ভয়াবহতার নতুন মোড়! নিহতের সংখ্যা আড়াইশতাধিক ছাড়িয়েছে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে

১২:১৪ অপরাহ্ন | বুধবার, ডিসেম্বর ৬, ২০১৭ Breaking News, আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক আপডেট ডেস্ক- প্রেসিডেন্ট সালেহ`র মৃত্যুতে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন মোড় নিয়েছে। ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহকে হত্যার পর দেশটিতে সহিংসতা ও সংঘর্ষ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির রাজধানী সানায় হুথি বিদ্রোহী ও সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহ’র সমর্থকদের সংঘর্ষে গত ৪দিনে অন্তত ২৫০ জন নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন প্রায় ৫ শতাধিক।

বার্তা সস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে আইএএনএস এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানায়, হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় সোমবার সালেহ’র মৃত্যু হয়েছে। সালেহ সৌদি আরবের অবরোধ তুলে নেওয়া ও আলোচনার আহ্বান জানানোর পর হুথিদের সঙ্গে তার সমর্থকদের সংঘাত শুরু হয়। অপরদিকে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস জানায়, ৪দিনের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৪ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। গত কয়েক দিনের মধ্যে ভয়াবহ সহিংস অবস্থা বিরাজ করছে সানাতে।

বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় সংঘাতে লিপ্ত সব পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ইয়েমেনে রেড ক্রসের মুখপাত্র আদনান হাজাম। তিনি বলেন, নতুন দুর্ভোগ সহ্য করার মতো অবস্থায় নেই ইয়েমেন।

এদিকে রেড ক্রসের আঞ্চলিক কর্মকর্তা রবার্ট মারডিনি গত মঙ্গলবার এক টুইটে বলেছেন, সংস্থার কর্মীরা হাসপাতালে ওষুধ, শল্যচিকিৎসার সরঞ্জাম ও জ্বালানি সরবরাহসহ যা যা করা দরকার, সবই করছে।

উল্লেখ, ২০১১ সালে তুমুল বিক্ষোভের মুখে ৩ দশকের ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন সালেহ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন নিয়ে গণভোটের ধাঁচে আয়োজিত এক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় বসেন উপ প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মানসুর হাদি। আর তার বিরুদ্ধে জোট গঠন করে সালেহ সমর্থক ও হুথিরা।

এরপর ২০১৪ সালে রাজধানী সানার দখল নেয় হুথিরা। ২০১৫ সালে দেশজুড়ে ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের উত্থানের মুখে দেশ ছাড়েন মানসুর হাদি। ২৬ মার্চ ২০১৫ থেকে ইয়েমেনে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো।ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মানসুর হাদির কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়।