ডিবির এএসআই থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী!

◷ ১২:৪৭ অপরাহ্ন ৷ বুধবার, জুলাই ২৫, ২০১৮ আলোচিত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি- নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মাদকবিরোধী অভিযানে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) বরখাস্তকৃত এএসআই সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জে র‌্যাবের মাদক বিরোধী অভিযানে ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির নগদ টাকাসহ সুমন (২৫) নামে এক ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১।

তাকে গ্রেপ্তারের পরই জানা যায় সালাউদ্দিন নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের একজন বরখাস্তকৃত এএসআই। তবে অভিযান চলাকালে সালাউদ্দিন ও তার ড্রাইভার জাসিম র‌্যাবের উপস্তিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র এএসপি জসিমউদ্দীন চৌধুরী এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সোমবার র‌্যাব-১১ এর অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন কদমতলী এলাকায় ফ্রেন্ডস টাওয়ার ও সদর থানাধীন নগরখানপুর এলাকায় সালাউদ্দিনের দুইটি ভাড়া বাসা হতে মোট ৫ হাজার ৬২০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ৯ লক্ষ ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সালাউদ্দিন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও কদমতলীর ভাড়া বাসা হতে তার সহযোগী সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে র‌্যাব-১১ এর অভিযানে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা হতে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় সালাউদ্দিন নামক একজন পাইকারি ইয়াবা বিক্রেতার নাম উঠে আসে যে নিজের প্রাইভেটকারে ইয়াবা বিক্রেতাদের কাছে ইয়াবা পৌঁছে দেয়। কয়েকদিন আগে গোপনসূত্রে কদমতলী এলাকায় ফ্রেন্ডস টাওয়ারে সালাউদ্দিনের একটি ভাড়া বাসার সন্ধান পাওয়ার পর র‌্যাব-১১ ওই বাসার উপর নজরদারি শুরু করে।

পরবর্তীতে সোমবার সন্ধা সাতটার দিকে কদমতলীর ফ্রেন্ডস টাওয়ারের ভাড়া বাসায় সালাউদ্দিনের অবস্থান জানতে পেরে র‌্যাব-১১ অভিযান করে। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সালাউদ্দিন ও তার ড্রাইভার জসিম পালিয়ে গেলেও, তার সহকারী সুমন গ্রেপ্তার হয়।

গ্রেপ্তারকৃত সুমনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাসার মালিক আলমাস ও কেয়ারটেকারকে সাথে নিয়ে সালাউদ্দিনের বাসায় তল্লাশী চালিয়ে ৫ হাজার ২শ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ৮ লাখ ৫০ হাজার ৪শ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরে রাত ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন নগরখানপুর এলাকায় সালাউদ্দিনের অপর ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ৪শ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির ৫০হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, বরখাস্তকৃত এএসআই সালাউদ্দিন পুলিশের ডিউটির ধরণ, মাদকবিরোধী অভিযানের পদ্ধতি সহ অপরাধ নিয়ন্ত্রনে পুলিশের কর্মকৌশল সম্পর্কে ধারণা থাকায় সে আইনশৃংখলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে সহজেই মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে গ্রেপ্তারকৃত আসামী এবং পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের তথ্য মতে, গ্রেপ্তারকৃত সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও টাকার মালিক সালাউদ্দিন পুলিশের একজন বরখাস্তকৃত এএসআই। মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রায় ৭ মাস পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে বরখাস্ত হয়। সেই থেকে সালাউদ্দিন পলাতক। তবে তিনি এখনো নারায়ণগঞ্জ ডিবির অফিসার পরিচয় দেন নিজেকে।

স্থানীয় লোকজন তাকে সালাউদ্দিন স্যার ও ডিবি স্যার হিসেবে চিনে। ইতোমধ্যে তিনি মাদক ব্যবসা করে অগাধ অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। নিজ মালিকানাধীন ৩টা প্রাইভেটকার রয়েছে যেগুলো ইয়াবা পরিবহন ও সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। জসিম, ওসমান ও বাহাদুর নামের তিনজন ব্যক্তিগত ড্রাইভারও আছে। নারায়ণগঞ্জ শহরে রয়েছে “জেন্টস পার্লার” নামক বিউটি পার্লার। মাদক ব্যবসার আর্থিক হিসাব দেখাশোনার জন্য রয়েছে রয়েছে ব্যক্তিগত সহকারি।

গ্রেপ্তারকৃত সুমন বেতনভোগী কর্মচারি হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত সালাউদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারির দায়িত্ব পালন করে আসছে। জসিম, ওসমান ও বাহাদুর প্রাইভেটকারে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন মাদক স্পটে নিয়মিত ইয়াবা পৌঁছে দেয়।

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে সুমন সালাউদ্দিনের নির্দেশ মতে ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং ও এসএ পরিবহণের মাধ্যমে কক্সবাজারের ইয়াবা সরবরাহকারীদের কাছে নিয়মিত টাকা পাঠিয়ে থাকে।