ফুলবাড়ীতে পাটের বাম্পার ফলন, পানির অভাবে পাট পঁচাতে পারছেন না কৃষক!

৩:৩৬ অপরাহ্ন | বুধবার, জুলাই ২৫, ২০১৮ অর্থনীতি, দেশের খবর, রংপুর

অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে এ বছর পাটের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় বিস্তৃত কৃষকের মাঠে মাঠে দু-চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ। যেন চারিদিকে সবুজের রঙে ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ আর মাঠ। নয়ন জুড়ানো দৃশ্য মেতে উঠেছে ফসলের মাঠে। এখন মাঠ জুড়ে সবুজ রঙে সাজিয়ে তুলিছে প্রকৃতির অপরুপ রুপ। এ বছর আবহাওয়া অনুকুল থাকায় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে পাট চাষ গত বছরের চেয়ে ভাল ফলন হয়েছে।

এদিকে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেলেও শতাধিক পাট চাষি পানির অভাবে পাট ঝাঁক দিতে না পারছে না। ফলে বর্ষা ভরা মৌসুমেও বৃষ্টিপাত না হওয়ায় শতাধিক চাষি জমিতে পাট কাঁটতে না পাড়ায় দুচিন্তায় পড়েছেন। কিছু কৃষক আমন রোপনের জন্য তরিঘরি করে দিগুন পরিবহন খরচ ব্যয় করেও পাট কেটে ভ্যান যোগে দুই থেকে তিন কিলোমিটার দুরে ধরলা নদী ও বারোমাসিয়া নদীতে পাট জাক দিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সরাসরি কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে আসছে। পাশাপাশি কৃষকদের পাট ক্ষেত দেখে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক কৃষক পাট কেটে নিজ এলাকা থেকে অন্য এলাকা নিয়ে পানিতে জাক দিচ্ছে। তারপরেও পাটের বাম্পার ফলন দেখা দেওয়ায় কৃষকরা ভালো দামের স্বপ্ন দেখছেন। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ১০ থেকে ১২ মন করে ফলন হতে পারে বলে জানান কৃষি অফিস ও প্রান্তিক কৃষকরা।

ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের পাট চাষি অমুল্ল্য বর্মন জানান, পাটের উৎপাদন খরচ খুবেই কম। পাটে দুই বার নিরানী দিলেই চলে। বর্তমানে ঘাস মারা ঔষধ দিয়ে একবার নিরানী দিলেই হয়।। ভাল ফলন হলে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে মন পাট ঘরে আসবে। বর্তমান পাটের বাজার মূল্য ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা। এ ছাড়াও প্রতি বিঘায় পাট খরির বোঝা ২০০ থেকে ২৫০ টি হয়। প্রতি বোঝা পাট খরির মূল্য ১০ টাকা। এ বছর খরা মৌসুমে পানির অভাবে ৩ বিঘা জমির পাট পঁচানো নিয়ে দুশ্চিন্তা পড়তে হচ্ছে।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক তৈয়ব আলী, কাশেম আলী ও সুবল চন্দ্র জানান, আমরা এক সময় ব্যাপক হারে পাট চাষ করতাম। তখন পাটের ন্যায্য মূল্য পেতাম। মাঝ খানে কয়েক বছর আগে উৎপাদন খরচ বেশি ও বাজার মূল্য কম থাকায় পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় বর্তমান পাটের উৎপাদন খরচও কিছুটা কমেছে। সেই সাথে পাটের মূল্য ও বেড়েছে। পাটের বাজার মূল্য অব্যাহত থাকলে কৃষকরা আরও বেশি করে পাট চাষে ঝুঁকবেন। কিন্তু এ বছর বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা নেই। ফলে কৃষকরা পানির অভাবেই শত শত বিঘার পাট পঁচাতে পারছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা পাট চাষ করেছে। বিগত বছরগুলোয় পাটের বাজারদর মন্দা থাকায় পাট চাষে কৃষকরা কিছুটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব পাটের মোড়ক ব্যবহার করায় এখন পাটের বাজার দর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। ফলে কৃষকদের দিনদিন পাট চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

তিনি আরও জানান, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পাটের গুনগত মান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি এ বছর পাটের বাজার মূল্যসহ সব ধরেণের সহযোগিতা সরকার করবে। তবে এ বছর জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা নেই। ফলে কিছু কিছু কৃষক পানির অভাবে পাট পঁচাতে পারছেন।