মুন্সীগঞ্জে নোংরা-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল সামগ্রী দিয়ে তৈরি হচ্ছে বেকারী পণ্য

১২:৩৩ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৭ ঢাকা, দেশের খবর

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহ্মিদ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি- গ্রামের অলিগলি মহল্লার ছোট ছোট চায়ের দোকান থেকে শুরু করে প্রপ্রারের বড় রড় নামী-দামি বেকারীতে হরধুম বিক্রি হচ্ছে খোলামেলা বেকারী তৈরী বিস্কুট চানাচুর, পাউরুটি, কেক, সন্দেশ সহ নানা বাহারী মুখরোচক খোলা খাবার।

কখনো কি কেউ ভেবে দেখেছেন এই খাবারগুলো কোথায় থেকে তৈরী হয়ে আসছে-বা কোথায় তৈরী হচ্ছে? কি দিয়ে তেরী হচ্ছে এসব খাবার। খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রন ও যাচাই করার দায়িত্বে যারা আছেন তারা কি তাদের দায়িত্ব পালন করছেন? এক কথায় না।

সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ সদর সহ উপজেলার হাতিমারা মোড়,বালিগাও, টংগিবাড়ী ঘৌড়দৌর-মালির অংক,ও শ্রীনগড় বেজগাঁও, মাওয়া বাজার এলাকায় মিম বিস্কুট, নোয়াবআলি ব্রেড, সুরুচী ব্র্রেড এন্ড বেকারী, জিলানি বেকারী, সহ ৮/১০টি রুটি বিস্কুট ফ্যাক্টরী রয়েছে। এসব বেকারীগুলোতে তৈরী হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে নানান ধরনের খাবার।

নোংরা পরিবেশে ভেজাল ও নিম্ন উপকরন দিয়ে অবাধে তৈরী করা হচ্ছে বেকারী সামগ্রী। কারখানার ভেতরে যেখানে তৈরী খাবার রাখা আছে সেখানেই আটা, ময়দা সাড়ি সাড়ি করে রাখা। রয়েছে ক্ষতিকারক রাসায়নকি পর্দাথ, কেমিক্যাল এবং একাধিক ড্রামে পাম ওয়লেরে। আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা ধরনের তৈরী পণ্য। শ্রমিকরা খালি পায়ে এসব পণ্যরে পাশ দিয়ে হাঁটাহাটি করছে।

আটা ময়দা প্রক্রিয়াজাত করানো কড়াইগুলোও রয়েছে অপরিস্কার ও নোংরা। ডালডা দিয়ে তৈরী করা ক্রিম রাখা পাত্রগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি ভন ভন করছে। উৎপাদন ও মেয়াদউর্ত্তীর্ন তারিখ ছাড়াই ঢাকার নামি দামি বাহারি মোড়কে বনরুটি, পাউরুটি, কেক, বিস্কুট, পুডিংসহ বিভিন্ন ধরনের বেকারী সামগ্রী উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে।

বিএসটিআিই ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাঝে মধ্যইে এসব কারখানায় অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করা হয়। এখন তারা আরো বেপোরোয়া গতিতে চালাচ্ছে তাদের পণ্য উৎপাদন। তাছাড়া এ জেলায় প্রায় ১০/১৫ টি বেকারী সামগ্রী তৈরীর কারখানা রয়েছে।

তাছাড়া এসব বেকারি মালিকরা বিকল্প বেকারি মোড়কে ২ নম্বর খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন চায়ের দোকানে র্সবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফজরের পরই এসব অবৈইধ বেকারী কোম্পানির ভ্যানে বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লায়, অলিগলির জনো স্টোর ও চায়ের দোকানে ওই সব পণ্য পৌছে দেন ডেলিভারিম্যানরা।

উপজেলার বিভিন্ন চায়ের স্টলে গিয়ে দেখা যায়, বিকল্প বেকারির মোড়কে একাধিক পলি প্যাকেটে ঝুলছে পাইরুটি, বাটারবন, কেক, পেটিস, সিঙ্গারাসহ অন্যান্য খাদ্য পন্য। বিকল্প বেকারীর উৎপাদিত বেকারি সামগ্রী পাইরুটিসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর মোড়কে বিএসটিআই, বিডি -৩৮২ নম্বও লেখা রয়েছে। মোড়কের গায়ে, উৎপাদন ও মেয়াদা লেখা থাকলেও কত তারিখে উৎপাদন হয়েছে বা মেয়াদ কবে শেষ হবে তার কোন উল্লেখ নেই।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেজাল কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপকরন দিয়ে তৈরী করা এসব খাবার সামগ্রী খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে। পেটব্যাথা, শরীর র্দূবলসহ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।

তারা আরো বলেন, মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর এসব ভেজাল খাদ্য উৎপাদন বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। নাম প্রকাশ না করার র্শতে কারখানার এক র্কমচারী বলেন, দিনের বেলায় তারা কোন পণ্য উৎপাদন করেন না। ফজরের আগেই পণ্য উৎপাদন শেষ হয়ে যায়। রাতে ভ্রাম্যমান আদালত, র‌্যাব ও পুলিশের ঝামেলা কম বলেই পণ্য উৎপাদন রাতেই শেষ করে থাকেন।

চা দোকানি সুজন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ, ফুটপাথে চা- পান বিক্রিকরি সংসার চালাই। উৎপাদনের তারিখ দেখিবার সময় নাই। কাস্টমাররা তো আর এসব জিজ্ঞেস করে না। প্যাকেট থেকে কোনমতে তুলে চা বা কলা দিয়ে খেতে সুরুকরে বা এ সব বেকারি সামগ্রী কিনে নিচ্ছে।

মাওয়ায় বেকারির ম্যানেজার সফিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত সুরে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের কারখানার মালিকের হুকুম ছাড়া এ ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারবোন। আপনার মনের মতো লিখেন। পরে একাধকি কারখানায় গিয়ে মালিক পক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।

মোবাইল ফোনেও যোগাযোগরে চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে লৌহজং উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপক্টেও মোঃ নাজমুল হোসেন বলেন, যেসব কারখানায় অস্বাস্থ্য ও নোংরা পরিবেশে ভেজাল খাদ্য তৈরী করছে ওইসব প্রতিষ্ঠান পরির্দশন করে তাদেরকে খাদ্য আইনে সংশোধন হওয়ার পরামর্শ দিব। খাদ্যনীতিমালা অমান্য করিলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লৌহজং উপজেলা ইউ এনও মোঃ মনির হোসেন বলেন, যেসকল কারখানায় ভেজাল ও নোংরা পরিবেশে পণ্য তৈরী করছে তাদরে বিরুদ্ধে এ সাপ্তাহের মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতরে মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি