয় যুব সংগঠন পুরস্কার।

শাবানা ১৯৭৩ সালে ওয়াহিদ সাদিককে বিয়ে করেন। তখন সাদিক ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। শাবানার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এস এস প্রোডাকশনের দেখাশোনার ভার তার স্বামীর ওপর পড়ে। ১৯৯৭ সালে শাবানা দীর্ঘ ৩৪ বছর কাজ শেষে হঠাৎ চলচ্চিত্র-অঙ্গন থেকে বিদায় নেয়ার ঘোষণা দেন। এরপর তিনি আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। ২০০০ সালে তিনি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

শ্রেয়া ঘোষাল মা হচ্ছেন

⊡ বৃহস্পতিবার, মার্চ ৪, ২০২১

শাকিবের পুরস্কার বুঝে নিলেন বুবলী!

⊡ শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২১

বুবলীকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টা!

⊡ শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১