খুলনায় লটারীর নামে জুয়া খেলা লুটে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা

৮:০৪ অপরাহ্ন | শুক্রবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৭ অপরাধ, দেশের খবর

মেহেদী হাসান,বিশেষ প্রতিবেদকঃ খুলনায় টানা দুই সপ্তাহ চলার পর পুলিশের হস্তক্ষেপে গতকাল বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকলেও আজ শুক্রবার থেকে আবারও চালুহচ্ছে “প্রতিদিন তামান্না র‌্যাফেল ড্র নামে জমজমাট জুয়া খেলা। খুলনার ইউক্যাবল সহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে রাতে দেখানোহচ্ছে র‌্যাফেল ড্র। আকর্ষণীয় পুরস্কারের লোভে সর্বশান্ত হচ্ছেএলাকার গরীব ও খেটে খাওয়া মানুষ। প্রশাসনের নাকের ডগায়খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সমাজকল্যান মাঠে “প্রতিদিন তামান্না র‌্যাফেল ড্র’র”নামে চলছে এজুয়া খেলা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনার ক্ষমতাশীন দলের এক নেতার ছত্রছায়ায়মেলার নামে এই র‌্যাফেল ড্র’র আয়োজন করা হয়েছে। খুলনা মহানগরী, বটিয়াঘাটা ফুলতলা, তেরখাদা, রূপসা, ডুমুরিয়া এবং বাগেরহাট জেলারফকিরহাট ও রামপাল উপজেলায় এই অবৈধ লাটারির টিকিট বিক্রি করাহচ্ছে। প্রতিদিন ৫০-৬০ লাখ টাকা লুটে নিচ্চে গরীব মানুষের কাছ থেকে।নগদ টাকা ও মটর সাইকেলসহ লোভনীয় পুরস্কারের আশায় টিকিটকেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সাধারণ জনগণ। ১৭০টি ইজি বাইক ও১০টি পিকআপ ভ্যানে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।

সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন খুলনার স্থানীয় টিভিচ্যানেলে প্রকাশ্যে এই জুয়া খেলা দেখানো হলেও প্রশাসন একেবারেই নীরব। ডুমুরিয়া উপজেলা সদর, শাহপুর, খর্নিয়াচুকনগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রতিদিন এক শ্রেণির সাধারণ মানুষ, স্কুল- কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থী লটারীরর‌্যাফেল ড্রর নামে জুয়া খেলায় মেতে উঠেছে। বড় বড় পুরস্কারের লোভে তারা প্রতিদিন খোয়াচ্ছে হাজার হাজার টাকা। প্রকাশ্যেমাইকিং করে এই অবৈধ লটারীর টিকেট প্রশাসনের নাকের ডগায় বিক্রি হলেও ব্যব¯হা নিচ্ছেন না কেউ।

সংশিষ্ট সূত্রে ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত প্রায় ১৫ দিন যাবৎ ডুমুরিয়া উপজেলা সদর, শাহপুর, খর্নিয়া, চুকনগর সহআশ-পাশের এলাকাতে প্রতিদিন সকাল ১০ টা হতে রাত ৯টা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ইজি বাইকে তামান্না দৈনিক রাফেল ড্র নামীয় প্রতিটি২০ টাকা মূল্যের অবৈধ লটারীর টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন পুরস্কারের প্রলোভনে এলাকার খেটে খাওয়া সাধারণমানুষ, স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীসহ অন্যানরা এক বা একাধিক টিকেট কিনে প্রতারিত হচ্ছে।

টিকিট কিনতে আসা ডুমুরিয়ার সদরের আইতলার ভ্যান চালক মহিদুল ইসলাম জানান, তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে ৫ শতাধিক টিকিটকিনেছেন কিন্ত এ পর্যন্ত তার কপালে কিছুই বাঁধেনি। তাঁত বস্ত্র ও কুঠির শিল্প মেলা ২০১৭ উপলক্ষ্যে খুলনার আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাসমবায় সমিতি লি: এর আয়োজনে এই লটারীর নামে জুয়া খেলা চলছে।

আরো জানা গেছে; প্রতিদিন রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিকএলাকার সমাজ কল্যান মাঠে প্রতিদিন রাতে বিক্রিত লটারী টিকেটের ড্র অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ড্র অনুষ্ঠানটি খুলনার ২টি ক্যাবল টিভিমিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। বিগত মাস খানেক যাবৎ ধরে জেলা- উপজেলা এলাকা গুলোতে মাইকিং করে লটারির টিকেটবিক্রি ও ঘটা করে দৈনিক র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠান প্রশাসনের নাকের ডোগায় হলেও দেখার যেন কেউ নেই।প্রতিদিন লটারীর টিকেটবিক্রির নামে একটি অসাধু চক্র লুটে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা, অথচ কিছু না বুঝেই আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অবিলম্বেলটারির নামে জুয়া খেলা বন্ধের দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

খুলনা মহনগর পুলিশের দু’জন পুলিশের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা মুখ খোলেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন; লটারীর টিকিট বিক্রির বিষয়টিআমার জানা ছিল না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবৈধ কোন কিছু হলে ডুমুরিয়া উপজেলায় টিকিট বিক্রি বন্দের আইনানুগ ব্যব¯হানেয়া হবে। আবার অনেকেই নগদ টাকা ও মটর সাইকেল পেয়ে বেজায় খুশি।

ডুমুরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিল হোসেন বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার ডুমুরিয়ায় কোন টিকিট বিক্রি করতে দেয়াহয়নি। তবে আজ দুয়েকটি গাড়িতে টিকিট বিক্রি করা কালে মুচেলকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিক্রি করলে ধরে মামলাদেয়া হবে।