সন্তান রেখেই ৪৬৩ বাবা-মাকে দেশে ফিরতে বাধ্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র

১:৫১ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জুলাই ২৪, ২০১৮ আন্তর্জাতিক, স্পট লাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় আটক করে অনেক বাবা-মাকে তাদের সন্তানদের কাছ থেকে আলাদা করা হয়েছিল। পরে সন্তানদের আটক রেখে সাড়ে চার শতাধিক অবৈধ অভিবাসী বাবা-মাকে দেশে ফিরতে বাধ্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে কেন্দ্রীয় সরকার ও আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন-এসিএলইউ যৌথভাবে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের

গত এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন ইস্যুতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে অভিবাসীদের আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাদের শিশু সন্তানদের পরিবারবিছিন্ন করা হচ্ছিল।

কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, অভিভাকদের কাছ থেকে পৃথক করে দিলে শিশুদের দেখার জন্য মরিয়া ওই অভিভবাকরা প্রত্যাবাসিত হওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। পরিবার বিচ্ছিন্ন করে ফেলা প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে এসব শিশুকে আটক রেখেই অনেক বাবা-মাকে তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে জুন মাসে ওই নীতি থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এরপর শিশুদের তাদের বাবা-মায়ের কাছে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশে ফেরত পাঠানো বাবা-মায়ের সন্তানদের নিয়ে এখন নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সোমবার আদালতে উপস্তাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৪৬৩ জন বাবা-মার সন্তানকে রেখেই নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আদালতে এসব বাবা-মায়ের দেশত্যাগের কথা জানানো হলেও তার কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তাদের অনুপস্থিতির বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আইনজীবীরা ‘পর্যালোচনার অধীন’ বলে দাবি করেছেন।

একজন কেন্দ্রীয় বিচারপতির নির্দেশ মোতাবেক, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এসব বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের সন্তানদের পুনর্মিলনের জন্য সরকারের ওপর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এর আগে সরকারি কর্মকর্তারা কিছু বাবা-মায়ের দেশত্যাগের কথা স্বীকার করলেও তার সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার পর্যন্ত ৮৭৯ জন বাবা-মাকে তাদের সন্তানদের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।