সম্মানজনক রান পাওয়াটা এখন খুলনার জন্য বড় কষ্টের!

৭:০১ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৭ খেলা, স্পট লাইট

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক: নতুন বল হাতে পেয়িছেলেন। তবে শোয়েব মালিকের আগে খুলনা টাইটান্সের ইনিংসে ম্যাচের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন মেহেদী হাসান। পরের ওভারেই পাকিস্তানি স্পিনার শোয়েব মালিক। এবং প্রথম বলেই। আর যায় কোথায়! ৮ রানে দুই উইকেট হারানো খুলনাকে রীতিমতো চেপে ধরলো জয়ে ফিরতে মরিয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সরা। ৩ ওভারে ১৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের টপ অর্ডার ভেঙে দেওয়ার কাজটা করলেন শোয়েব মালিক। তার সাথে হাত লাগালেন দুই পেসার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও আল-আমিন হোসেন। ২৯ রানে ৪ উইকেট হারানো খুলনার ৬ উইকেট নেই ৬১। এই প্রতিবেদন লেখার সময় লড়ছে তারা। ১২.১ ওভারে ৭ উইকেটেই ৭৪ রান তাদের। আরিফুল হক (২৩) একপ্রান্ত ধরে রেখেছেন। সম্মানজনক রান পাওয়াটা বড় কষ্টের এখন খুলনার জন্য।

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল মাহমুদউল্লাহর খুলনা। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তিনি টস জিতে একটু চমক জাগানো সিদ্ধান্তই নিলেন। সেই সিদ্ধান্ত এখন অবশ্যই বুমেরাং হিসেবে প্রমাণিত। কারণ, ব্যাটসম্যানরা কুমিল্লার বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। এখন লড়াই মূলত শীর্ষ চারের জায়গা নিশ্চিত করার। দিনের প্রথম ম্যাচে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল ৪ উইকেটে সিলেট সিক্সার্সকে হারিয়ে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে প্লে অফের দিকে। পয়েন্ট টেবিলে তারা চতুর্থ, ৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে। কুমিল্লা ৭ ম্যাচেই ১০ পয়েন্ট নিয়ে খেলতে নামছে অষ্টম ম্যাচটি। আর খুলনা গত রাতে আরো একটি অসাধারণ জয়ে ৯ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে প্লে অফের জায়গাটা প্রায় নিশ্চিত করেই বসে আছে। তবে চট্টগ্রামের ছেলে তামিমের সামনে চ্যালেঞ্জ দলকে জয়ে ফেরানো। সেই চ্যালেঞ্জের আধেক কাজটা বুঝি হয়েই গেলো ম্যাচের চার ভাগের এক ভাগ না যেতেই!

অল রাউন্ডার শোয়েব মালিক আসলে পথ দেখিয়েছেন কুমিল্লার বোলারদের। মেহেদী ম্যাচের চতুর্থ বলে শিকার করেছেন আগের ম্যাচেই দুর্দান্ত ব্যাট করা তরুণ নাজমুল হোসেন শান্তকে (৮)। অন্য ওপেনার রাইলি রুশোকে খালিহাতে ফিরিয়ে দিয়েই থামেননি শোয়েব মালিক, একের পর এক আঘাত হেনেছেন। গেল রাতের হাফ সেঞ্চুরিয়ান টিনএজার আফিফ হোসেন ধ্রুব (৮) এবার কিছুই করতে পারলেন না। ওই ম্যাচেই দুর্দান্ত ব্যাট চালিয়ে ম্যাচ জেতানো নিকোলাস পুরান এবার ০ রানে ফেরেন শোয়েব মালিকের শিকার হয়ে।

তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে থাকে দাপুটে খুলনা। একি! অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ১২ বলে ১৪ করে আউট আগের ম্যাচে এক ওভারে ৩২ রান দিয়ে হতভাগা বোলারে পরিণত যুবা জাতীয় পেসার সাইফ উদ্দিনের। এমন উইকেট তার মনোবল ফেরাবে নিশ্চিত ভাবেই। মাঝে ২১ রানের মধ্যে আর উইকেট পড়েনি। আশা ছিল খুলনার ইনিংস মেরামত করে লড়ার পুঁজি গড়ার। আরিফুল হক (২৪) এক প্রান্ত ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু অন্যপ্রান্ত থেকে ১৩ রানের মধ্যে শেষ দুই বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান কার্লোস ব্র্যাথওয়েট (১৩) ও জফরা আর্চারকে তুলে নিলেন আল-আমিন হোসেন। টেল এন্ডাররা আর কি করতে পারেন?