সংবাদ শিরোনাম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত আইনমন্ত্রীরপঞ্চম দফায় স্বেচ্ছায় ভাসানচর যাচ্ছেন আরও ৩ হাজার রোহিঙ্গাআল-জাজিরার বিরুদ্ধে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের মামলারাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ আজ, সব রুটের বাস বন্ধনিষেধাজ্ঞা পৌঁছানোর ৫২ মিনিট আগে বেনাপোল দিয়ে ভারতে পালান পি কে হালদার৮ম শ্রেণি পাস করে ‘ডাক্তার’, চেম্বার খুলে দেখছেন রোগী!বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জাতিসংঘেরফুলবাড়ীতে টিভি দেখার প্রলোভনে প্রতিবন্ধী শিশুকে বলাৎকারআল-জাজিরা একটা নাটক লিখেছে, যা বেমানান: পররাষ্ট্রমন্ত্রীসিএমপিতে ৮ পুলিশ কর্মকর্তার দফতর বদল

  • আজ ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে মা ও শিশু কল্যাল কেন্দ্রে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

৬:২২ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৩, ২০১৭ দেশের খবর

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইল পৌর শহরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা হাসপাতালে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও তারা কর্ণপাত না করে বরং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

জানাযায়, গত ১৮ নভেম্বর শনিবার টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ধুলটিয়া গ্রামের মোঃ আলমগীরের স্ত্রী রোজিনা বেগম সন্তান জন্মদানের জন্য টাঙ্গাইল মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তী হন।

সন্তান জন্মদানে দেহের স্বাভাবিক সক্ষমতা না থাকায় রোগীকে সিজারিয়ানের মাধ্যমে বাচ্চা (ছেলে) প্রসব করানো হয়। বাচ্চা প্রসবের পর শিশুটির ঠান্ডা জনিত সমস্যা থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ দিন থাকার পর শিশুটি সুস্থ হওয়ায় (১৯ নভেম্বর) সোমবার দুপুরে পুনরায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যেতে বলে। এবং সেই সাথে একটি ব্যবস্থা পত্র দিয়ে দেন। ব্যবস্থাপত্রে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে ২৫০ সম ইনজেকশন দুই বেলা পুশ করার কথা লিখে দেয়া হয়। এবং ইনজেকশনটি মাংসে পুশ করার জন্য বাংলায় স্পষ্ট করে নির্দেশনা দেয়া হয়।

কিন্তু সোমবার রাত ১০ টার দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স সেলিনা বেগম নিজে ইনজেকশন পুশ না করে তার বদলে অশিক্ষিত অদক্ষ ডায়নার্স মর্জিনাকে দিয়ে ইনজেকশনটি কেনোলার মাধ্যমে ব্রেইনে পুশ করান। যার ফলে কোমলমতির শিশুটি কয়েকবার হেচকি দিয়ে মারা যায়। এমন অভিযোগ শিশুটির বাবা মোঃ আলমগীর হোসেনের।

ঘটনাস্থলে থাকা ও প্রত্যক্ষদর্শী শিশুটির দাদি সূর্য বানু ও নানি রাজেদা বেগম জানান, ডায়নার্স মর্জিনাকে কেনোলার মাধ্যমে ইনজেকশন পুশ করার ব্যাপারে বারবার নিষেধ করা হলেও তিনি আমাদের কথা শোনেন নি। বরং আমরা নিষধ করায় আমাদের সাথে অসৌজন্য মুলক আচরণ করেছে।

 

ঘটনার আগ পর্যন্তও শিশুটি সুস্থ ছিলো। বারবার ওর মায়ের বুকের দুধ পান করছিল। কিন্তু ইনজেকশন পুশ করার সাথে সাথে কয়েকবার হেচকি দেয়। আমরা তাৎক্ষনিক বুঝতে পারেনি। তার কয়েক ঘন্টা পর যখন ওর মা ওকে বুকের দুধ পান করানোর জন্য ঘুম থেকে উঠে তখন শিশুটির কোন সাড়া না পেয়ে হাসপাতালে কর্তব্যরতদের বিষয়টি জানানো হয়। তারা এসে শিুশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

আমাদের শিশুটিকে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। নার্স সেলিনা ও ডায়ানার্স মর্জিনার বিচার চাই। যাতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে আর কারো বুকের মানিক কে না হারাতে হয়।

তবে অভিযুক্ত নার্স সেলিনা বেগম ও ডায়নার্স মর্জিনা বেগম তাদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলছেন সঠিক চিকিৎসাই তাদের দেয়া হয়েছে। এতে কেউ মারা গেল আমরা কি করবো।

নিহত শিশুটির পিতা আলমগীর হোসেন জানান, সেলিনা বেগম ও ডায়নার্স মর্জিনা বেগম আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য দায়ি। তারা যদি ব্যবস্থাপত্রের নির্দেশনা মোতাবেক ইনজেকশন পুশ করতো তাহলে আমার সন্তান মারা যেতো না। আমি সঠিক বিচার পেতে আইনের আশ্রয় নেবো।
এ দিকে নেক্কারজনক ও চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, এখানে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সদের খুঁজে পাওয়া যায়না। নার্সরা রোগীদের সাথে দূব্যবহার করেন। তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারনেই এখন এমন ঘটনা ঘটছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ হবে সরকারের স্বাস্থ্য সেবার গৌরব টিকিয়ে রাখতে এসব অভিযুক্তদের চাকুরিচ্যুত করা। তা না হলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে নামধারি এসব চিকিৎসা সেবিরা।

এ ব্যাপারে মা ও শিশু কল্যাল কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার মমতাজ বেগম জানান, শিশুটির মৃত্যুর খবর আমি শুনেছি।
তবে, হাসপাতালের করো দায়িত্বে অবহেলা বা কারো ভুল চিকিৎসা যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।