• আজ ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘সরকার থেকে আমার জন্য কি শ্মশানের একটু জায়গা এনে দিতে পারেন?

৫:১৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৭ Uncategorized, আলোচিত, তথ্য জাদুঘর, দেশের খবর

জয়নাল আবেদীন,ওসমানীনগর(সিলেট) থেকে: ‘‘যুদ্ধর সময় যেরা রাজাকার আছিল, যেরা মারিয়া খাইছে, হেরা অকন ভালা আছে। আর আমার মতো যেরা জীবন বাজী রাখিয়া যুদ্ধ করছে তারা অকন খানি পায় না”

মুক্তিযুদ্ধ ৭১-এ শেষ হলেও মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র দাসের সংগ্রাম কিন্তু থেমে নেই। দারিদ্রতায় ধূকতে ধূকতে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জীবন বাজি রাখি যুদ্ধ করলাম আর অকন কেউ আমরারে মানুষ কয় না। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন বাজী রেখে মুক্তি-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়া অকুতোভয় যোদ্ধা বালাগঞ্জের চাঁনপুর গ্রামের রসুমনি দাসের পুত্র রাখাল চন্দ্র দাস স্বাধীনতার পরেও যোগ্য সম্মানটুকু পাচ্ছেন না।

সরকারী সনদ আর মাসিক ভাতা সম্ভল টুকু নিয়ে বিষয়-বৈভব হীন রাখাল চন্দ্রের জীবনের ইতিমধ্যে ৬৬ টি বছর কেটে গেছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষনের পর দেশ জুড়ে যখন চরম নৈরাজ্য ঠিক তেমন সময়ে এপ্রিল মাসের শেষ দিকে রাখাল চন্দ্র যুদ্ধের ট্রেনিংয়ের জন্য মৌলভী বাজার জেলার ফুলতলা সীমান্ত পেরিয়ে করিম গঞ্জের লোহার বন্দে যান। সেখানে দেড়মাস ট্রেনিং নেন ভারতীয় এক কমান্ডারের কাছে।

প্রথম সন্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন কানাইঘাটে হরিপুর এলাকায়। ৪নং সেক্টরের অধীনে মেজর সাদীর নেতৃত্বে ১২০ জন মুক্তিযোদ্ধার সাথে তিনি ছিলেন। এখানে মারা যায় প্রায় ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা। পাক সেনাদেরও ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। ৪নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর সিআর দত্ত। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানী বুলেট থেকে অনেকবার বেঁচে যাওয়া রাখাল চন্দ্র দাস দুর্ভোগ থেকে নিস্কৃতি পাচ্ছেন না ।

৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্তের সুপারিশে রাখাল চন্দ্র ঢাকা পিলখানায় বিডিআরে চাকুরী পান। কিন্তু ১০ বছর চাকুরীর পর এরশাদের আমলে ১৯৮২ সালে বিনা কারণেই চাকুরীচ্যুতি ঘটে।

এরপর নানা জায়গায় ধর্ণা দিয়েও চাকুরী ফেরৎ পাননি তিনি। চাকুরী হারানোর পর চারিদিক থেকে ঘিরে বসে অভাব। বাস্তুহীন রাখাল চন্দ্র দাস দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে গোয়ালা বাজার ইউপির সরকারী ভূমিতে বাস করছেন। রাখাল চন্দ্র দাস বলেন, অভাবে কারণে চিকিৎসা করাতে পারছি না। ছোট একটা শরীরে হাজার রকমের অসূখ বাসা বেঁধেছে। অসুখের কারণে কাজ করতে পারি না।

১৯ বছরের একটি মেয়ে কলেজে লেখাপড়া করে। অভাবের কারনে ঠিকমতো লেখা পড়া করাতে পারছি না। সরকার থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের খাস ভূমি বন্দোবস্ত দেওয়ার কথা ছিল-তা পাইনি। ঝাঁঝালো কন্ঠে তিনি বলেন, আপনারা বলে কয়ে সরকার থেকে আমার জন্য কি শ্মশানের একটু জায়গা এনে দিতে পারেন!

Loading...