• আজ ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় শীতের শুরুতেই চলছে কুমড়া বড়ির উৎসব! ব্যস্ত সময় পার করছে নারীরা


এন.ইসলাম সাগর, পাইকগাছা খুলনা: পাইকগাছায় শীতের শুরুতেই বাড়ীতে বাড়ীতে চলছে কুমড়া বড়ির উৎসব। উৎসবকে ঘিরে গ্রামের নারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন কুমড়া বড়ি তৈরীর কাজে। কুমড়া বড়ি মূলত তরকারি হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন।

এটি গ্রাম বাংলার শীতকালীন একটি ঐতিহ্যও বলা হয়ে থাকে। কুমড়া বড়ির রয়েছে অনেকগুলো পুষ্ঠি গুনাগুন, এর স্বাদও আলাদা। অনেকেই বিক্রির উদ্দেশ্যে তৈরী করে থাকেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজেদের চাহিদানুযায়ী বড়ি তৈরী করে থাকেন। প্রতিবছর শীতের শুরুতেই বিশেষ করে অগ্রাহায়ন মাসে কুমড়া বড়ি তৈরী করা হয়। কুমড়াবড়ি তৈরী করতে কয়েকটি উপকরণের প্রয়োজন হয়, যার মধ্যে মাসকলই ও চাল কুমড়া। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কলই ও চালকুমড়া দিয়ে তৈরী করা হয়ে থাকে বড়ি। তবে বড়ির স্বাদ ও মান ভিন্ন করার জন্য অনেকেই কলইয়ের সঙ্গে কচু,পেয়াজ,রসুন ও মসলা জাতীয় দ্রব্য দিয়েও বড়ি তৈরী করে থাকেন।

তবে গ্রাম-বাংলায় কুমড়া বড়ির প্রচলনটা দীর্ঘদিনের। শীত আসলেই কেউ যেন কুমড়া বড়ির স্বাদ নিতে ভূল করে না। নবান্ন উৎসবের পাশাপাশি প্রতিটি বাড়ীতেই চলে কুমড়াবড়ির উৎসব। অনেকেই নিজেদের উৎপাদিত কলই ও কুমড়া দিয়ে তৈরী করে থাকেন বড়ি। অনেকেই আবার বাজার থেকে ক্রয় করে তৈরী করে থাকেন।

তবে কুমড়া বড়ির এ উৎসবকে কেন্দ্র করে লাভবান হয়ে থাকেন কলই ও কুমড়া চাষীরা। শীতের শুরুতেই কলই ও চালকুমড়ার প্রচুর চাহিদা থাকায় চাষীরা তাদের পতিত ফসলের জমিতে কিংবা ক্ষেতের আইল অথবা রাস্তার ধারে চাষ করে থাকেন মাসকলই। এ ধরনের চাহিদাকে সামনে রেখে গ্রামের গৃহবধুরাও তাদের বাড়ীর আঙ্গিনায় চাষ করেন চাল কুড়মার। চাষীরা তাদের উৎপাদিত কলই ও কুমড়া নিজেদের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত কলই ও কুমড়া বিক্রি করে থাকেন বাজারে।

বাজার মূল্যও অনেক বেশি থাকায় বাড়তি মুনাফা লাভ করে থাকেন চাষীরা। চাষীদের পাশাপাশি লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে প্রতিকেজি মাসকলই ৮০ টাকা এবং ২০ টাকা কেজি দরে প্রতিকেজি চালকুমড়া বিক্রি হচ্ছে। সরল গ্রামের তরুনী শাহনাজ পারভীন পপি জানান- শীত আসলেই কুমড়া বড়ির কথা মনে পড়ে যায়। শীতের রৌদ্রজ্জল সকালে পরিবার ও প্রতিবেশি কয়েকজন নারী মিলে বড়ি তৈরী করার মজাই আলাদা।

