সংবাদ শিরোনাম

হাসপাতালের ওষুধ পাচারের ছবি তোলায় ১০ সংবাদকর্মী তালাবদ্ধবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রীনির্মাণকাজ শেষের আগেই ‘মডেল মসজিদের’ বিভিন্ন স্থানে ফাটলআহসানউল্লাহ মাস্টারসহ ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কারঐতিহাসিক ৭ মার্চের সুবর্ণ জয়ন্তী: টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে মানুষের ঢলচট্টগ্রাম কারাগারে হাজতি নিখোঁজ, জেলার-ডেপুটি জেলার প্রত্যাহারদেবীগঞ্জে ট্রাক্টরের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুকরোনার এক বছর: মৃত্যু ৮৪৬২, শনাক্ত সাড়ে ৫ লাখটাঙ্গাইলে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপনমোবাইল ইন্টারনেট গতিতে উগান্ডারও পেছনে বাংলাদেশ

  • আজ ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আমতলী কৃষি জমিতে ইটভাটা

৬:৩২ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৭ দেশের খবর

এম এ সাইদ খোকন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ ইটভাটা নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৩’র নীতিমালা লংঘন করে বরগুনার আমতলী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলী জমিতে গড়ে উঠেছে একাধিক ইটভাটা। এতে একদিকে যেমন আবাদী জমির পরিমান কমে আসছে তেমনি কাঠ পোড়ানো ও ড্রাম চিমনী ব্যবহারের ফলে এলাকার পরিবেশ প্রতিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেও প্রতিবছরই পুনরোদ্দমে এসব ভাটা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আমতলী বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টিরও বেশি ভাটায় ইটভাটা নিয়ন্ত্রন আইন লংঘন করে করে ড্রাম চিমনি ও ব্যবহার করে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ চলছে। নিয়মানুসারে পরিবেশ অধিদপ্তর বন বিভাগের ছাড়পত্র নিয়ে ইটভাটা নিয়ন্ত্রন আইন মেনে ভাটা স্থাপনের সু-নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও এদের কেউ নুন্যতম শর্তও মানছেন না। সরেজমিনে বেশ কয়েকটি ভাটায় গিয়ে দেখা যায়, এসব ভাটায় খননযন্ত্র ব্যবহার করে ফসলী জমিতে গভীর খাঁদ করে মাটি কেটে সেসব মাটি ইট তৈরীতে ব্যবহার করা হচ্ছে। চালিতাবুনিয়া এলাকায় একটি ভাটায়

আমতলী উপজেলায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স ছাড়াই অনেক ইটভাটায় ইটপোড়ানোর কার্যক্রম শুরু করছে। পরিবেশগত বিপর্যয়ই জনস্বাস্থ্যের মারাতœক হুমকির আশঙ্কা রয়েছে। স্বল্প উচ্চতার ড্রাম চিমনি ইটভাটা স্থাপন এবং ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনি ইটভাটার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। জ্বালানি হিসাবে অনেক ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহারের জন্য গ্রাম থেকে বিভিন্ন জাতের গাছ কেটে ভাটায় স্তুপ করে রাখছে। গাছকাটায় পরিবেশের ভারসম্য বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে পরিবেশবাদীরা। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার কৃষি জমিতে ইটভাটাসহ শিল্পকারখানা না করার জন্য মালিকদের আহবান জানালেও তাদের কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কৃষি জমিতে ইটভাটা করায় ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলি জমি।

আমতলী উপজেলার আমতলী সদর, হলদিয়া, চাওড়া, কুকুয়া, গুলিশাখালী, আঠারোগাছিয়া, ইউনিয়নে একাধিক ঝিকঝ্যাক ও ড্রাম চিমনি এবং পাজা ইটপোড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।

বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক আরেফিন বাদল জানান কৃষি অফিস থেকে আমাদের একটি তালিকা দিবে ওই তালিকায় কৃষি জমিতে ইটভাটা থাকলে সেখানে কোন ছাড়পত্র দেয়া হবে না। যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম বদরুল আলম জানান আমার কাছে পরিবেশ অধিদপ্তর কৃষি জমিতে ইটভাটা হয়েছে কিনা তার কোন তালিকা চায়নি। তিনি আরো জানান কৃষি জমিতে ইটভাটা করায় যেমন ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে তেমনি ফসলেও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল অফিসের সহকারী পরিচালক এইচ রাশেদ জানান কৃষি জমিতে ইটভাটাসহ কোন ধরনের শিল্পকারখানা করতে পারবে না। করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন বরগুনায় যে সব অবৈধ ইটভাটা রয়েছে এসবের বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।