পাকিস্তানে অবস্থান ধর্মঘট প্রত্যাহার, ফের চালু স্যোস্যাল মিডিয়া

৯:০৮ অপরাহ্ন | সোমবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৭ Breaking News, আন্তর্জাতিক, স্পট লাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিক্ষোভের মুখে পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদ পদত্যাগ করার পর অবস্থান ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন আন্দোলনকারীরা। ধর্ম সংক্রান্ত একটি বিলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ অবস্থান ধর্মঘট এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পদত্যাগী মন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে পিটিভি জানায়, ‘দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আমি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তবে প্রধানমন্ত্রী শহিদ খাকান আব্বাসী আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেছেন কিনা তা জানা যায়নি।

এদিকে তার পদত্যাগের পর তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই অবস্থান ধর্মঘটের অবসান টানতে সরকার ও বিক্ষোভকারীরা একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

জিও টিভি জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা হওয়ার বিক্ষোভ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ওই ধর্মঘটের কারণে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও এর পাশের নগরী রাওয়ালপিন্ডিতে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৬ জন নিহত ও দুই শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পাকিস্তান সরকার গত মাসে একটি ধর্ম বিষয়ক বিল পাস করে। এর পরপরই ধর্মীয় সংগঠনগুলো আইনটির তীব্র বিরোধীতা করে আন্দোলন শুরু করে। সরকার পরে আইনটি প্রত্যাহার করে নিলেও আন্দোলনকারীরা আইনমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল

উল্লেখ্য, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার (ব্লাসফেমি) অভিযোগে বিক্ষোভ করে আসছে লস্কর-ই-লাব্বাইকের সদস্যরা। লাহোর, করাচিসহ বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। শনি ও রবিবার বিক্ষোভ চূড়ান্ত রূপ নেয়।

বন্ধের পর ফের চালু ফেইসবুক, টুইটার

এদিকে শনিবার আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে পুলিশ আর আধাসামরিক বাহিনীর এক অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব আর ডেইলিমোশন-এর মতো সামাজিক মাধ্যম ও ভিডিও শেয়ারিং সাইটগুলো বন্ধের আদেশ দেয় পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ।

ফায়জাবাদ আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে দেশটির সরকার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সামাজিক মাধ্যমগুলো বন্ধ করে রাখে। পরে রবিবার এই সাইটগুলো আবারো খুলে দেয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে পাকিস্তানি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এ।

শনিবার পাকিস্তানে দেশটির সরকার টুইটারের সেবা বন্ধ করে দিয়েছে- নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকে এক টুইটে এ তথ্য প্রকাশ করে মাইক্রোব্লগিং সাইটটি।

টুইটারের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা জানতে পেরেছি পাকিস্তানি সরকার টুইটার ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে সেবা বন্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। আর এ কারণে ব্যবহারকারীরা পাকিস্তানে টুইটার ব্যবহারে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। আমরা পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি আর এই সেবা শীঘ্রই আবারো ফিরিয়ে আনা হবে বলে আশা করছি।’

ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক মার্কিন প্রকাশনা বিজনেস ইনসাইডার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন পাকিস্তান এই পদক্ষেপ নিল তা স্পষ্ট নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পাকিস্তানি দৈনিকটির সূত্রমতে, পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটি (পিটিএ)-এর একজন মুখপাত্র বলেন, ওয়েবসাইটগুলো খুলে দিতে নির্দেশনা পাওয়া গেছে।

এ দিকে পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি (পারমা) দেশটিতে সব বেসরকারি সংবাদ চ্যানেলও বন্ধ করে দিয়েছে বলে দৈনিকটির প্রতিবেদনে জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান সরাসরি সম্প্রচার করে সংবাদ চ্যানেলগুলো সংবাদমাধ্যম নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। রবিবার থেকে টিভি চ্যানেলগুলোকে আবার তাদের সম্প্রচার শুরু করতে দেয়া হয়েছে।