সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জীবন হাতে নিয়ে উত্তাল পদ্মা পারাপার!

১২:৫০ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জুলাই ২৪, ২০১৮ ঢাকা, দেশের খবর

ফরিদপুর প্রতিনিধি :: ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর গোপালপুর ঘাট থেকে মৈনট নামক ঘাটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পারাপারসহ ঘাট মালিকদের বাড়তি ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, চরভদ্রাসন থেকে ঢাকা যাওয়ার একমাত্র সহজ ও দ্রুততম পথ হচ্ছে এই নদী পথ। মাত্র ২০ মিনিটে স্প্রীট বোডে আর ৫০ মিনিটে ট্রলারে খুব অল্প সময়েই যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারে।

কিন্তু বর্ষা মৌসুম আসলেই পদ্মার চেহারা যেন একটু ভয়ংকর রুপ ধারণ করে। পানি বাড়ার সাথে সাথে পদ্মা ফিরে পায় তার পূর্ণ যৌবন। আগ্রাসী ও ভয়ংকর হয়ে উঠে পদ্মার তীব্রতা। গভীরতা ও বাতাসের মিশ্রনে মাঝে মাঝেই পদ্মার বুকে ভয়ংকর ঢেউয়ের মাতলামিতে মেতে উঠে পদ্মা।

মাঝে মাঝে ও বৈরি আবহাওয়ায় কখনও কখনও ঢেউয়ের দুলুনিতে স্প্রীট বোড ও ট্রলারগুলো প্রায় ৩/৪ ফুট পানির উপরে উঠে যায়। যেখানে চালকের বিন্দুমাত্র অসতর্কতা ও অসাবধানতার কারণে ঘটতে পারে জীবননাশের মত বড় যে কোন দুর্ঘটনা। এদিকে, গোপালপুর ঘাট এবং মৈনটঘাটের স্প্রীট বোড ও ট্রলার চালকদের অদক্ষতা, যাত্রীদেরকে লাইফ জ্যাকেট না দেওয়া, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ ঘাট মালিকদের

মৈনট ঘাট থেকে স্প্রীট বোডে চরভদ্রাসনে আসা এক ম্যাজিস্ট্রেট ও তাঁর এক সহকর্মী ক্ষোভের সাথে সাংবাদিকদের জানান, আজ পদ্মায় প্রচুর পানির ঢেউ ছিল। এসময় আমরা সবাই বোডে পানি ও ডুবে যাবার ভয়ে চালকের কাছে লাইফ জ্যাকেট চাইলে, চালক আমাদেরকে লাইফ জ্যাকেট দিতে অস্বীকৃতি জানায় ও সে আমাদের সাথে প্রচুর বাজে ব্যবহার করে বলে জানান তারা। তারা এসময় আরো বলেন, আমরা যে আজকে পদ্মা নদী থেকে জীবন নিয়ে বেঁচে ফিরতে পারবো এটা কখনই ভাবিনি।

সরেজমিনে উক্ত পদ্মা নদীর ঘাট ঘুরে দেখা যায়, ঘাট মালিকরা যাত্রীদের কাছ থেকে স্প্রীট বোডের ভাড়া জনপ্রতি ১৬০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে। অপরদিকে গত শনিবার দিনভর পদ্মায় প্রচুর ঢেউ থাকলেও বাধ্য হয়েই প্রয়োজনের তাগিদে যাত্রীদেরকে অতিরিক্ত ভাড়ার টাকা গুণেই প্রচুর ঢেউয়ের মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই এপার ওপার নদী পারাপার হতে হচ্ছে।

অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া ও লাইফ জ্যাকেট না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সৌদিআরব প্রবাসী নাজমুল নামে এক যাত্রীসহ একাধিক যাত্রীরা এসময় স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে জানান, চালক ও ঘাট মালিকরা নদী পারাপারে আমাদের কোন লাইফ জ্যাকেট দেয়না। তাই আমাদের বাধ্য হয়েই প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই পদ্মা নদী পারাপার হতে হয়। তারা এসময় আরো জানান, চালক ও ঘাট মালিকরা আমাদেরকে তো লাইফ জ্যাকেট দিচ্ছেই না। তারপর আবার ঘাট মালিকরা আমাদের কাছ থেকে স্প্রীট বোডের ভাড়া জনপ্রতি ১৬০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা করে বেশি ভাড়া নিচ্ছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে ঘাট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে ঘাট মালিক বজলু মৃধা জানান, যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট পড়তে চায় না তাই দেওয়া হয়না। এসময় সাথে সাথে স্প্রীট বোডের এক যাত্রী সাংবাদিকদেরকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ভাই আমরা লাইফ জ্যাকেট ছাড়া যাব না। সাংবাদিক ভাই আমাদেরকে লাইফ জ্যাকেট দিতে বলেন, এই দেখেন আমরা চাইলেও চালক ও ঘাট মালিকরা আমাদেরকে কখনও লাইফ জ্যাকেট দিতে চায়না।

যাত্রীদের সাথে খারাপ ব্যবহার, ভাড়া বেশি নেওয়া ও লাইফ জ্যাকেট না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ঘাট মালিক বজলু মৃধা জানান, ঢেউয়ের সময় ঘাটে যাত্রী পারাপার কম হয় দেখে আমরা এসময় যাত্রীদের কাছ থেকে একটু বেশি ভাড়া নেই। তবে, আমার কোন চালক যদি যাত্রীদেরকে লাইফ জ্যাকেট না দিয়ে থাকে ও যাত্রীদের সাথে কোন রকম খারাপ ব্যবহার করে থাকে বিষয়টি আমার জানা নাই। তবে এরকম কিছু ঘটে থাকলে ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক জানান তিনি।

যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, লাইফ জ্যাকেট না দেওয়া ও যাত্রীদের সাথে চালকদের খারাপ ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুন নাহার যাত্রীদের অভিযোগের সাথে একমত পেশ করেন। তিনি আরো বলেন এ ঘাটটি ইজারাদার দেওয়ার ক্ষমতা হচ্ছে বিভাগীয় কমিশনার ঢাকা। এখানে ‘ইউএনও’ ও ডিসির কোন কথা নাই, কোন কিছু নাই। এটা একটা লোকাল ঘাট। আমি এ ঘাটের অনিয়ম বন্ধে বেশ কয়েকবার মোবাইল কোর্ট ও বার বার হস্তক্ষেপ করার পরও আমার কথা কেউ শুনছেনা। আপনারা নিউজ করেন, আমি আপনাদের সাথে আছি বলেও তিনি জানান।