ফেনী-২(সদর) আসনে কে হচ্ছেন নৌকা-ধানের কান্ডারি?

১২:৩৫ অপরাহ্ন | শুক্রবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৭ দেশের খবর

মো: ইমাম উদ্দিন সুমন, স্টাফ রিপোর্টার :    ফেনী-২ (ফেনী সদর) আসনটি রাজনীতিতে জেলার একটি মর্যাদা ও গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসাবে ভোটারদের কাছে বিবেচিত। আগামী ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন। ফেনী ২ আসনে কে পাচ্ছেন নৌকা ও ধানের শীষের প্রতিক? এ নিয়ে ফেনীর সর্বত্র চলছে আলোচনা।
ফেনী ২ আসনে আওয়ামী লীগের মরহুম খাজা আহাম্মদ ছাড়াও জয়নাল হাজারী তিনবার, (১৯৮৬,১৯৯১,১৯৯৬সাল),অধ্যাপক ভিপি জয়নাল তিনবার, ১৯৮৮, ২০০১, ২০০৮সাল), সর্বশেষ বর্তমান সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী একবার (২০১৪) এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সাবেক জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন হাজারী ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনে তত্কালীন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুস সাক্তারকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন ।

১৯৯১ সালে বিএনপি জেলা সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন ফেরদৌসকে এবং ১৯৯৬ সালে বিএনপি’র ফেরদৌস আহাম্মদ কোরাইশীকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ভিপি জয়নাল ১৯৮৮ সালে জাসদ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০১ সালে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল হাজারীকে এবং ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে হারিয়ে বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হন।

ফেনী পৌরসভা ও সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে ফেনী-২ সদর আসন গঠিত। ফেনী জেলার একজন আওয়ামীলীগার জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নিজাম উদ্দিন হাজারীর আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারন, নিজাম হাজারীর নেতৃত্বেই ফেনী জেলা আওয়ামীলীগ ঐক্যবদ্ধ। তবুও কোন কারনে নিজাম হাজারী প্রার্থী হতে না পারলে সাবেক এমপি জয়নাল হাজারী ও শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোহবান চৌধুরী, আ ক ম সাহেদ রেজা শিমুল প্রার্থী হতে পারে বলে বিভিন্ন গনমাধ্যম সুত্র জানায়।

তাছাড়া ফেনীর সাবেক এমপি জয়নাল হাজারী সোসাল মিডিয়ায় লাইভে এসে বলেই ফেলেছেন যে, তিনি এবার ফেনীতে শেষ খেলা খেলবেন।

কিন্তু নিজাম হাজারী মনোনয়ন পেয়ে গেলে জয়নাল হাজারীর শেষ খেলার কি হবে? তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে শেষ খেলাটা কি নিজাম হাজারীর সাথে খেলবেন? নাকি দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে নিজাম হাজারীর প্রতি সমর্থন দিয়ে বিএনপি প্রার্থীর সাথে শেষ খেলা খেলবেন? এমন প্রশ্নই ঘুর পাক খাচ্ছে ভোটারদের মাঝে।

জয়নাল হাজারীর একজন ভক্ত বলেন, জয়নাল হাজারী ফেনীর রাজনীতিতে একজন খেলোয়াড় ছিলেন এ কথা স্বীকার করতেই হয়।খেলেছেন বিএনপির সাবেক এমপি ভিপি জয়নালের সাথে। সেই খেলা ছিল সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে কখনো বিজয়ী হয়েছেন, কখনো হেরেছেন।

সুত্রমতে, জয়নাল হাজারী ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হয়ে স্টিয়ারিং বাহিনী গঠন করে দলকে চাঙা করলেও ব্যাপক সমালোচনার সম্মুক্ষিণ হন। জেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তারা বলে থাকেন, এক সময় লেবানন খ্যাত সন্ত্রাসের জনপদ ফেনী এখন শান্তির জনপদে পরিনত হয়েছে । আর তা নিজাম হাজারীর নেতৃত্বেই হয়েছে।

২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ভিপি জয়নালের কাছে হেরে যান আওয়ামীলীগ প্রার্থী জয়নাল হাজারী। পরে তিনি বিভিন্ন মামলা এড়াতে ভারতে চলে যান। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি মামলাগুলো মোকাবেলা করে মুক্ত হন। মুক্ত হয়ে হাজারিকা প্রতিদিন নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করছেন। আর নিজের অবস্থানের কথাও জানান দিচ্ছেন।

এদিকে ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। কিন্তু ভোটযুদ্ধে বিএনপি প্রার্থী ভিপি জয়নালের কাছে হেরে যান।

আওয়ামীলীগ প্রার্থী ইকবাল সোহবান হেরে গেলে ফেনীর আওয়ামী রাজনীতিতে নেমে আসে হতাশা। এই কারনে ফেনীর রাজনীতিতে নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রয়োজন অনুভব করা হয়।

নিজাম উদ্দিন হাজারী ২০১১ সালে ফেনী পৌরসভা নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আবসারকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন নিজাম উদ্দিন হাজারী।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে তা সময় বলে দেবে। ফেনী ২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন- ভিপি জয়নালকে মাঠে ময়দানে দেখা যাচ্ছে। গাজী হাবীব উল্যাহ মানিক, রেহানা আক্তার রানু ও আলোচনায় আছেন।

ফেনী জেলা বিএনপি সুত্রে জানা যায়, ফেনী জেলা বিএনপি ধানের শীষের প্রার্থীতার বিষয়ে একমত হতে না পারলে, খালেদা জিয়া সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত হবে। খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তে অন্য একজন শক্ত প্রার্থী দিতেও পারে। খালেদা জিয়া যাকে মনোনয়ন দিবে, তার জন্যই কাজ করবে বলে জানায় জেলা বিএনপি।

আবার এ দিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশ দলের শরিক দল জামায়াত লিয়াকত আলী ভূঁইয়াকে শরীক দলের প্রার্থী হিসেবে চাইতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে, ফেনীর স্টারলাইন গ্রুপের এমডি ও জাপার কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাজী আলাউদ্দীন, জেলা সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটি আওয়ামী লীগে যোগ দিলে জাতীয় পার্টি নেতৃত্বশূন্য হয়ে যায়।

জেলায় জাপার এমন দুঃসময়ে কমিটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার নজরুল ইসলাম বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মহাজোটর প্রার্থী হতে পারে বলে জানা গেছে।