বাউফলে মেয়েদের স্কুলে ছেলেদের ভর্তি হতে মাইকিং!

◷ ৭:১২ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৭ দেশের খবর

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি:
সরকারী নীতিমালা উপক্ষো করে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে ছেলেদের ভর্তি হওয়ার জন্য মাইকিং করানো হয়েছে। গত সোমবার থেকে উপজেলার কালাইয়া বন্দর ও তার আশে পাশের এলাকায় এই মাইকিং করানো হয়। হটাৎ তরে ’মেয়েদের বিদ্যালয়ে ছেলেদের ভর্তি’ এ ধরনের ঘোষনায় স্থানীয় অভিবাবক বিশ্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, মেয়েদের বিদ্যালয়ে ছেলেদের ভর্তি হওয়ার কোন বিধান নাই।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫৪ সালে স্থাপিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীর সংখ্যা সারে তিনশত। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টাকালীন সময় থেকে এখন পর্যন্ত মাধ্যমিক পর্যায়ে কোন ছেলে ভর্তি করানো হয়নি।

বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ এবিএম রেজা জানিয়েছেন, পাশর্^বর্তী কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তি করে সহশিক্ষা পাঠদান করছে। এ কারনে কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আশানুরুপ ছাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এর জন্য ম্যানেজিং কমিটির সভায় ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে ছেলেদের ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুমতির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হারুনূর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠমো বর্তমানে পর্যাপ্ত রয়েছে। তাই ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে ছেলেদের ভর্তি হওয়ার মাইকে ঘোষনা করা হয়। মেয়েদের বিদ্যালয়ে ছেলেদের ভর্তি করলে বিদ্যালয়ের পরিবেশগত কোন সমস্যা হবে কিনা জানাতে চাইলে প্রধান শিক্ষক কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উদাহরন দেন। তবে অনুমতি না নিয়েই কেন মাইকে ভর্তির বিজ্ঞতি প্রকাশ করলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদুউত্তর দিতে পারেন নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়টির কিছু অতি উৎসাহি শিক্ষক অন্য একটি বিদ্যালয়ের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষকগন প্রাইভেট পড়ানোয় ব্যাস্ত থাকেন, তারা বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে পাঠদানে অমনোযোগী। এ কারনেই ক্রমশই বালিকা বিদ্যালয়টির পড়াশুনার মান প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় অন্য বিদ্যালয়ে ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহামুদ জামান বলেন, বিদ্যালয়টিন পক্ষ থেকে ছেলেদের ভর্তির জন্য লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। সরকারিভাবে এ ধরনের কোন বিধিবিধান নেই বলে আমি তাদেরকে না বলে দিয়েছি। এরপরেও মাইকিং করানোটা ঠিক হয়নি।
এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, এবিষয়ে আমি এখন পর্যন্ত কিছুই জানিনা।