সঙ্কটের মুখে ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর

১১:৩২ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৭ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর- ঋণ কেলেঙ্কারি ও অব্যবস্থাপনায় সৃষ্ট সঙ্কটের মধ্যেই চাপের মুখে ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীরের পাশাপাশি অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীও পদত্যাগ করেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়।

বেসরকারি এই ব্যাংকটির এমডিকে অপসারণের নোটিস দেওয়ার পর সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যানের পদত্যাগের খবর জানানো হয়।

সোমবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফারমার্স ব্যাংকে বেশ কিছুদিন ধরে তারল্য ঘাটতি বিরাজ করায় এবং আর্থিক সূচকসমূহের অবনতি ঘটায় জনগণের মধ্যে দ্বিধা/সংকোচ তৈরি হয়। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বেশ কিছু আমানতকারী ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করার ফলে ব্যাংকটির সমস্যা ঘনীভূত হচ্ছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসার পর প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রকমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের পদত্যাগপত্র পর্ষদ কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। সব কমিটি পুনর্গঠিত হয়েছে। ব্যাংকটির এমডির বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘনের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পুনর্গঠিত পর্ষদ ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা উন্নয়নে সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করেছে।’

এরআগে সংকটে থাকা ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম শামীমকে অপসারণে নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ফারমার্স ব্যাংকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী দেওয়া ওই চিঠিতে সাত দিনের মধ্যে এমডিকে কেন অপসারণ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

অর্থ সংকটের কারণে সম্প্রতি অনেক গ্রাহকের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে ফারমার্স ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে গত ২১ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০২ কোটি টাকার সরকারি বন্ড জামানত রেখে ৯৬ কোটি টাকা স্বল্পমেয়াদে ধার নেয় ব্যাংকটি।

অর্থ সংকটের কারণে এর আগে গত ৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ইইএফ ও গৃহায়ন তহবিল থেকে তিনশ’ কোটি টাকার আমানত চেয়ে গভর্নর বরাবর একটি চিঠি দেন ফারমার্স ব্যাংকের এমডি। তবে তাতে সাড়া মেলেনি। গত ২৯ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ফারমার্স ব্যাংকের অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

রবি