• আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরের উপকূল জুড়ে শিকার হচ্ছে জাটকা, পাচারে সক্রিয় শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র


জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি- বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকায় চলছে অবাধে জাটকা ইলিশ শিকার এবং বিক্রি। পটুয়াখালীর গ্রামীণ হাট-বাজার এবং শহরের অলিগলিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাটকা।

অভিযোগ রয়েছে জাটকা ব্যবসা পরিচালনায় কতিপয় প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপক’লীয় এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান, যাত্রীবাহী বাস ও নৌপথে প্রতিদিন পাচার হচ্ছে হাজার মণ জাটকা।

এ থেকে পিছিয়ে নেই সরকারি পরিবহন সার্ভিস বিআরটিসি বাসও। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে জাটকা শিকার, বিক্রি ও পরিবহনে ম্যানেজের নামে রয়েছে এ সিন্ডকেটের টাকা আদায়ের অভিযোগ। পরিবহন ও প্রশাসন ম্যানেজের নামে আড়ৎ প্রতি এ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আবার পরিবহন ও প্রশাসন ম্যানেজের নামে জেলেদের দেয়া হচ্ছে নামমাত্র মূল্য।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে যেতে জ্বালানী তেল, বরফসহ এক লক্ষ থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। ইলিশ না পেলেও অন্যান্য মাছে বাজার খরচ ওঠে না জেলেদের। ফলে খরচের বিষয়টি মাথায় রেখে অনেক ট্রলার মালিক ও জেলেরা আড়াই ইঞ্চি ফাসের জাল নিয়ে সমুদ্রে যায়। এছাড়া জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমের এসময় নদী, সমুদ্র মোহনা ও গভীর সমুদ্রে জাল ফেললে স্বাভাবিক ভাবেই জাটকা জেলেদের জালে ধরা পড়ে।

জাল থেকে খুলতে না খুলতেই মারা পড়ে এসব জাটকা। এরপর এসব জাটকা সংরক্ষণ করে তারা। কিন্তু তীরে এসে প্রশাসন ও পরিবহন ম্যানেজের নামে নামমাত্র মূল্য পায় জেলেরা। বড় মাছের সাথে ককসিড ভর্তি করে এসব জাটকা পাচার করা হচ্ছে। মধ্য রাত থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও লঞ্চে করে নির্বিঘ্নে পৌঁছে যাচ্ছে মোকামে। গন্তব্যে পৌঁছাতে পথে পথে চলে লেনদেন। পথিমধ্যে প্রতিটি থানা এলাকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পট পেমেন্ট কিংবা বিকাশে পৌঁছে যাচ্ছে টাকা।

জানা যায়, ১লা নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত, আট মাস। এরই মধ্যে ২৮ দিন অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ও জেলেদের কারনে ১০ইঞ্চির কম সাইজের জাটকা ধরা, পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ হচ্ছে না। বিভিন্ন গোপন সূত্রের প্রাপ্ত খবরে অভিযান চালিয়ে অনেক মাছ জব্দ করা হলেও কোন ভাবেই সফল হচ্ছেনা জাটকা বিরোধী অভিযান। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের তথ্য আগেই অভিযুক্তদের কাছে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম বিরোধী অভিযানে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকা থেকে ৫ মেট্রিক টন জাটকা জব্দ এবং এক জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে ইলিশ প্রজনন মৌসুমে জেলায় ৮ লক্ষ মিটার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, মা ইলিশ ধরার অপরাধে ২৯ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদানসহ বিপনন কার্যক্রমে জড়িত থাকার অপরাধে ৫০ জনকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং ১.৪ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

সীমিত লোকবল, প্রয়োজনীয় যাতায়াত মাধ্যম সমস্যার কথা তুলে ধরে কলাপাড়া সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, প্রজনন মৌসুমসহ জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমে মৎস্য বিভাগ সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আবু হাসানাত সাংবাদিকদের জানান, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম বিরোধী অভিযান চলছে। মৎস্য বিভাগ জাটকা শিকার, মজুদ, বিক্রয় ও পরিবহনের বিষয়ে সজাগ রয়েছে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি

◷ ৪:৪৯ অপরাহ্ন ৷ বুধবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৭ দেশের খবর, বরিশাল