চাটমোহরে কীটনাশক দিয়ে অবাধে দেশী পাখি নিধনের অভিযোগ


আব্দুল লতিফ রঞ্জু , পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের বাঙ্গালা গ্রামে কীটনাশক ব্যবহার করে দেশী পাখি নিধনের অভিযোগ উঠেছে এক খেজুর গুড় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। খেজুর গাছে দানাদার কীটনাশক দেয়ায় সেই গাছের রস পান করার পর ইতিমধ্যে মারা গেছে অন্তত শতাধিক নানারকম দেশী পাখি। ক্ষতির মুখে পড়ছে পরিবেশের ভারসাম্য।

এলাকাবাসীর অভিযোগ থেকে জানা গেছে, নাটোরের লালপুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে খেজুর গুড় ব্যবসায়ী নাসির হোসেন শীত মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে খেজুর গাছ মালিকদের সাথে চুক্তি করে গুড় তৈরী করেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমের শুরুতে চাটমোহরে উপজেলার বাঙ্গালা স্কুলপাড়া গ্রামে আসেন। তিনি গ্রামের মৃত আয়েন উদ্দিন সরদারের খেজুরের বাগান চুক্তি নিয়ে গাছ ঝুরে রস সংগ্রহ করার পর গুড় তৈরী শুরু করেন।

গত দু’দিন ধরে হঠাৎ করেই তিনি অসাধু উপায় অবলম্বন করে দানাদার কীটনাশক ব্যবহার শুরু করেছেন। গাছের রস সংগ্রহ করার স্থানে তিনি ওই কীটনাশক প্রয়োগ করেন। এতে বিভিন্ন দেশী পাখি ওইসব গাছে রস পান করার কিছুক্ষণ পর ঝিমিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তার কিছুক্ষণ পর মারা যায়। এভাবে এ পর্যন্ত অন্তত শতাধিক পাখি নিধন করেছেন অসাধু ওই গুড় ব্যবসায়ী নাসির।

অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার বিকেলে বাঙ্গালা স্কুলপাড়া গ্রামের ওই খেজুর বাগানে গিয়ে সত্যতা মেলে। সেখানে অন্তত ১০টি খেজুর গাছ রয়েছে। ব্যবসায়ী নাসির এসব গাছের শিরায় (যেখানে কাটার পর রস বেরোয়) এসিআই কোম্পানীর কার্বোফুরান জাতীয় দানাদার কীটনাশক ‘ব্রিফার ৫ জি’ প্রয়োগ করেন। আর ওইসব খেজুর গাছের রস পান করে গত দু’দিনে শালিক, বুলবুলি, সাত ভায়রা, দোয়েল মিলিয়ে শতাধিক পাখি মারা গেছে। এসব পাখি পরে জবাই করে খাওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। খোঁজ করতে গিয়ে মৃত কয়েকটি পাখিরও সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি বুলবুলি পাখিকে রস পান করার পর মাটিতে পড়তে দেখেন এই প্রতিবেদক।

আলাপকালে নাসির হোসেন জানান, পাখি খুব জ্বালায়। গাছ কাটার পরপরই সব পাখি এসে রস খাওয়া শুরু করে। ফলে রসও কম পাওয়া যায়। পাখির জ্বালাতনের হাত থেকে বাঁচতে কীটনাশক দেয়া হয়। আমাদের লালপুরেও এভাবে পাখি মারা হয়। পাখি মারা ঠিক কি না জানতে চাইলে বলেন, তা তো ঠিক না। কিন্তু কি করবো বলুন।

এ বিষয়ে কথা হয় এলাকাবাসীর কয়েকজনের সাথে। ছকির উদ্দিন মোল্লা ও সোলেমান মুন্সী বলেন, এভাবে দেশী পাখি মারা ভাল কাজ নয়। পাখি তো প্রকৃতির বন্ধু। আমরা ওই গুড় ব্যবসায়ীকে নিষেধ করেছি পাখি মারতে। সে বলেছে আর বিষ দেবে না।

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে দেশী পাখি নিধন অব্যাহত থাকলে ক্ষতি হবে পরিবেশের ভারসাম্য। দেশী পাখি নিধনের দায়ে গুড় ব্যবসায়ী নাসির হোসেনের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

◷ ৮:১৬ অপরাহ্ন ৷ শুক্রবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৭ দেশের খবর