• আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘আনিসুল হকের দাফন হতে না হতেই নির্বাচনের ভাবনা অশোভন’


সময়ের কণ্ঠস্বর: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র সদ্য প্রয়াত আনিসুল হককে সমাহিত করতে না করতেই তার শূন্যস্থান পূরণে নির্বাচনের ভাবনাকে ‘অশোভন’ হিসেবে দেখছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার সকালে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নিয়ে বিএনপির ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, “উনাকে (প্রয়াত আনিসুল হক) কেবল সমাহিত করা হয়েছে। এটা আমি মনে করি যে, এই মুহূর্তে তার লাশ দাফনের সাথে সাথে নির্বাচন…, কে কি করবেন- এটা আমি খুব একটা শোভন মনে করছি না। নির্বাচনের বিষয়টা আসুক।

“আমরা দেখেছি যে, তার লাশ দাফনের সাথে সাথে অনেকে নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন। আমাদের সমাজ এ বিষয়গুলোকে ভালো ভাবে নেয় না।”

ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচন নিয়ে দলের পক্ষ থেকে কয়েকদিন পর জানানো হবে বলেও জানান এই বিএনপি নেতা।

প্রায় দুই বছর ধরে ঢাকা উত্তরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্যে জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়ে অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হন সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিসে আক্রান্ত আনিসুল হক; চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়।

এরপর গত শনিবার লাশ দেশে আসার পর তাকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বের হয়, আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন মেয়র নির্বাচন করার বিধান রয়েছে।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কম্বোডিয়া সফর প্রসঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রিজভীর ভাষ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে সড়কের নামফলক উদ্বোধন করতেই কম্বোডিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ক্ষমতাসীনদের লুটপাট-দুর্নীতি আর স্বেচ্ছারিতায় দেশ এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ বিষাদ ঘনঘোর নৈরাজ্য বিরাজ করছে। এই যে দুঃসময় চলছে, এমন দুঃসময়েও প্রধানমন্ত্রী কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে পিতার নামে সড়কের নামকরণ ও তা উদ্বোধন করতে চলে গেলেন সুদুর কম্বোডিয়ায়।

“বাংলাদেশে যেন হবুচন্দ্র রাজার উদ্ভট রাজত্ব চলছে। রাজকোষ শূন্য করে শুধু পরিবারের নামকে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া প্রতিযোগিতায় নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শাসকদলের সবাই।”

রোহিঙ্গা সঙ্কটের ঘটনায় চীন-ভারতসহ প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপি আহ্বানের বিষয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগ না থাকায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিজভী।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ফের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতিবাদে রোববার সারা দেশে দলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশি বাধা ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এবং চট্টগ্রাম সদরঘাট থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান রিজভী।

একইসঙ্গে গত ১ ডিসেম্বর দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের ধানমন্ডির বাসভবনে প্রয়াত স্ত্রী নিলুফার মান্নানের কুলখানির অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর এবং রোববার দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের নাটোরের বাসায় ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের’ হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদও জানান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।

অবিলম্বে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং মীর সরফত আলী সপু উপস্থিত ছিলেন।

◷ ৬:২৬ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, ডিসেম্বর ৪, ২০১৭ Breaking News, জাতীয়