মেয়ের মুঠোফোনে বাবার বেঁচে থাকার আর্তনাদ

৫:৫৫ অপরাহ্ন | রবিবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৭ আলোচিত

সাভার: মুঠোফোনে মেয়েকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করছে বাবা। অপর পাশে থেকে ভেসে আসছে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতের শব্দ। তার সাথে বাবার আর্তচিৎকারে।

অমানবিক নির্যাতনে ফোনটি পরে যায় বাবার হাত থেকে। কিন্তু থেমে থাকেনি অত্যাচারের মাত্রা। এমন পরিস্থিতিতে মেয়ে ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। পরে থাকা বাবার নিথর দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায় হাসপাতালে। কিন্তু পথে মারা যায় রিকশাচালক বাবা শাহজাহান।এটি ঢাকার সাভার উপজেলায় আশুলিয়ায় শনিবার (২৫ নভেম্বর) রাতে ঘটে যাওয়া রিকশাচালক শাহজাহানকে হত্যার মর্মাহত বর্ণনা। আশুলিয়ার জামগড়া রুপায়ন মাঠে মাত্র ৭‘শ টাকার জন্য রিকশাচালক শাহজাহানকে হত্যা করে গ্যারেজ মালিক।

নিহত শাহজাহান মেয়ে সোনিয়া জানান, চলতি বছরের শুরুতে নওশদের মাধ্যমে স্থানীয় শহিদুলের মালিকানাধীন সু-প্রভাত বহুমুখী সমিতি থেকে ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করে শাহজাহান। রিকশা চালিয়ে কয়েকমাস মাসিক কিস্তির মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করে। পরে ২৫ হাজার টাকায় তার এক আত্মীয়র কাছে রিকশাটি বিক্রি করে দেয়।

ঋণের বাকি অর্থ ২০ হাজার টাকা সমিতিকে পরিশোধ করে দেয়। কিন্তু সমিতির মালিক শহিদুল আরও ৭শ টাকা বাকি রয়েছে বলে দাবি করেন। পরে ৭শ টাকার জন্য শহিদুল ও নওশেদ বিক্রিকৃত রিকশাটি ‘রাসেল গ্যারেজে’ ৭দিন ধরে আটকে রেখে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেয়। গতকাল (শনিবার) নওশেদ মিমাংশা করে দেয়ার কথা বলে শাহজাহানকে ডেকে নিয়ে যায়।

পরে রড দিয়ে পিটিয়ে রুপায়ন মাঠে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।রবিবার (২৬ নভেম্বর) ভোরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শাহজাহান বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার ঘুঘুদিয়া গ্রামের নবীর প্রামাণিকের ছেলে। সে দীর্ঘদিন আশুলিয়ার জামগড়া ও ভাদাইল এলাকায় থেকে রিকশা চালাতো।

নিহতের মেয়ে সোনিয়া আরও জানান, গতকাল রাতে বাবাকে ফোন দিয়ে নওশেদ ডেকে নিয়ে যায়। এসময় বাবাকে ফোন দিলে সে বাগবাড়ি এলাকায় নওশেদ ও শহিদুল পাশে রয়েছে বলে জানান। এরপরে দীর্ঘ বাসায় ফিরে না আসলে পুনরায় ফোন দেয়া হলে বাবার চিৎকারের শব্দ পাওয়া যায়। এসময় বাবা বার বার বাঁচার আকুতি জানাতে থাকে। কিন্তু নওশেদ ও পাশে থাকা লোকজন ভারী বস্তু দিয়ে বাবাকে আঘাত করতে থাকে।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল জানান, গতকাল হাসপাতাল কৃর্তপক্ষের খবরের ভিত্তিতে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

তাকে ভারী বস্তু দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সত্যতা মিলেছে। এছাড়া অভিযুক্তদের আটকের জন্য কয়েকটি টিম কাজ করছে।লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।