‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ না করলেও কূটনৈতিক কায়দায় শক্তিশালী বক্তব্য দিয়েছেন পোপ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠনগুলো পোপ ফ্রান্সিসকে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু ক্যাথলিক গির্জার সতর্ক আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি পোপ ফ্রান্সিস। রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারন না করলেও কূটনৈতিক কায়দায় শক্তিশালী এক বক্তব্যে তিনি সব নৃগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান ও সমাজে সবার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

গতকাল সন্ধায় মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ দেশটির সরকার, নাগরিক সমাজ ও কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হতে হবে। এ শান্তির ভিত্তি হতে হবে সমাজের প্রতিটি সদস্যের সম্মান ও অধিকার, প্রতিটি নৃগোষ্ঠী ও তার পরিচয়কে সম্মান দেখানো, আইনের শাসন এবং এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন যেখানে সবার মঙ্গলের জন্য প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রত্যেক গোষ্ঠীর বৈধভাবে ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকে এবং কেউ বাদ না পড়ে।

পোপের বক্তব্য পেদান কালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি।

পোপ তার বক্তব্যে বলেন, মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার জনগণ। অভ্যন্তরীণ বিবাদ ও বৈরিতার কারণে তারা অতীতে অনেক দুর্ভোগ সহ্য করেছে, এখনো করছে। অভ্যন্তরীণ বিবাদ ও বৈরিতা মিয়ানমারে অনেক বেশি সময় ধরে চলছে এবং সমাজে বড় বিভাজন সৃষ্টি করেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্র (মিয়ানমার) এখন শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। আর এ সময় সেই ক্ষতগুলো নিরাময় করা অবশ্যই রাজনৈতিক ও আত্মিক অগ্রাধিকার হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘ধর্মীয় পার্থক্য বিভাজন ও অবিশ্বাসের কারণ হওয়া উচিত নয়। বরং তা হওয়া উচিত ঐক্য, ক্ষমা, সহনশীলতা ও বুদ্ধিমান জাতি গঠনের শক্তি। ’

মিয়ানমারে জাতিগত পুনর্মিলন ও সবার অন্তর্ভুক্তির মহান দায়িত্ব প্রসঙ্গে পোপ বলেন, ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলো এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। ধর্মগুলোই পারে সংঘাতের কারণে সৃষ্ট আবেগপূর্ণ, আত্মিক ও মানসিক ক্ষত সারাতে এবং সংঘাতের কারণগুলো নিরসন করে সংলাপের জন্য সেতুবন্ধ রচনা এবং দুর্ভোগের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের জন্য ভবিষ্যদ্বাণী দিতে।

মিয়ানমারের বিভিন্ন ধর্মীয় রীতির নেতারা পারস্পরিক সম্মান ও সম্প্রীতির চেতনায় শান্তির জন্য, দরিদ্রদের সহায়তায় এবং প্রকৃত ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধে শিক্ষিত করতে ভূমিকা রাখছেন বলে উল্লেখ করেন পোপ। তিনি একে ‘আশার আলো’ হিসেবে অভিহিত করেন।

পোপ ফ্রান্সিস তার দেয়া ভাষণে রোহিঙ্গাদের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও তিনি বলেন, মিয়ানমারের প্রত্যেক নৃগোষ্ঠী ও তাদের পরিচয়ের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। আইনের প্রতি সম্মান এবং সর্বপরি গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান। যেগুলো মিয়ানমারে শান্তি নিয়ে আসবে।

পোপ গতকাল সকালে ইয়াঙ্গুনের বিশপ হাউসে বৌদ্ধ, মুসলমান, হিন্দু, ইহুদি, ক্যাথলিক ও অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঐক্যের ডাক দেন। পরে নেপিডোতে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করে আবার সন্ধ্যায় ইয়াঙ্গুনে ফেরেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী পোপ আজ বুধবার ইয়াঙ্গুনে প্রার্থনায় অংশ নেওয়া ছাড়াও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সুপ্রিম কাউন্সিল এবং বিশপদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি আগামীকাল তরুণদের প্রার্থনায় যোগ দেবেন। এরপর দুপুরে ইয়াঙ্গুন থেকে রওনা হয়ে বিকেল ৩টায় পোপের বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

◷ ১২:১৮ অপরাহ্ন ৷ বুধবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৭ Breaking News, আন্তর্জাতিক, স্পট লাইট
নাসির-তামিমার বিয়ে নিয়ে মানববন্ধন!

⊡ শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২১

শিক্ষা নিয়ে ৬ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক দুপুরে

⊡ শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২১

ঢাকা বারে সভাপতি আ. লীগ, সম্পাদক বিএনপি

⊡ শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২১

দেশে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস

⊡ শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১