সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়েছে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুতের, ১০ জন সাময়িক বরখাস্ত


স্টাফ রিপোর্টার , মাদারীপুর প্রতিনিধি- মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের অবহেলায় ও অব্যবস্থাপনায় সর্বত্র হারিয়ে পথে বসেছে অনেক অসহায় পরিবার।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক কিছু ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলেও তেমন কোন উদ্যেগ নেয়া হতো না কখনো। আর সেই সংবাদ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারের কিছুদিনের মধ্য টনক নড়েছে পল্লী বিদ্যুতের।

ম্যানেজম্যান্ট অডিটের মধ্যমে হেড অফিসর (আর ইবি) দুই দফায় কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সহ ১০ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। এতে একদিকে আতঙ্ক বিরাজ করছে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে। অন্যদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে কর্মকর্তা কর্মচারী বরখাস্ত হওয়াকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসীরা।

জেলায় কোন রকম বৃষ্টি অথবা বাতাস হলেই বৈদ্যুৎতিক তার ছিড়ে পরে থাকে রাস্তা-ঘাট অথবা কোন জমিতে। কিন্তু তা দেখেও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জরুরী ভিত্তিতে কোন ব্যবস্থা নিতো না। তাছাড়া কোন সমস্যার কথা অভিযোগ করলেও সমাধান করি করি করে মাস বছর চলে যায়।

তাদেরএ অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারনে জেলার সাধারন মানুষদের প্রায়ই বড় ধরনের বিপদে পড়তে হচ্ছে। হারাতে হচ্ছে পরিবারের প্রধান কর্মঠ ব্যাক্তিকে। সাথে পুড়ে ছাই হচ্ছে হাজারও স্বপ্ন। এভাবে আর কত প্রানহানি বা পঙ্গু হলে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙ্গবে। এই সংবাদ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারের পর গত ২৮অক্টোবার ২০১৭ তারিখে ৬ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এবং ১৪তারিখ সদর উপজেলার চরনাছনা এলাকায় বিদ্যুৎতের তার ছিড়ে এক মহিলা নিহত হওয়ায় পল্লিবিদ্যুৎতের এজিএমসহ ৪জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্তকৃতরা হলেন,
১, জহিরুল ইসলাম- (জুনিয়ার ইনঞ্চিনিয়ার), ২. চৌধুরী আবির উল্লাহ, (পি ও সি), ৩, স্বপন কুমার কুন্ডু (সাব ইনস্পেকটর), ৪, শাহাতাব হোসেন, (ওয়ারিং পরিদর্শক), ৫, বিজয় কৃঞ্চ ঘোষ, (ওয়ারিং পরিদর্শক), ৬, আসাদুল্লাহ, (ওয়ারিং পরিদর্শক), ৭, আব্দুর রহিম (এ জি এম), ৮, বাবুল আক্তার (জুনিয়ার ইনঞ্চিনিয়ার), ৯, এনামুল হক (লাইন ম্যান) ও ১০, সলাইমান মিয়া (লাইন ম্যান)

সুজন, হাবিব, সয়োয়ার, আলআমিন, আফজাল সহ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, দুর্নীতির দায়ে পল্লিবিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের বরখাস্ত হয়েছে এতে আমরা হারানো সম্পদ ফিরে না পেলেও শুনে ভাল লাগছে। আমরা কোন অভিযোগ করতে গেলে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকিও দিয়েছে, আমরা জিএম এর বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত চাই এবং এই রকম তদন্ত অব্যহত থাকলে পল্লী বিদ্যুৎ থেকে দুর্নীতি কিছুটা হলেও কমবে। তদন্ত ও বরখাস্ত হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি আসলেও ভবিষ্যতে যাতে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের অবহেলায় ও অব্যবস্থাপনায় কারনে আর যেন কোন পরিবার, ব্যবসায়ীকে সর্বত্র হারাতে না হয় সেদিকে আরো কঠোর নজরদারী বাড়ানো দাবীও জানান তারা।

মস্তফাপুর বাজার ব্যবসায়ীক সমিতির, সাংগঠনিক সম্পাদক, আ. রহিম মাতুব্বর বলেন,  পল্লী বিদ্যুতের যে বরখাস্তের ঘটনা ঘটেছে তাতে আমাদের মাঝে স্বস্তি এসেছে, তবে এইরকম তদন্ত ও দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত আরো ১০-১৫ বছর আগের থেকে নেয়া উচিত ছিল আর এটা অব্যহত থাকা উচিত।

বরখাস্তের কথা প্রথম স্বীকার করতে না চাইলেও পরে স্বীকার করে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ কামরুল হাসান বলেন, এটা সাময়িক বরখাস্ত, সামান্য দোষত্রুটির কারনে এই বরখাস্ত করা হয়েছে- এই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে প্রায় ২০ বছর পর এই তদন্ত হয়েছে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি

◷ ১২:০৭ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৭ ঢাকা, দেশের খবর