বিচারকের বিরুদ্ধে ঢাকায় ধর্ষণের মামলা!

৭:২১ অপরাহ্ন | সোমবার, জুলাই ২৩, ২০১৮ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- নারায়ণগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো. জুয়েল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন এক নারী।

সোমবার (২৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলা করেন ঝালকাঠির নলছিটি থানার আমিরাবাদ এলাকার ওই নারী।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামসুন্নাহার বাদীর জবানবন্দি নেওয়ার পর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমকে (সিএমএম) বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী রায়হান মোর্শেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৫ সালে মো. জুয়েল রানা ঢাকা জজ কোর্টে অতিরিক্ত জেলা জজ থাকাকালে বাদীর একটি পারিবারিক রিভিশন মামলার বিচার কাজ চলছিল। সে সময় জুয়েল রানা নিজেই তাকে ফোন করে আদালতে অস্থায়ী স্টেনোগ্রাফার হিসেবে চাকরি দেন। এরপর সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিতে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেন। সে অনুযায়ী, আদালতে নিয়োগ পরীক্ষাও দেন তিনি। তবে সরকারি চাকরি না হওয়ায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে চলে যান।

বিচারক জুয়েল রানা বাদীকে ফোন করে আসতে বলেন এবং না এলে পারিবারিক মামলা আপিলে এলে ক্ষতি করবেন বলেও হুমকি দেন। বাদী বাধ্য হয়ে অফিসে আসেন এবং বিচারকের অধীনে কাজ করতে থাকেন। এরপর ২০১৫ সালের ৮ জুন বিচারক জুয়েল রানা বাদীকে তার স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে বাসায় নিয়ে যান। বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে মাথায় রিভলবার ঠেকিয়ে করে তিনবার ধর্ষণ করেন। এই ঘটনা সম্পর্কে বাদী কাউকে কিছু জানালে খুন করে ফেলবেন বলে হুমকি দেন।

ওই বাসা থেকে বের হয়ে বাদী ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর বাদী অসুস্থ হলে আসামিকে জানান এবং তাকে বিয়ে করে চিকিৎসা করাতে বলেন। ওই বছরের ৮ নভেম্বর আসামি র‌্যাবের এক কর্মকর্তাকে বাদীর বাসায় পাঠান এবং ধর্ষণ সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্রসহ বাদীকে আসামির কাছে নিয়ে আসেন। এরপর ২০ পিস ইয়াবাসহ খিলক্ষেত থানায় একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে বাদীকে জেলে পাঠান।

জামিনে মুক্ত হয়ে ধর্ষণের কাগজপত্রের ডুপলিকেট কপি তোলার চেষ্টা করলে আসামি ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই অজ্ঞাতপরিচয় লোক পাঠিয়ে বাদীকে তুলে আনেন এবং রমনা থানায় নিজে বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের একটি মামলা করেন।