দুর্নীতির কারণেই মখা আলমগীরের পদত্যাগ: ফখরুল

৫:৪৫ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৭ Breaking News, জাতীয়, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর: দুর্নীতিতে ধরা খেয়ে ফারমার্স ব্যাংক থেকে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

পত্রিকার কপি তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘আজকে পত্রিকায় অনেকগুলো খবর আছে। ফারমার্স ব্যাংক থেকে প্রবল প্রতাপশালী মহীউদ্দীন খান আলমগীর পদত্যাগ করেছেন। আমরা এমন কেউ নেই যে তার নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। ১৫৪ জনকে বিনা কারণে কার্যালয় থেকে ধরে নিয়ে গেল। রানা প্লাজা ধসে পড়ল বলল বিএনপি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। তার কথাবার্তা শুনলে মনে হয় তার মতো সৎ, জ্ঞানী-গুণী ও দেশপ্রেমিক মানুষ নেই। আজকে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, পদত্যাগ করো না হলে তোমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। কারণ দুর্নীতি, অনিয়ম, চরম স্বেচ্ছাচারিতা।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাপগার বিশেষ কাউন্সিলে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারি দলের নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, ‘এটা তো শুধু মহীউদ্দীন খানের কথা বের হয়েছে। অন্যান্যদেরটা প্রকাশ হচ্ছে না। কিন্তু আমরা জানি, জনগণ জানে। শ্বেতপত্রে প্রকাশের চেয়ে হৃদয়ে যদি আটকা থাকলে সময়মতো ঠিকই বের হয়ে আসবে।’

এসময় তিনি মিথ্যা অভিযোগে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা চলছে বলেও দাবি করেন। ফখরুল বলেন, ‘বলা হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ থেকে এতিমখানার নামে আসা টাকা নিয়ে দুর্নীতি করেছেন। অথচ ব্যাংকে সেই টাকা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি নাকি ফেসবুকে কী পোস্ট দিয়েছেন তাতে মানহানি হয়েছে। মন্ত্রী শাজাহান খানের আত্মীয় মামলা করলেন। এখন আবার ৫৭ ধারায় নাকি মামলা হয়েছে। অথচ সাংবাদিকরাসহ আমরা এই কালা কানুনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি।’

ফখরুল বলেন, ‘আসিফ নজরুল হলেন একজন ভোকাল, টিভিতে সরকারের অন্যায়, অত্যাচার নিয়ে কথা বলেন। সে কারণেই তার বিরুদ্ধে মামলা। আর শুরুতেই তিনি বলেছেন, এই পোস্ট তার দেয়া না। আর যদি দিয়েও থাকেন তাহলে মামলা হবে এটা কেন। আপনারা (সরকার) মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছেন।’

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘দয়া করে সংকটকে এড়িয়ে যাবেন না। তাহলে সংকট আরও বাড়বে। আপনারা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে আসতে হবে। কোন সংসদ এই সংবিধান সংশোধন করেছে যার ১৫৪ জন এমপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। আপনাদের (সরকার) দাম্ভিকতা পরিহার করে শুভপথে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের চেয়ারপারসন আহ্বান জানিয়েছেন, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।’

জাপগার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা রেহানা প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ, জাপগা নেতা খন্দকার লুৎফর রহমান, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে ব্যারিস্টার তাহমিয়া প্রধান প্রমুখ বক্তব্য দেন।