সাগড় পাড়ের অনাগ্রসর শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল মডেল পাঠশালা

৮:৩২ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৭ দেশের খবর, শিক্ষাঙ্গন

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
সুশৃঙ্খভাবে লাইনে দাড়িয়ে ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্সে আঙুলের ছাপ দিয়ে শ্রেণী কক্ষে প্রবেশ করছে শিক্ষার্থীরা। কোন শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে পৌঁছে যাচ্ছে এসএমএস বার্তা। ১০টি সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে চলছে শ্রেনী কক্ষের পাঠদান, শিক্ষার্থীদের গতিবিধি। ক্লাসে পাঠদান চলছে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে।

কেন্দ্রীয় সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষিকা নজরদারি করছেন শ্রেণী কক্ষের পাঠদান। দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা। অনলাইনের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে পরীক্ষার ফলাফল। এই প্রথম বিজ্ঞানের প্রযুক্তির এমন ব্যবহারে চলছে পটুয়াখালীর সাগর পাড়ের লতাচাপলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল কর্মকান্ড। আধুনিক পাঠদান ও ২৭টি উদ্ভাবনী শিক্ষা পদ্ধতি বিদ্যালয়টিকে করে তুলেছে অনন্য। এরই মধ্যে ডিজিটাল মডেল স্কুল হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠেছে সবার কাছে।

বিদ্যালয়ে প্রবেশের সাথে সাথেই চোখে পড়ে শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে মুখরিত প্রাঙ্গন। আনন্দে উচ্ছসিত শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত দোলনা, সৃস্টিসহ নানা খেলার উপকরন নিয়ে। নজর কেড়ে নেয় দেয়ালের রংতুলির বর্নিল নির্বাক চিত্র। দেয়াল জুড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে সকল ইতিহাসসহ বর্তমান বাংলাদেশের উন্নয়নের নানা চিত্র এবং বিবরন। দেশ-বিদেশের বিখ্যাত মনীষীদের প্রতিকৃতি, জীবনী, উক্তি।

কম্পিউটার ল্যাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ল্যাপটপ চালিয়ে জানার চেষ্টা করছে বিশ্বকে। রয়েছে ভৌগলিক কর্নার, প্রযুক্তি কর্নার, গ্রন্থাগার, স্পোর্টস কর্নার, বিজ্ঞানাগার, সততা স্টোর, গনিত ল্যাব, সততা কুটির, মহানুভবতার জ্ঞানসহ ফুল, ফল, সবজির বাগান। রয়েছে অবিভাবকদের বিনোদন কক্ষসহ পাঠাগার। শতভাগ পাসের হারসহ ক্রীড়া-সংস্কৃতি প্রতিযোগিতায় জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রয়েছে ধারাবাহিক সাফল্য। ইতোমধ্যে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে বাংলাদেশে চতুর্থ লাভ করেছে বিদ্যালয়টি।

শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবহারসহ স্বাস্থ্য সম্মত শৌচাগার। পাঠদানের ফাকে দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য সচেতনার নানা জ্ঞান। শিশু শ্রেনীতে পাঠদানের চেয়ে শিশুদের রাখা হয় খেলায় মশগুল। এর মধ্যেই চলে বর্নমালা, গননা ও ছড়া-কবিতা শেখানো। সকল ধর্মের বানী পাঠ, জাতীয় সংগীত গাওয়া ছাড়াও নিজেকে একজন সুস্থ ধারার নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য প্রতিদিন শপথ নেয় শিক্ষার্থীরা। শাররী চর্চা শেষে শ্রেনী কক্ষে ফিরে যায় রন সংগীতের তালে। পাঠদানে উৎসাহিত করতে রয়েছে খেলাধুলা ও সংগীতের নানা উপকরণ। শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির নিজস্ব অর্থায়নে রয়েছে স্কুল ব্যাগসহ বছরে দুই সেট নতুন ইউনিফর্ম দেয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বাবু অনন্ত মুর্খাজী বলেন, সাগর পাড়ের অনাগ্রসর জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য ১৯৩৬সালে রাখাইন বাচিন তালুকদার প্রতিষ্ঠা করেন এ বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা যোগদান করার পর দিয়েছেন বিদ্যালয়ের এক ভিন্ন রূপ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজমুস সাকিব খান কনা বলেন, একসময়ের এ অপরিপাটি বিদ্যালয়টিকে প্রথমে মডেল বিদ্যালয় উন্নীত করি। এখন রূপ দেয়া হয়েছে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার আলোয়। সম্পূর্ন ডিজিটাল পব্দতিতে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান। এরফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। পাশের হার হয়েছে শতভাগ। গ্রামীন জনপদের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে আধুনিক বিজ্ঞানের জ্ঞান। যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনের পথা চলাকে সহজ করে দেবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে ইয়াসমিন করিমী বলেন, জেলার প্রথম মডেল বিদ্যালয় লতাচাপলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আদলে পর্যায়ক্রমে সকল বিদ্যালয়কে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।