নবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ৩৩টি অভিযোগ, সরেজমিন তদন্তে মাউশির পরিচালক


মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি– হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত নবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম হোসেন আজাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদাচরণ, তহবিল তছরুপ, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও কর্তব্য কাজে অবহেলাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

ডিজি বরাবরে অভিযোগ করেন নবীগঞ্জ উপজেলার খনকারীপাড়া গ্রামের মোঃ খলিলুর রহমান। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল সরেজমিন তদন্ত করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের পরিচালক হারুনুর রশীদ ও সহ পরিচালক প্রতাপ চৌধুরী।

অভিযোগে প্রকাশ, ওই কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম হোসেন আজাদ’র নিকট ২০১৫ সনে সৌর বিদ্যুতের জন্য সংসদ সদস্য ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু কোন কাজ না করে অধ্যক্ষ সমুদয় টাকা আত্মসাত করেছেন।

২০১৬ সনে তিনি অসুস্থ হলে কলেজ গভর্ণিং কমিটির অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৪ মাস কলেজে অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তিতে তিনি অবৈধভাবে অনুপস্থিত দিনের বেতন উত্তোলন করেছেন।  ২০১৭ সনে কলেজের গভর্ণিং কমিটির অনুমোদন ছাড়াই ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকার কিছু বই ক্রয় করেছেন লোকমুখে প্রচার করে ওই টাকা তিনি আত্মসাত করেন।

ওই অভিযোগ পত্রে আরো বলা হয়েছে, সরকারী বিধি মোতাবেক অনুযায়ী ২ লক্ষ টাকার উপরে যদি কোন কাজ করতে হয় তাহা হলে উম্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে দরপত্র আহবান করতে হয়। কিন্তু অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম হোসেন আজাদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে কলেজের দোতলার বর্ধিত অংশের নির্মান কাজ কলেজ গভর্ণিং কমিটির অনুমোদন বা টেন্ডার ছাড়াই করেছেন। পরে তিনি কাজের মোট ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে কমিটিকে জানান। এ কাজে কলেজ গভর্ণিং কমিটির সভায় বিল ভাউচার উপস্থাপন করেননি।

কলেজের অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের বেতন, ভর্তি ফি কলেজের অফিস সহকারী বিন্দু ভুষন বৈদ্যের মাধ্যমে আদায় (পরিশোধ) করে কলেজের একাউন্টে জমা না দিয়ে অধ্যক্ষ গোলাম হোসেন আজাদ নিজ হাতেই খরচ করে আসছেন। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি বিধান অনুযায়ী ৫শত টাকার অধিক খরচ করতে হলে কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। অধ্যক্ষ এসব বিধিবিধানের কোন তোয়াক্কা করেননি। কলেজের নিজস্ব ৪ টি পুকুরের মাছ চাষ বা ইজারার টাকা তিনি ব্যাংকে জমা করেননি।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন ফি আদায়ের জন্য মুদ্রিত রশিদ বহি এর কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই। জিবির অনুমোদন ছাড়াই কলেজে স্কুল ভবন ও লাইব্রেরী ভবন নির্মান করে তিনি পরবর্তীতে গভর্ণিং বডির সভায় কলেজে স্কুল ভবন নির্মানে ৩০লক্ষ টাকা ও লাইব্রেরী ভবন নির্মানে ২২ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে উপস্থাপন করলে কাজের সাথে ব্যয়ের কোন সামঞ্জস্য না থাকায় ওই খরচের অনুমোদন দেয়া হয়নি।

এছাড়া ও ওই কলেজে নিজের কন্যাকে শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্বে ও কলেজে চাকুরী দেয়া, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বাড়ি ভাড়া গ্রহণ, কলেজ গভর্ণিং বডির অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা ও অর্থ ব্যয়, শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মনগড়াভাবে ফি আদায়, কলেজের গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাত তিনি একক মতে কলেজ ভবন ভাঙ্গা-গড়াসহ ৩৩ টি অভিযোগ সম্বলিত অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম হোসেন আজাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপÍরের ডিজি ও অনুলিপি পত্র শিক্ষামন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে।

উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ হেলাল উদ্দিন সাক্ষরিত (মাউশি/সি ১৬২/স) স্মারকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে তদন্ত করে সূষ্পষ্ট প্রন্থ তদন্ত প্রতিদেবন দাখিলের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের পরিচালক হারুনুর রশীদকে নির্দেশ করেন।

এরই প্রেক্ষিতে সিলেট অঞ্চলের পরিচালক হারুনুর রশীদ ও সহকারী পরিচালক প্রতাপ চৌধুরী গতকাল ওই প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন গিয়ে দীর্ঘ তদন্ত করেন। তদন্তকালে অভিযোগকারী খলিলুর রহমান সকল অভিযোগের সকল প্রমানাদি নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। এসময় কলেজ অধ্যক্ষ গোলাম হোসেন ও অভিযোগকারীর সাক্ষাৎকার গ্রহন করা হয়।

অভিযোগকারী খলিলুর রহমানসহ স্থানীয় লোকজন উক্ত অভিযোগের সুষ্ট তদন্ত করে প্রমাননিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের সহকারী পরিচালক প্রতাপ চৌধুরী জানান, উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশে সরেজমিন গিয়ে অধ্যক্ষ ও অভিযোগকারীসহ সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করে অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি

◷ ৭:২৯ অপরাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৩, ২০১৭ দেশের খবর, সিলেট