বুড়িচংয়ে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবীতে মহাসড়ক অবরোধ ও মিছিল

◷ ৬:২৩ অপরাহ্ন ৷ রবিবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৭ দেশের খবর

মাহফুজ বাবু, কুমিল্লা।
কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার নিমসার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের পদত্যাগ দাবীতে রবিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনে মানব বন্ধন, মহাসড়কে অবরোধ প্রতিবাদ মিছিল ও সাংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানায়, অবৈধ সুবিধা নিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম তার পরিচালিত ছাত্রাবাসে না থাকায় এবং তার কাছে প্রাইভেট না পড়ায় ফেল করিয়েছে।

নাম্বার বেশী পাওয়ার পরেও ছাত্র-ছাত্রীদের ২০১৮ সনের এসএস সি’র টেষ্ট পরিক্ষায় নাম্বার কম দিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে তাদের ফেল করিয়ে দেয়। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা সহ অভিভাবকরা আরো অভিযোগ করে জানায়, ফেল করা
শিক্ষার্থীদের থেকে প্রায় ১১৩ জন এর নিকট থেকে ১২ হাজার টাকা দাবী করে পরিক্ষায় সুযোগ দিতে ।

এবং ৭ হাজার টাকা করে আগাম নিয়ে নেয়। আরো ৫ হাজার টাকার দবী জানালে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে।
এর পর থেকে শিক্ষক আমিরুল ইসলাম স্কুলে আসা বন্ধ করেরে দেয়। রবিবার দুপুর ২টায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমাসার বাজার ও বিদ্যলয়ের সামনে অবরোধ, মিছিল, ও মানববন্ধন করে।

এসময় বিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কটি তে যানজট সৃষ্টি হলে
স্থানীয় দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির এস আই সহাদাত হোসেন
ছাত্রছাত্রীদের মহাসড়ক ছেড়ে দিতে বলেলে ছাত্রছাত্রীরা পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পরে।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রক্ষার্থীরা এসময় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলামের পদত্যাগ দবীতে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকে।

স্থানীয় একাধিক সুত্রের সাথে কথা বলে জানা যায়,জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার উচ্চ বিদ্যালয়ের অবস্থান। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের তার কোচিং সেন্টারে পড়তে চাপ প্রয়োগ করতো। আর্থিক সংগতি না থাকায় অনেকের পক্ষে সেটা সম্ভব না হওয়ায় তিনি আগামী ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী অনেক শিক্ষার্থীকে কৌশলে টেষ্ট পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেন।

স্থানীয় একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্র ও অভিভাবকরা জানান,স্কুলটিতে এবারে টেষ্ট পরীক্ষায় ২১০ জন অংশ নেয়। সব বিষয়ে পাশ করেছে মাত্র ৯৭ জন। সরকারী এমপিও ভূক্তস্কুলটিতে অর্ধেকের বেশী পরীক্ষার্থী ফেল করায় অনেকের প্রশ্ন তাহলে শিক্ষকরা কি করেছেন? সুত্র আরো জানায়,স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিজে কোচিং সেন্টার চালু করে শিক্ষার্থীদের তার কোচিং সেন্টারে পড়তে বাধ্য করতে নানা রকম ভয়ভীতি দেখায়। তিনি এসময় শিক্ষার্থীদের ভয় দেখান তার কোচিং সেন্টারে না পড়লে পাশ করতে দেওয়া হবেনা। এদিকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বোর্ড ফি’র অতিরিক্ত টাকাও নিচ্ছেন পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে। বোর্ড যেখানে সর্বোচ্চ ১৭’শ টাকা নির্ধারণ করেছেন,সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ সর্ব নিম্ন ২২’শ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা আদায় করছেন।

বিষয়টি জানতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। এদিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক টেস্টে ফেল করা শিক্ষার্থীদের কাছে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ১ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবী করছেন। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের বলছেন,তার কাছে প্রাইভেট পড়তে। বিষয়টির সত্যতা জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।