কলকাতায় বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে ‘বজ্রনিরোধক যন্ত্র’ দিচ্ছে রাজ্য সরকার, বাংলাদেশে?

৬:০৭ অপরাহ্ন | সোমবার, জুলাই ২৩, ২০১৮ আন্তর্জাতিক, স্পট লাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভারতের কলকাতার নিউ টাউনের বহুতলে বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করছে নিউ টাউন–কলকাতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (‌এনকেডিএ)‌। এখন যেখানে যারা বাড়ি বানাচ্ছেন, তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা বজ্র প্রতিরোধক বসিয়ে নেন। পরে আইন সংশোধন করে তা বাধ্যতামূলক হতে চলেছে।

কোন কোন বাড়িতে সেগুলি বসানো হয়েছে, সে ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। জীবন, সম্পদ নিরাপদে রাখতে এই উদ্যোগ নিয়েছে তারা। বজ্রপাতে প্রাণহানি ঠেকাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বসানো হয়েছে যন্ত্র। যার সাহায্যে বজ্রপাত হবে কি না, আগাম বলা যাবে। অন্ধ্রপ্রদেশে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। সেটি বেশ সফলও হয়েছিল। তাই চলতি বছরে রাজ্য ওই যন্ত্র বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এবং সেই যন্ত্র কাজেও লেগেছিল। কোথায় বজ্রপাত হতে পারে, পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। তাই মানুষকে সতর্ক করে প্রাণহানি কমানো গিয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা–সহ রাজ্যে বজ্রপাতের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। ফলে সে ব্যাপারে আগাম জানার সুযোগ থাকলে ক্ষয়ক্ষতি আরও কমানো যেতে পারে। উঁচু বাড়িতে বাজ পড়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাচ্ছে। তাই সেখানে বজ্র প্রতিরোধক ব্যবস্থা রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে বাজ পড়লেও প্রাণহানি বা বাড়ির ক্ষতি কমানো যায়।

ঠিক হয়েছে, পাঁচতলা বা তার বেশি উঁচু বাড়িতে ওই ব্যবস্থা রাখতে হবে। এনকেডিএ জানিয়েছে, ভবনের নকশা অনুমোদনের সময়, অকুপেন্সি সার্টিফিকেট (‌ওসি)‌ অথবা পার্শিয়াল অকুপেন্সি সার্টিফিকেট (‌পিওসি)‌ দেওয়ার সময় বজ্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তার তথ্য নথিভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, যাঁদের ভবনে এই ব্যবস্থা রয়েছে, তাঁদের এ ব্যাপারে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। সেই ভবনটি কোন প্লটে, ভবনের নাম, মাটি থেকে বজ্র প্রতিরোধী কত উঁচুতে রয়েছে, তা জানাতে হবে।

হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন জানান, ‘‌মানুষের জীবন, সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি রুখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবেদন করব উঁচু বাড়িতে বজ্র প্রতিরোধক বসানোর। তা থাকলে ক্ষতির সম্ভাবনা অনেকটা কমানো যেতে পারে।’‌ হিডকো সূত্রে খবর, এখন ভবন নির্মাতাদের পরামর্শ দেওয়া হলেও আগামী দিনে তা বাধ্যতামূলক করতে আইন সংশোধন করা হবে।

এদিকে, বাংলাদেশেও বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি বছর শুধুেএপ্রিল-মে মাসেই বজ্রপাতে সারাদেশে প্রায় দু’শ জনের মত মানুষ মারা গেছেন। প্রতিবছরই এই সংখ্যা বাড়তে থাকে। এমন অবস্থায় আমাদের ঠিক পাশের দেশে এ উদ্যোগ নিলেও বাংলাদেশেও প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে এমন যন্ত্র বসানোর ব্যাপারেও চিন্তা করার সময় এসেছে বলে মনে করেন সচেতনমহল।