প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও দু’দফায় ৬ কেজি কুমড়া বড়ি তৈরী করেছি। তৈরীকৃত বড়ি মুলত তরকারি হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বান্দিকাটি গ্রামের গৃহবধু ফরিদা পারভীন জানান-যেকোন তরকারির সাথে কুমড়া বড়ি দেওয়া যায়, এতে তরকারির স্বাদই আলাদা এবং মজার হয়। এদিকে বানিজ্যিকভাবে কুমড়া বড়ির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান-কুমড়া বড়ির প্রধান উপকরণ মাসকলই ও কুমড়ায় প্রচুর পরিমানে প্রোটিন ও খনিজ দ্রব্য রয়েছে, খনিজের মধ্যে বিশেষ করে আয়রণ, ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম এবং কুমড়ায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম।

এজন্য কুমড়া বড়িতে প্রচুর পুষ্টি থাকে, যা সব শ্রেণীর মানুষ খাইতে পারে। এলাকায় এর চাহিদাও প্রচুর থাকায় মাসকলই চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যার মধ্যে প্রদর্শনী খামার অন্যতম। এছাড়াও বারী মাসকলই-৩ জাতের একটি নতুন জাতও উদ্ভাবন করা হয়েছে। সাধারণ কলই এর চেয়ে এর উৎপাদন অনেক বেশি। সর্বপরি খুব সহজেই এবং কম খরচে মাসকলই উৎপাদন করা যায়। এজন্য এটি বানিজ্যিকভাবেও অনেক লাভজনক।

সংসদ পুত্র যুবলীগ নেতা শেখ রফিকুল ইসলামের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

আলোচনাসভা, দোয়ানুষ্ঠান ও স্মরণসভার মধ্য দিয়ে খুলনা-৬ সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ্যাডঃ শেখ মোঃ নূরুল হকের পুত্র ও প্রয়াত যুবলীগনেতা শেখ রফিকুল ইসলামের ১ম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে পাইকগাছা উপজেলা আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে পৃথক পৃথকভাবে পালন করা হয় মৃত্যুবার্ষিকী।

শুক্রবার সকালে উপজেলা আ’লীগের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় স্মরণসভা ও দোয়ানুষ্ঠান। উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শেখ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আ’লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মলঙ্গী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন-ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, আ’লীগ নেতা রতন কুমার ভদ্র, আলহাজ্ব মুনসুর আলী গাজী, গোলাম রব্বানী, সাবেক উপজেলঅ ভাইস চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ মন্ডল, পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ, যুগ্ম-সম্পাদক এন ইসলাম সাগর।

বক্তব্য রাখেন-মোহাম্ম আলী, যুবলীগ নেতা-শেখ সেলিম, উত্তম কুমার মন্ডল, শেখ মাসুদুর রহমান, পবিত্র মন্ডল, বাবুল আক্তার, শেখ জিয়াদুল ইসলাম, তরুনলীগ নেতা মিনারুল ইসলাম সানা, আজিবার রহমান, কেষ্টপদ মন্ডল, যুব-স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আসিফ ইকবাল রনি, আজহারুল ইসলাম লাভলু, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম মসিয়ার রহমান, পৌর সভাপতি মাসুদ পারভেজ রাজু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, রাহুল ঘরামী, মেহেদি হাসান, ধর্মেন্দ্র সরকার, রাসেল সরদার, জাফরুল বাবু, রাজেশ সরদার, হরিদাশ, সৌরভ, সুমন, চন্দন, ডাব্লু, ইয়াছিন, নাহিন, সুরদ্বিপ, পল্লব, নিলয়, সৌভিক, বাপ্পী, রনি, চিন্ময় ও নাফিজ। দোয়ানুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাওঃ আবু সাদেক। এছাড়া অনুরুপভাবে জুম্মাবাদ নিজ গ্রামের পুরাইকাটি, পশ্চিমপাড়া, দক্ষিণপাড়া ও হিতামপুর জামে মসজিদসহ এলাকার বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়ানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য ৯০ এর গনআন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে যুবলীগনেতা শেখ রফিকুল ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

এছাড়াও পাইকগাছা-কয়রার সামগ্রিক উন্নয়ন, সরকারের সাফল্য তুলে ধরা এবং স্থানীয় যুবলীগকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে রফিকের ভূমিকা আজও এলাকার মানুষ স্মরণ করে। যুবলীগ নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

◷ ৩:৩৪ অপরাহ্ন ৷ শুক্রবার, ডিসেম্বর ১, ২০১৭ ইতিহাস-ঐতিহ্য, দেশের খবর