সহিংসতা ঠেকাতে সেনাবাহিনী মোতায়েন, কোন পথে পাকিস্তান?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক- পাকিস্তানে ইসলামপন্থীদের বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানী ইসলামাবাদে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। শনিবার রাজধানী ইসলামাবাদ রক্ষায় সেনাবাহিনী তলব করা হয়েছে। যদিও রোববার সকালেও সড়কে কোনো সেনা সদস্য দেখা যায়নি।ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিন শতাধিক, যার মধ্যে দেড় শতাধিকই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তবে বিক্ষোভ থেমে নেই।

রাজধানী ছাড়াও লাহোর, করাচি, গুজরানওয়ালা, ফয়সলাবাদসহ আরো কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব শহরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদের বিরুদ্ধে ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে বিক্ষোভ শুরু করে ইসলামপন্থীরা। তার অপসারণের দাবিতে তখন থেকেই তারা ফইজাবাদ হাইওয়ের মোড়ে অবস্থান নেয়।

সেখান থেকে তাদের সরানোর অভিযান শুরু হলে তাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়লে তারা ইটপাটকেল ছুঁড়ে জবাব দেয়। এতে আহত হয় অন্তত ২০০ জন। পরে করাচিসহ আরো কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় আইনমন্ত্রীর বাড়ির একাংশে ভাঙ্গচুর করে বিক্ষোভকারীরা। অবশ্য সে সময় আইনমন্ত্রী বা তার পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। এরপরই শহর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ইসলামাবাদে সেনাবাহিনী তলব করা হয়। যদিও সেনা দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি।

নির্বাচনে প্রার্থীদের নেওয়া শপথের একটি অংশে ‘মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)’ অংশটি বাদ পড়ার পর আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ শুরু করে ইসলামপন্থীরা। তাদের অভিযোগ, আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জন্য সুবিধাজনক ওই শপথে পরিবর্তন আনা ব্লাসফেমির শামিল। যদিও এ ঘটনা একজন ক্লার্কের ভুলে হয়েছে জানিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন জাহিদ হামিদ।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসীকে ফোন করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া জাতীয় স্বার্থে পরিস্থিতি ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ মোকাবিলা করার অনুরোধ করেছেন। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর এক টুইট বার্তায় এ কথা জানিয়েছেন।

হঠাৎ করে এই সহিংস বিক্ষোভকে আগামী বছর হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের আগে পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএএল-এন) জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি

◷ ১:১৮ অপরাহ্ন ৷ রবিবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৭ আন্তর্জাতিক, স্পট লাইট