বনানী কবরস্থানে ছোট ছেলের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত মেয়র আনিসুল হক

৫:২৯ অপরাহ্ন | শনিবার, ডিসেম্বর ২, ২০১৭ Breaking News, ফিচার, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর: রাজধানীর বনানী কবরস্থানে ছোট ছেলে শারাফুল হকের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। এর পাশেই রয়েছে তাঁর মায়ের কবর। আজ শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হককে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে আর্মি স্টেডিয়ামে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে মেয়র আনিসুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বেলা সোয়া ৩টার দিকেআনিসুল হকের মরদেহ আর্মি স্টেডিয়ামে আনা হয়। এর আগে বেলা ২টার দিকে প্রয়াত মেয়রের বাসায় গিয়ে আনিসুল হকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি আনিসুল হকের স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের সমবেদনা জানান।

এর আগে আজ বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনিসুল হকের মরদেহ বহনকারী বিমান অবতরণ করে। তারপর সরাসরি বনানীর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়তাকে। বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছান।

লন্ডনে সাড়ে চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনিসুলহকের মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান মেয়র আনিসুল হক। অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৩ আগস্ট তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। এরপর তাঁকে দীর্ঘদিন আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে মেয়রের শারীরিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাঁর কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে নেওয়া হয়। কিন্তু মঙ্গলবার মেয়রের পরিবারের একজন সদস্য বলেন, রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাঁকে আবার আইসিইউতে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে মেয়রকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি, ব্যবসায়ী ও একসময়ের টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব আনিসুল হক ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫২ সালে চট্টগ্রামের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর শৈশবের একটি বড় সময় কাটে ফেনীর সোনাগাজীর নানার বাড়িতে।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে টিভি উপস্থাপক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন আনিসুল হক। তাঁর উপস্থাপনায় ‘আনন্দমেলা’ ও ‘অন্তরালে’ অনুষ্ঠান দুটি জনপ্রিয়তা পায়। তবে পরে টেলিভিশনের পর্দায় মানুষ তাঁকে বেশি দেখেছিল ব্যবসায়ী নেতা হিসেবেই। ২০০৫-০৬ সালে বিজিএমইএর সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি হন তিনি। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল মেয়াদে সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন আনিসুল হক।

সম্পর্কিত সংবাদ…

প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আনিসুলের স্ত্রী

‘আমাদের জুটি ভেঙে গেছে, আমি একা হয়ে গেছি’

‘আনিসুলের কাছে ব্যক্তিগতভাবে আমি ঋণী’, অকপটে স্বীকার তোফায়েল আহমদের