মিরপুর বাঁচাতে হলে আগে বাউনিয়া খাল বাঁচাতে হবে

২:৩২ অপরাহ্ন | বুধবার, জুলাই ২৫, ২০১৮ ঢাকা, দেশের খবর

রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার: টানা বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীর মিরপুরসহ গোটা নগরবাসী। মিরপুরের  অলিগলিসহ প্রধান সড়কগুলোর বেশির ভাগই পানির নিচে থাকায় অনেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এ অবস্থায় আরও দুঃসংবাদ- টানা এ বৃষ্টি চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

এমন হলে শুধু মিরপুর নয়, রাজধানীর বেশ কিছু সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়বে নগরবাসী। মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) দুই ঘন্টার বৃষ্টিতে মিরপুর ১০ নাম্বার থেকে কাজিপাড়া শেওড়াপাড়া সড়কে কোমর সমান পানি জমেছে। এদিকে মিরপুর কালশী রোডে কোমর পানিও ছাড়িয়ে গেছে। মিরপুর ১৪ নাম্বার সড়কও পানির নিচে।

আগারগাঁও থেকে মিরপুর ১২ নম্বর পযর্ন্ত মেট্রোরেলের কাজ চলছে। এতে এই সড়কের অর্ধেকেই প্রায় বন্ধ। এ কারণে রাস্তা সরু হয়ে দু‘দিকে পানি জমে আশপাশের দোকানপাটে ঢুকে পড়েছে।

বৃষ্টির পর ১০ নাম্বার থেকে কাজিপাড়া শেওড়াপাড়া সড়ক প্রায় বন্ধই ছিল। এই সড়কে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকা পড়েছে শত শত পরিবহন। ফলে অন্য পরিবহনগুলোকে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে দেখা যায়। এতে পুরো মিরপুরে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পায়নি মিরপুর-১, ৬ ও ১০ নম্বর আল-হেলাল হাসপাতালের পাশের সড়ক, মিরপুর ১২ ও ১৩ নম্বরও। বসুন্ধরা আবাসিক ৩০০ ফিট থেকে এফ ব্লক পর্যন্ত এবং ধানমন্ডির রাফা প্লাজার আশপাশের সড়ক পানির নিচে রয়েছে।

এ ছাড়াও পুরাতন ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড, নাজিরা বাজার, বংশালসহ বিভিন্ন সড়কে পানি জমেছে। মিরপুর ১০ থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত বেশির ভাগই সড়কই পানির নিচে। বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে নদীর মতো সড়কের ওপর পানির স্রোত। অনেক প্রাইভেট কার আশপাশে বিকল হয়ে পড়ে আছে।

শাওন নামে একজন জানান, মিরপুর পুরবী থেকে ১০ নাম্বার ‍উত্তাল ঢেউ পার হয়ে আসতে ২ ঘন্টা লাগলো। চলতি সপ্তাহে দেশে তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠে ছিলো। সপ্তাহের শেষ প্রান্তে জলে ভাসছে এখন মানুষ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, টানা কয়েকদিন এ বৃষ্টি চলবে। যে কারণে আবহাওয়া ২৮ ও ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই থাকবে।

মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত ঢাকায় ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার পযন্ত টানা বৃষ্টি এবং শুক্রবারও হালকা বৃষ্টি হবে। এরপরে ধীরে ধীরে বৃষ্টি থামবে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এই মৌসুমি বায়ু সারা দেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে।

এছাড়া মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে, ১৪২ মিলিমিটার। সন্দীপে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৮৫ মিলিমিটার। আর চট্টগ্রাম ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব মোঃ জামাল মোস্তফা বলেন, মিরপুরকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে বাঁচাতে হলে আগে বাউনিয়া খাল বাঁচাতে হবে। পাশাপাশি রাজধানী বাঁচাতে হলে সমগ্র রাজধানীর পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ বেদখলকৃত সরকারী খালগুলিকে আগে বাঁচাতে হবে। এ খালগুলি পূনরূদ্ধার করে সংস্কারের ব্যবস্থা না করলে ঢাকা মহানগরীর জনদূর্ভোগ সৃষ্টিকারী জলাবদ্ধতা কোনদিনই দূর করা সম্ভব হবেনা। মিরপুরে জলাবদ্ধতার সুনির্দিষ্ট কিছু কারন থাকলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অগ্রাহ্যের কারনে সেগুলো নিরসন করা সম্ভব হচ্ছেনা।

বৃহত্তর মিরপুরের বর্ষার পানি নিষ্কাশনে বাউনিয়া খালটিই ভরসা। কিন্ত প্রভাবশালী কুচক্রীমহল ও ভূমি মন্ত্রনালয়ের ভাষানটেক পূনর্বাসন ও জয়নগর প্রকল্পের নামে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এই খালটি বেদখল করে রাখায় সামান্য বৃষ্টিতেই সমগ্র মিরপুরে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বার বার ষাট ফুট খালটি দখলমুক্ত করার চেষ্টা করেও প্রভাব শালী মহলের বাধার সম্মুখীন হয়েছি। জরুরী ভিত্তিতে এই ষাট ফুট খালটি দখলমুক্ত  করলেই মিরপুর, কাফরুল, ক্যান্টনমেন্ট, পল্লবী ও তুরাগ থানা এলাকার এই জনদূর্ভোগ সৃষ্টিকারী জলাবদ্ধতা দূরীকরন সম্ভব। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন সহ তার সক্রিয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন জামাল মোস্তফা।