‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এড়িয়ে যাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন পোপ


সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- মিয়ানমার সফরে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এড়িয়ে যাওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। তিনি জানান, শান্তিপূর্ণভাবে সংকট নিরসনে সংলাপের পথ খোলা রাখতেই তার এ কৌশল।

মিয়ানমার ও বাংলাদেশে ছয়দিনের সফর শেষে, শনিবার রোমে ফেরার পথে উড়োজাহাজে সংপরসঙ্গী সাংবাদিকদের একথা বলেন পোপ। অবশ্য ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ না করলেও মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর কাছে সমস্যা সমাধানে তার স্পষ্ট ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মিয়ানমারের সেনা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর বিষয়টি দৃঢ়তার সঙ্গেই তুলে ধরেছেন বলে ইংগিত দেন রোমান ক্যাথলিকদের এই সর্বোচ্চ ধর্মগুরু।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় রোহিঙ্গাদের তিনটি পরিবারের কাছ থেকে তাদের দুর্দশার কথা শুনতে শুনতে চোখ ভিজে আসার কথাও তিনি সাংবাদিকদের বলেন। তিনি জানান, সেই অশ্রু তিনি লুকাতে চেয়েছিলেন।

ওই অনুষ্ঠানেই পোপ এশিয়া সফরে প্রথমবারের মত রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ঈশ্বরের উপস্থিতি রোহিঙ্গাদের মধ্যেও বিরাজ করছে।

রোমের পথে পোপ সাংবাদিকদের বলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হল, বার্তাটি ঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া, একবারে একটি বিষয়ে কথা বলা এবং অন্যপক্ষের জবাব শোনা।

তিনি বলেন, “আমি যদি বক্তৃতায় ওই শব্দটি ব্যবহার করতাম, তারা হয়ত আলোচনার পথ আমার মুখের ওপরই বন্ধ করে দিত। প্রকাশ্যে বক্তৃতায় আমি পরিস্থিতিটা তুলে ধরেছি, অধিকারের বিষয়গুলো সামনে এনেছি; বলেছি, নাগরিকত্বের অধিকার থেকে কাউকেই বঞ্চিত করা উচিৎ নয়। এটা করতে হয়েছে, যাতে একান্ত বৈঠকে আমি আরও কিছু বলতে পারি।”

পোপ বিমানে থাকা সাংবাদিকদের বলেছেন, আমি জানতাম রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে যাচ্ছি। তবে কোথায় এব কিভাবে তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করবো সেটা আমি জানতাম না। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাতই ছিল আমার সফরের অন্যতম শর্ত। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যখন সাক্ষাত হয়েছে তখন আমি কেঁদেছি। কেঁদেছি এমনভাবে যাতে কেউ তা দেখতে না পারে। এ সময় রোহিঙ্গারাও কেঁদেছেন।

পোপ বলেন, তাদেরকে কিছুই না বলে চলে যাবো ্টামি এমনটা হতে পারে না। তাদেরকে আমি বলেছি, একীভূত বিশ্বের সামনে আপনাদের ওপর যারা নিষ্পেষণ চালিয়েছে, যারা আপনাদের ক্ষতি করেছে তাদেরকে ক্ষমতা করে দেয়ার আহ্বান জানাই আমি।

বিমানে সফরের সময় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন পোপ। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ যা করেছে তা বিপুল। এটা স্বাগত জানানোর একটি উদাহরণ।

রবি

◷ ১২:৩০ অপরাহ্ন ৷ রবিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০১৭ ফিচার