🌏 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
  • f

ঢাকায় ১৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টি, জল ও যানজটে জনদুর্ভোগ চরমে (ভিডিও)

⏱ ১:২৪ অপরাহ্ন | শনিবার, অক্টোবর ২১, ২০১৭ 📂 আলোচিত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর- কার্তিক মাসে বৃষ্টি ঝরছে বর্ষার মতো। দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে ভ্যাপসা গরমের ভাপ কমে শীতলতা নেমেছে দেশের একটি বড় অংশ জুড়েই।

সূর্যের দেখা নেই দুই দিন ধরে। রাজধানী অলিগলির একটি বড় অংশ বর্ষাকালের মতো পানির নিচে। বৃষ্টি ঝরা শুরু হওয়ার পর নগরবাসী স্বাগত জানালেও এখন বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় তারা।

নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট বৃষ্টিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ শনিবারও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কোথাও থেমে থেমে, কোথাও টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে আজও ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নৌবন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্কতাসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক। সবমিলিয়ে রাজাধানীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও বড় ধরনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার বিকেল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাত হবে। দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের বৃষ্টিপাত রাত নাগাদ কমে আসবে। তবে উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

শুধু রাজধানী নয়, দেশের বেশির ভাগ এলাকায় গতকাল কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে গোপালগঞ্জে—২৭১ মিলিমিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে খুলনায় ১৬৩, বরিশালে ১৮৬, রাজশাহীতে ৯২, ময়মনসিংহে ১০০, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে ৮ ও রংপুরে ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে গত দু’দিনের ক্রমাগত বৃষ্টিতে জনজীবনে নেমেছে অস্বাভাবিকতা। জল ও যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানীবাসী। বৃষ্টিতে বেশিরভাগ এলাকা ছাড়াও ঢাকার অনেক রাজপথ পানিতে থই থই করছে।

বেহাল সড়কে পানি জমে গণপরিবহন ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরীর বাসিন্দারা। সড়কে গাড়ির সঙ্কট, যাও আছে চলছে ঢিমেতালে। চড়া ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চললেও পথে পথে দিচ্ছে আরেক ভোগান্তি। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হয়ে বাড়াচ্ছে যানজট।

নির্ধারিত রাস্তাগুলোতেই কেবল চলে রিকশা। তারাও সুযোগ পেয়ে নিচ্ছে গলাকাটা ভাড়া। দীর্ঘদিন ধরে চলা কাঁচাবাজারের আগুন এবার এসে পড়েছে নগরবাসীর পকেটে। সবমিলে অবস্থা জেরবার।

শনিবার সকালের দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে। মাতুয়াইল, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, দনিয়া, গুলিস্তান ও সেগুনবাগিচা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বেশির ভাগ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। মাতুয়াইলের বেশিরভাগ বাড়িতে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করেছে। মাতুয়াইল ও ডেমরার রাস্তায় কোথাও কোমর সমান পানি দেখা গেছে।

এছাড়া রাজধানীর মানিকনগর, বাসাবো, মালিবাগ, শান্তিনগর, রাজারবাগ, মুগদা, মিরপুর, মালিবাগ, রামপুরা, খিলগাঁও ও বনশ্রী এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যাও কমে গেছে। যেগুলো চলাচল করছে, তার অধিকাংশ ফিটনেসবিহীন। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আধাভেজা হয়ে যারাই এসব বাসে উঠছেন, ভাঙা জানালা ও ফুটো ছাদ গলে পানি তাদের বাকিটাও ভিজিয়ে দিচ্ছে।

রবিউল ইসলাম (রবি)