• আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘বর্তমান সরকারের আমলে হচ্ছে না কোটা সংস্কার’!


মহিবুল্লাহ্ আকাশ :: কোটা সংস্কারে গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি থেকে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন করে আসছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবীর মুখে জাতীয় সংসদে গত ১১ এপ্রিল ‘কোন কোটাই থাকবে না’ বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর আন্দোলন থেমে যায়। সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন চেয়ে ফের আন্দোলনে নামায় এই আন্দোলনে নের্তৃত্ব দেয়া কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে কমিটি গঠনের কথা বললেও কমিটি গঠন করা হয় প্রায় তিন মাস পর৷ এ নিয়ে কাজ করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমকে নির্দেশনা দেয়া হয়৷ গত ২রা জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোটা সংস্কারে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সেই কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়৷ কিন্তু সেই ১৫ দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে বেশ আগেই।

তাই বর্তমান সরকারের মেয়াদে সহসাই কোটা সংস্কারের সুরাহা হচ্ছে না। কারণ, নতুন করে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের জন্য গঠিত কমিটির মেয়াদ ৯০ কার্য দিবস (প্রায় চার মাস) বাড়ানো হয়েছে। সরকারের মেয়াদও চার মাস নেই। তাই এ সরকারের আমলে কোটা সংস্কার হচ্ছে না এটা অনেকটা নিশ্চিত।

জানা যায়, কমিটি গঠনের ছয় দিনের মাথায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ওই কমিটি একটি সভা করে। সেই সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রথম সভা শেষে বলা হয়, মূলত এই কমিটির কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই কর্মপন্থার প্রথম ধাপ হচ্ছে- কোটা সংক্রান্ত দেশে-বিদেশে যে তথ্য রয়েছে বা আমাদের বিভিন্ন সময়ে গঠিত কমিশন বা কমিটির যে প্রতিবেদন রয়েছে তা যত দ্রুত সংগ্রহ করা। এরপর আর কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সহসাই এই কমিটি আবারো বৈঠকে বসতে পারে। সেখানে সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর কয়েকটি বৈঠক করে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে। তবে যে প্রস্তাবনাই তৈরি করা হোক না কেন তা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় রেখেই করা হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এ ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের বিধান রয়েছে। এসব নিয়ে আপত্তি তুলেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো- কোটা সংস্কার করে ৫৬ থেকে ১০ শতাংশে কমিয়ে আনা, কোটা প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া, চাকরি নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া এবং চাকরি ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাট মার্ক ও বয়সসীমা নির্ধারণ করা। আন্দোলন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মুক্তির দাবিতে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি চলছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

◷ ৩:৩৫ অপরাহ্ন ৷ রবিবার, জুলাই ২২, ২০১৮ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ, শিক্ষাঙ্গন