• আজ ২০শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আসছে নতুন ৩ ব্যাংক, কমছে বীমা খাতের নবায়ন ফি

১০:১৮ অপরাহ্ন | সোমবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৭ Breaking News, অর্থনীতি, জাতীয়, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর: বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি থাকার পরও নতুন করে আবারও ব্যাংক অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সোমবার ঢাকা ক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আরও তিনটি নতুন ব্যাংক দেওয়া হচ্ছে। একই অনুষ্ঠানে বীমা কোম্পানির নবায়ন ফি কমানোর আশ্বাস দেন তিনি।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্রফেশনাল ডেভলপমেন্ট যৌথভাবে ‘প্রটেক্টটিং দ্য পুওর :ইমার্জি মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স মার্কেট ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক আঞ্চলিক সেমিনারের আয়োজন করে। অর্থমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন।

এত ব্যাংক থাকার পরও নতুন ব্যাংক দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কেন- অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তাতে কোনো সমস্যা হবে না। যেসব ব্যাংক টিকতে পারবে না, তারা একীভূত হতে পারবে। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত দেউলিয়া আইন করা হয়েছে।’

জানা যায়, প্রস্তাবিত নতুন ব্যাংকগুলো হচ্ছে : পিপলস ইসলামী ব্যাংক। এই ব্যাংকের নেতৃত্বে আছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এম এ কাশেম। বেঙ্গল ব্যাংক নামে আওয়ামী লীগের সাংসদ মোর্শেদ আলমকে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া পুলিশ বাহিনীর জন্য আলাদা পুলিশ ব্যাংক হচ্ছে। বর্তমানে দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা ৫৮টি। অর্থনীতিবিদসহ বিশিষ্ট ব্যাংকাররা বাংলাদেশের অর্থনীতির বাস্তবতায় এতগুলো ব্যাংক দেওয়ার সমালোচনা করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে নতুন প্রজন্মের নয়টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হলেও বেশির ভাগেরই অবস্থা ভালো নয়। এসব ব্যাংক ঋণ বিতরণসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ফারমার্স, এনআরবি কমার্শিয়াল ও এনআরবি গ্লোবালসহ তেরটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নাজুক। এমন পরিস্থিতিতে আরও তিনটি ব্যাংক দেওয়ার কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী।

বীমা খাতের নবায়ন ফি কমছে

বর্তমানে বীমা কোম্পানিগুলোকে (জীবনও সাধারণ) প্রতিবছর নবায়ণ ফি দিতে হয়। এক হাজার টাকা প্রিমিয়াম আয়ের বিপরীতে ৩ টাকা ৫০ পয়সা করে এই ফি নেওয়া হয়। বীমা কোম্পানির মালিকরা বলেছেন, বছর বছর নবায়ন ফি দেওয়ার ফলে তাদের খরচ বাড়ছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। তাদের যুক্তি হচ্ছে- ব্যাংকগুলোকে কোনো নবায়ন ফি দিতে হয় না। কাজেই বীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে এই ফি আদায় করা অযৌক্তিক।

সোমবার বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় নবায়ন ফি প্রত্যারের দাবি জানান। জবাবে অর্থমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ফি কমানোর দাবি যৌক্তিক। তিনি বিষয়টি দেখবেন। তবে কত কমানো হবে সে বিষয়টি বলেননি। বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআর-এর চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী জানান, ফি কমানোর প্রস্তাব সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগের সিনিয়র সচিব ইউনুসুর রহমান, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি অধ্যাপক রুবিনা হামিদ, অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য এ কে এম মুর্তজা আলী, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব পি ভেনুগোপাল প্রমুখ।