সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে হামলার একযুগ

১:২১ অপরাহ্ন | বুধবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৭ ঢাকা, দেশের খবর

পলাশ মল্লিক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট- আজ ২৯ নভেম্বর, আজ থেকে একযুগ আগে ২০০৫ সালের এইদিনটিতে গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ২নং হলরুমে জেএমবির আত্মঘাতি বোমা হামলায় ৪ আইনজীবী ও ৪ বিচারপ্রার্থীসহ হামলাকারী জঙ্গি নিহত হয়।

অন্যান্য দিনের মতোই আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীরা সেদিন উপস্থিত হয়েছিলেন কোর্ট প্রাঙ্গনের ২নং হলরুমটিতে।সবাই ব্যস্ত ছিলেন দিনের কার্যক্রম শুরু করার জন্য। কিন্তু কেউ কি বুঝতে পেরেছিল কিছুক্ষন পরেই কি ঘটতে যাচ্ছে এ হলরুমটিতে? কেউ কি বুঝতে পেরেছিলেন তাদের চিরচেনা কয়েকজন মানুষকে হারাতে হবে চিরতরে? সেদিনের ঘটে যাওয়া সে ঘটনাটি আজও কাঁদায় পেশাগত দায়িত্বপালন করা গাজীপুরের আইনজীবী সমিতির সদস্যদের।

সেদিনের সে ঘটনা সর্ম্পকে গাজীপুর জেলার সিনিয়র আইনজীবী আসাদুল্লাহ বাদল সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ঘটনার সময় তিনি ছিলেন হলরুমটির ২য় তলাতে। বিকট শব্দে যখন ভবনটি কেঁপে উঠে তখন তিনি দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় সিঁড়ির মুখে পড়ে থাকতে দেখেন আইনজীবী রমিজউদ্দিনকে। তাকে উদ্ধার করে ভিতরে প্রবেশ করে যে পরিবেশটি তিনি দেখেছিলেন, তা তিনি আজও ভুলতে পারেননি। বাদল বলেন, ভিতরে কয়েকটি মানুষ পোড়া মুরগীর মতো ঝলসে গিয়েছিল। অনেকেই আহত হয়ে পড়েছিলেন মেঝেতে।

আসাদুল্লাহ বাদল বলেন, যে রমিজ উদ্দিনকে তিনি সিঁড়ি মুখে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি ছিলেন হলরুমের ভিতরে। বোমার আঘাতে তিনি বাইরে ছিটকে পড়ে গিয়েছিলেন। আর ভিতরের চেয়ার, টেবিল, ফ্যান ও অন্যান্য আসবাবপত্র গুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। চোখে না দেখলে বিশ্বাস করানো যাবেনা কি ভয়াবহ হামলা সেদিন চালানো হয়েছিল গাজীপুর আইনজীবী সমিতির হলরুমটিতে।

আসাদুল্লাহ বাদল দাবি করে বলেন, বর্তমানে একটি রায় হয়েছে। তাতে কয়েকজনের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। রায়টি দ্রুত কার্যকর করা হোক এবং বিচারাধীন মামলা গুলোকে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক। সেই সাথে আদালত প্রাঙ্গণের নিরপত্তা ব্যবস্থা আরো জোড়দার করার আহ্ববান জানান তিনি।

সেদিনের সে নৃশংস এ বোমা হামলায় নিহত আইনজীবীরা হলেন- আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আমজাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আজিম, অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা, অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক অভি ও অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন মাখন। এছাড়া নিহত বিচার প্রার্থীরা হলেন- আব্দুর রউফ, বশির মেম্বার, শামসুল হক ও মর্জিনা বেগম। হামলায় আহত হন অর্ধশতাধিক আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী। আত্মঘাতি জঙ্গির নাম শরিয়ত উল্লাহ ওরফে আসাদুল ইসলাম।

গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনজুর মোর্শেদ প্রিন্স জানান, জেএমবির বোমা হামলার ১২তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরের মত এবারও সমিতির উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো ব্যাজধারণ ও কালো পতাকা উত্তোলন, নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোক র্যালি, শোকসভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

নিহত ও আহতের ঘটনায় পুলিশ প্রথমে অজ্ঞাত জেএমবি সদস্যদের নামে তিনটি মামলা করে। পরে গাজীপুরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা জেএমবির সদস্যদের গ্রেনেড, গ্রেনেড তৈরির উপকরণ, জিহাদি বই ইত্যাদি উদ্ধার করে সর্বমোট ২১টি মামলা দায়ের করে।

২০০৫ সালের এ হামলায় নিহতের পরিবারদের কোন সরকারী সহয়তা না দেয়ায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি