বাউফলে পুলিশের কাছ থেকে ধর্ষণ মামলার ‘আসামীকে ছাড়িয়ে নিলেন চেয়ারম্যান’

৬:৩৮ অপরাহ্ন | বুধবার, জুলাই ২৫, ২০১৮ দেশের খবর, বরিশাল

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাদা হাওলাদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার আসামীকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার নওমালা ইউনিয়নে ঘটে এ ঘটনা। এ সময়ে ওই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন – বাউফল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা পিজুস চন্দ্র দে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকালের দিকে নওমালা ইউনিয়নের নগরের হাট এলাকা থেকে ধর্ষণ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী করিম হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। এ সময়ে ওই আসামীকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশকে ঘিরে ধরে ওই আসামীর স্বজনরা। পুলিশের সাথে এ নিয়ে তর্কবির্তকের সৃষ্টি হয়। এ সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা পিজুশ চন্দ্র দে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাদা হাওলাদার। শাহজাদা হাওলাদার এসে ওই আসামীকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেলে এক পর্যায়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেন আসামী করিম হাওলাদার ও তার স্বজনরা।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই। তবে করিম হাওলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রয়েছে।

বাউফল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বলেন, নওমালা একটি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নির্বাচন থাকায় সেখানে কিছু লোককে জড়ো হতে দেখে আমি পুলিশকে বলেছি যাতে দ্রুত ওই জমায়েত ভেঙ্গে দেওয়া জন্য। ওই খানে কোনো আসামী ছিল কিনা আমার জানা নেই।

নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাদা তালুকদার বলেন, ছয় মাস পূর্বে বাদী বিবাদী নিজেদের মধ্যে বিষয়টি আপোষ মিমাংসা করেছে। আদালত থেকে বাদী মামলা তুলে নিয়েছে এখানে পুলিশের কাছ থেকে আসামী ছাড়িয়ে নেওয়ার কি আছে। তবে ধর্ষণ মামলাটি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মিমাংসার কথা স্বীকার করেছেন মামলার বাদী নির্যাতিতা মেয়ের মা ফরিদা বেগম।

তবে সংশ্লিষ্ট নারী শিশু বিশেষ ট্রাইব্যুনালে খবর নিয়ে যানা গেছে, ধর্ষণ মামলাটি বিচারাধিন রয়েছে। আসামী হাজির না হওয়ায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর মামলার পরবতী হাজিরার দিন ধার্য্য রয়েছে।

উল্লেখ,  এই মামলায় করিম হাওলাদার ছাড়াও মাসুম, জসিম ও মনির নামের আরও তিন আসামী রয়েছেন। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে।