কোকো লঞ্চ ট্র্যাজেডি: ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চলাচল বন্ধের দাবি ভোলাবাসীর

৭:৪৮ অপরাহ্ন | সোমবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৭ দেশের খবর, বরিশাল

ভোলা প্রতিনিধিঃ আজ ২৭ নভেম্বর। ভোলার লালমোহনের সেই ভয়াল কোকো লঞ্চ ট্র্যাজেডির দিন। ৮ বছর আগে এই দিন রাত ১১টায় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাইর কারণে লালমোহন নাজিরপুর ঘাট থেকে কয়েক গজ দূরে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি কোকো-৪ ডুবে যায়।

সেই সময় বেশিরভাগ যাত্রী সাঁতার কেটে তীরে ওঠতে পারলেও ৮৩জনের প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত সাহায্য সহযোগিতা দিলেও ঘাতক লঞ্চের মালিক পক্ষ থেকে কোনো সমাবেদনা কিংবা আর্থিক সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

একই সঙ্গে এখনও ওই রুটে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে লঞ্চ চলাচল করছে। নিরাপদ লঞ্চের দাবিতে লালমোহবাসী একাধিকবার মানববন্ধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও আজও তাদের দাবি পূরণ হয়নি।

অপরদিকে, দুর্ঘটনার পর কাত হওয়া লঞ্চটিকে হামজা ও রুস্তম দিয়ে সোজা করা হলেও বাংলাদেশ বৃহৎ দুই উদ্ধাকারী জাহাজ রহস্যজনক কারণে লঞ্চটিকে টেনে তুলতে ব্যর্থ হয়ে ছয়দিন পর লঞ্চটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে চলে যায়। অবশেষে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম-হামজা ব্যর্থ হলেও আড়ই বছর পর তেঁতুলিয়া নদীর পানির নিচ থেকে তীরে ওঠে এমভি কোকো-৪। লঞ্চটি মাটির নিচে নয় ফুট ও পানির ২১ ফুট নিচে ছিল। কোকো লঞ্চ কর্তৃপক্ষ মোসার্স রহমান শিপার্স বাংলাদেশ লিমিটেড এর নিজস্ব চেষ্টায় ২০১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর লঞ্চটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

জানা গেছে, ঈদে ঘরমুখী প্রায় দুই হাজারেরও বেশি যাত্রী নিয়ে এ লঞ্চটি নাজিরপুর ঘাটে এসে ডুবে যায়। এসময় অনেকেই সাঁতরিয়ে তীরে উঠতে পারলেও মারা যান ৮৩জন। যাদের মধ্যে বেশির ভাগ যাত্রীই ছিল নারী ও শিশু। নিহতদের মধ্যে লালমোহন, চরফ্যাসন ও দৌলতখানের যাত্রী ছিল বেশি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর থেকে যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে উদ্ধার কাজ অনেক ধীরগতিতে চলে। এর ফলে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বা রুস্তম দিয়ে লঞ্চটির উদ্ধার কাজ সম্পন্ন হয়নি। শেষ পর্যান্ত উদ্ধার কাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। সঠিক সময়ে উদ্ধার কাজ শুরু হলে অনেক যাত্রীকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো বলে তারা মনে করেন।

সর্বশেষ কোকো-৪ এর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কিন্তু ৮ বছরেও এর কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে দায়ী কি পার পেয়ে যাচ্ছে এমন প্রশ্ন লালমোহনের চর ছকিনা গ্রামের স্বজনহারা মানুষের। দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা ও অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন লালমোহন পৌরসভার মেয়র এমদাদুল ইসলাম তুহিন।

এছাড়াও লঞ্চ মালিক পক্ষ হতে নিহতদের পরিবারের প্রতি পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা ও নিরাপদ নৌপথসহ সকল যাতায়াত নিরাপদ করার দাবি জানান তিনি। কোকো ট্র্যাজেডিতে লালমোহনের বিভিন্ন সংগঠন বিশেষ দোয়া ও স্মরণসভার আয়োজন করেছে বলেও জানান তিনি।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি