‘আনিসুলের কাছে ব্যক্তিগতভাবে আমি ঋণী’, অকপটে স্বীকার তোফায়েল আহমদের

৪:১১ অপরাহ্ন | শনিবার, ডিসেম্বর ২, ২০১৭ Breaking News, জাতীয়, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ঋণী বলে অকপট স্বীকার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় আমি জেলে ছিলাম। তখন তিনি আমার পরিবারের নানা খোঁজখবর রেখেছেন।’ শনিবার দুপুরে বনানীর ২৩ নম্বর রোডের নিজ বাসায় মেয়র আনিসুলের মরদেহ আসার পর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তোফায়েল আহমদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সকল কর্মকাণ্ডে আনিসুল হক ছিলেন যোগ্য। টিভি উপস্থাপক থেকে ব্যবসা সব বিষয়ে তার সুনাম ও দক্ষতা দেশবাসীকে তিনি দেখিয়ে গেছেন।’

আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা বলেন, ‘যখন মেয়র আনিসুল ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে টকশো করতেন, সে সময় আমাদের ডাকা হতো। কতো যে প্রশ্ন তিনি করতেন। এরপর তিনি ব্যবসায়ী হিসেবে তার সফলতা দেখিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের সকল সংগঠনে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। তারপর মেয়র হিসেবে যখন দায়িত্ব নিলেন, সে সময় গাড়িতে নিয়ে ঘুরে দেখাতেন আমাকে, কিভাবে কাজ করতেন আনিসুল।’

মেয়র ছাড়াও তার ওপর বিভিন্ন সময়ে যেসব দায়িত্ব এসেছে, তা তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, স্ত্রীর সঙ্গে গত ২৯ জুলাই পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাজ্যে যান। পরে সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল থেকে আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে মারা যান এই গুণী ব্যবসায়ী নেতা ও টিভি ব্যক্তিত্ব।

বিমানবন্দর থেকে আনিসুল হকের মরদেহ তাঁর বনানীর ২৭ নম্বর সড়কে নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। আগে থেকেই সেখানে হাজির ছিলেন প্রয়াত মেয়রের আত্মীয়স্বজন, বিপুল শুভানুধ্যায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এ পর্ব সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বাড়ির বাইরে প্রচুর সাধারণ মানুষ জড়ো হয়েছেন তাঁকে শেষবারের মতো দেখার জন্য। কিন্তু বাসায় ভেতরে শুধু নির্ধারিত মানুষদেরই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

শেষবারের মতো আনিসুল হকের লাশ নিজের বাসভবনে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়।

বাসা থেকেই তাঁর লাশ নিয়ে আসা হবে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সেখানে থাকবে লাশ। সেখানেই আসরের নামাজের পরই তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে সন্ধ্যার আগেই বনানী কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হবে।

সেখানে আনিসুল হকের মায়ের কবর আছে। সেখানে তাঁর পুত্র সন্তানের কবরও আছে। পুত্রসন্তানের কবরে তাঁকে সমাহিত করা হবে। এর আগে গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা সেন্ট্রাল লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক মসজিদে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।