চট্টগ্রাম বন্দরে পঁচছে শতকোটি টাকার পেয়াজ-মরিচ!

৭:৫৮ অপরাহ্ন | রবিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০১৭ Breaking News, অর্থনীতি, আলোচিত, স্পট লাইট

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বন্দরে পঁচে গলে নষ্ট হচ্ছে কয়েকশ কোটি টাকার পেয়াজ-রসুন, কাচামরিচ, মাছ ও ফল। আর বাজারে দামের আগুনে এসব পণ্যে হাত দিতে পারছে না সাধারণ ক্রেতারা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা।

বেসরকারি সংস্থা বন্ধুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক হামিদুর রহমান বলেন, দেশের লাখ লাখ গরিব মানুষ বাচার জন্য খেতে পাচ্ছে না। অথচ ব্যবসার জন্য আনা শত কোটি টাকার পণ্য বন্দর থেকে খালাস না করে পঁচে নষ্ট করছেন। বাজারে সহনীয় দামে এসব পেয়াজ, কাচামরিচ ও ফলমুল বিক্রী করতে পারতেন। এ জন্য ব্যবসায়ীদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

বন্দর সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা কয়েকশ কোটি টাকার কমলা, আপেল, আঙুর, মাছ, রসুন-পেয়াজ, কাচামরিচ পঁেচ গলে নষ্ট হয়ে গেছে। ১০৯ কন্টেইনার ভর্তি এসব খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তাতে বায়ু দুষণে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্র জানায়, শিপিং এজেন্টরা এসব খাদ্যপণ্য আমদানি করলেও ব্যবসায়ীরা তা খালাস করে নিয়ে যায়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কন্টেইনারে পড়ে থাকায় পঁচনশীল এসব খাদ্যপণ্য ক্রমেই পঁচে গলে নষ্ট হয়ে খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সূত্র আরও জানায়, আমদানি করা এসব খাদ্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্সের ১১টি কন্টেইনার, মার্সক বাংলাদেশ লিমিটেডের ৬৬টি, কে লাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের ১২টি, এপিএল বাংলাদেশ লিমিটেডের ৮টি, ইয়াংমিন লাইন্সের ৩টি, ইন্টারমডাল প্রা. লিমিটেডের ২টি এবং পিআইএল বাংলাদেশ লিমিটেডের ৭টি কন্টেইনারভর্তি পণ্য।

নিলামযোগ্য এসব পণ্য খালাসের ব্যবস্থা নিয়ে তাদের কন্টেইনারগুলো খালি করে দেয়ার জন্য শিপিং এজেন্টরাও দীর্ঘদিন ধরে আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে যথাসময়ে এ ব্যাপারে কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মিয়া মো. নাজমুল হক।

তিনি বলেন, যথাসময়ে খালাস না নেয়া পণ্যভর্তি কন্টেইনার শুধু যে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি করছে তা নয়, শিপিং কোম্পানিসমূহকেও মহাবিপাকে ফেলে। বিশেষত, পঁচনশীল পণ্যভর্তি কন্টেইনার তাদের জন্য বড় সংকটের।

সানোয়ারা শিপিং এজেন্টের ব্যবস্থাপক হুমায়ুন আজাদ জানান, পঁচনশীল মালামাল খালাস না হওয়ায় বিদ্যুৎ বিলসহ নানা বিল পরিশোধ করে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয় এমএলও এজেন্টরা। আমদানিকারক কর্তৃক মালামাল ডেলিভারি না নেয়ায় এমএলও এজেন্টদের এই বিল আদায়েরও কোন সুযোগ নেই। অপরদিকে, কন্টেইনারে থাকা পঁচনশীল পণ্য ব্যবহারের অনুপযোগী কি না তা ঘোষণার দায়িত্ব কাস্টম হাউসের। তাই এই ঘোষণা আসা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যায় না।

রিফার কন্টেইনারে সংযোগ বাবদ ব্যবহৃত বিদ্যুৎ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে নিয়ে। তাই বিল মওকুফ করার কোন অবকাশ নেই। নিলামযোগ্য পণ্যভর্তি কন্টেইনার বছরের পর বছর পড়ে থাকার ফলে সবচেয়ে সমস্যা তৈরি করেছে বন্দরের জন্য।

এ প্রসঙ্গে বন্দর পরিচালনা পরিষদের সদস্য (মিডিয়া ও প্রশাসন) মো. জাফর আলম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বন্দরে কন্টেইনার রাখতে অনেকদিন ধরে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অথচ কন্টেইনার রাখার জায়গা আটকে আছে নিলামযোগ্য পণ্যভর্তি কন্টেইনারে। এই সমস্যাটি বিরাজ করছে বছরের পর বছর ধরে। তা নিয়ে বন্দর এবং কাস্টমস এর মধ্যে বৈঠক, কথা হয়েছে অনেক।

তিনি বলেন, শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন থেকে কাস্টম হাউস এবং বন্দর প্রশাসনকে খালাস না নেয়া পণ্য নিলামে উঠিয়ে তাদের কন্টেইনার ফেরতের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে অনেকবার। জাহাজ থেকে নামানোর পর ৩০দিনের মধ্যে আমদানিকারক কর্তৃক মালামাল সরবরাহ নেয়া না হলে বিধান মোতাবেক নিলামের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় কন্টেইনার।

আর এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, এসব কন্টেইনারে পঁচে যাওয়া খাদ্যপণ্য ইতোমধ্যে আমরা ধ্বংসের উদ্যোগ নিয়েছি। এনবিআর থেকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা পাওয়া গেছে। দ্রুত এসব পণ্য ধ্বংস করা হবে।