সংবাদ শিরোনাম

রোহিঙ্গা শিশু অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় নারীসহ দু’জন গ্রেপ্তারবেলকুচিতে দূর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান !জামালপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ, গ্রেফতার মাদ্রাসার শিক্ষক‘করোনাকালের নারী নেতৃত্ব: গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’বগুড়ায় শিক্ষা প্রনোদনা পেতে প্রত্যয়নের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগজামালপুরে ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবনপাবনায় অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার-২উপজেলা আ.লীগের সভাপতিকে ‘পেটালেন’ কাদের মির্জা!কে কত বড় নেতা, সবাইকে আমি চিনি: কাদের মির্জাঅনুদান দেওয়া হবে, তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নয়: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

  • আজ ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলায় খালাস পেলেন আ.লীগ নেতা তোরাব আলী!

৯:২৫ অপরাহ্ন | সোমবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৭ Breaking News, আন্তর্জাতিক, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর: বহুল আলোচিত বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

এ ছাড়া যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে ১৮৫ জনকে, আর ১৯৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং খালাস পেয়েছেন ৪৯ জন। যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়নি, তাদের মধ্যে চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার আপিলের রায়ে খালাস পাওয়া ভাগ্যবানদের একজন হলেন সাবেক ৪৮ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা তোরাব আলী।

আলোচিত ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় জওয়ানদের বাইরে অভিযোগের তীর যায় দু’জন রাজনীতিবিদের দিকে। এর মধ্যে বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু পরিচিত হলেও একেবারে অখ্যাত ছিলেন সাবেক ৪৮ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি তোরাব আলী।

আলোচিত বিডিআর হত্যাকান্ডের ঘটনায় ২০০৯ সালের ১ জুন তোরাব আলী ও পিন্টুকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালতের রায়ে দু’জনই যাবজ্জীবন সাজা পান। পরে দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন পিন্টু। তবে সোমবার আপিলের রায়ে খালাস পেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলী।

কে এই তোরাব আলী?

আলোচিত পিলখানা হত্যাযজ্ঞের আগে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক ৪৮ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি বিডিআরে কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসর নেওয়ার পর সক্রিয় হন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিদ্রোহীদের সমর্থনে মিছিল বের করেছিলেন তোরাব আলী। এসময় তার ছেলে লেদার লিটনসহ স্থানীয়রাও ওই মিছিলে অংশ নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পিলখানার বাইরের সেই মিছিল ও সমাবেশ বন্ধ করে দেয়।

এরপর সাবেক ৪৮ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি তোরাব আলী ও তার ছেলে লেদার লিটনকে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

এরপর ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালতের রায়ে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে ৩০২ ধারায় তোরাব আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয় বিচারিক আদালত।

পিলখানার ঘটনায় তোরাব আলীর বিরুদ্ধে বিডিআরের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে সুপরিকল্পিত এ বিদ্রোহের কথা তিনি আগেই জানতে পারেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনা জেনেও তা কর্তৃপক্ষকে না জানানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আখতারুজ্জামান বিচারিক আদালতে তাকে দণ্ড দিয়েছিলেন।

পরে ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ (বৃহত্তর) বেঞ্চে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল ৩৭০ কার্যদিবসে সেই শুনানি শেষ হয়। সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের অসমাপ্ত রায় পড়া শুরু করেন এবং বিকালে রায় প্রদান করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। আর এর আপিলের রায়েই সোমবার খালাস পেলেন সাবেক ৪৮ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি বহুল আলোচিত তোরাব আলী।