বগুড়ায় শিক্ষা অফিসারের অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে তদন্তকারী দল

১০:০৫ অপরাহ্ন | রবিবার, জুলাই ২২, ২০১৮ দেশের খবর, রাজশাহী

এম নজরুল ইসলাম, বগুড়া করেসপন্ডেন্ট :: প্রাথমিক শিক্ষা নীতমালা লংঘন করে শিক্ষক বদলী বাণিজ্য, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির টাকা আত্মসাৎ, ক্ষুদ্র মেরামত স্লীপের টাকার ভ্যাট প্রদানের অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে। এর ফলে একদিকে যেমন ভেঙে পড়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা, অন্যদিকে শিক্ষকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি সহকারে গত মে মাসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগের তদন্তে সতত্যা পেয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অভিযোগ সুত্রে ও অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানা। সম্প্রতি তিনি শিক্ষক বদলী নীতিমালা ৬.০ এর ৬.৪ লংঘন করে সাজাপুর ফুলতলা ও আড়িয়া রহিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সমন্বয়ের নামে বদলী করেছেন। উপজেলা শিক্ষা কমিটির রেজুলেশন লংঘন করে তিনি উপজেলার বাহিরে থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পূর্ব গোবিন্দপুর, সোনাকানিয়া, পানিহালি, কড়িআঞ্জুল ও শৈলধুকরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলী করে এনেছেন। নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মোটা অর্থের লোভে দাপুটে শিক্ষা অফিসার গাইবান্দা জেলা থেকে মাসুমা নামের একজন প্রধান শিক্ষিকাকে পৌরসভার এলাকার হেলেঞ্জাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করে নিয়ে এসেছেন। অথচ সেখানে উপজেলার রামচন্দ্রপুর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি আবেদন করেও শিক্ষা অফিসারের চাহিদা মত টাকা দিতে না পারায় তাকে বদলী করা হয়নি। নীতিমালা বহির্ভূত ভাবে বেতগাড়া বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নূর মহলকে তিনি ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করেন। কিন্তু নুর মহলের পদ শুন্য না হতেই ঘুসের বিনিময়ে তিনি লক্ষীকোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল হককে বেতগাড়ী বিদ্যালয়ে একই সঙ্গে বদলীর প্রস্তাব পাঠান। এতে বেতগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুন্য পদে কেউ আবেদন করার সুযোগ পাননি। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সর্বমোট ২০/২২টি শিক্ষক বদলী বাণিজ্য করে নিজেকে আওয়ামীলীগের লোক হিসেবে জাহির করে প্রায় ১৫/১৬ লক্ষ টাকা শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানা পকেটে তুলেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়েছে।

এছাড়াও বিদ্যালয়ের ১ম. ২য় ও বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির ছাপানো খরচ বাদে অবশিষ্ট ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রতি বছর আত্মসাৎ, ক্ষুদ্র মেরামত স্লীপের কাজের ভ্যাটের টাকা অতিরিক্ত নিয়ে পকেটে তোলার অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা হলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানা জানান, কোন অনিয়ম হয়নি। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বদলী সম্পন্ন করা হয়েছে।

রবিবার (২২ জুলাই) উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি সরকার বাদল এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে সকল অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়গুলো আগামী শিক্ষা কমিটির মিটিংয়ে আলোচনায় নিয়ে আসা হবে। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাতলা পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট আজিজার রহমান তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের তদন্ত গত জুন মাসের ২৪ তারিখে সরেজমিনে গিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। অনিয়ম করে শিক্ষক বদলীর সতত্যা পাওয়া গেছে। তবে ঘুষ নেওয়ার সতত্যা মিলেনি। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।