সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পুলিশের গাড়িতেই একাধিকবার মহিলার সাথে শারীরিক সম্পর্ক!

৭:০৬ অপরাহ্ন | বুধবার, জুলাই ২৫, ২০১৮ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- রক্ষকই ভক্ষক! বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ উঠল জেলা পুলিশের অন্যতম বড় কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই। ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে এমনই ভয়ঙ্কর অভিযোগ এনেছেন এক মহিলা।

কলকাতার আনন্দপুর আরআর প্লটের এই বাসিন্দার অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে দিনের পর দিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এই পুলিশ অফিসার।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। পরে বারুইপুর পুলিশ সুপারের দফতরে গেলে ওই মহিলাকে মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে নির্যাতিতা মহিলা মঙ্গলবারই ডিআইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ সুনীল চৌধুরীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নির্যাতিতা মহিলার দাবি, ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাস নাগাদ যখন সন্দীপ মণ্ডল খড়্গপুরের এসডিপিও পদে নিযুক্ত ছিলেন, তখনই ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়। ফেসবুকে কথা বলতে বলতে ক্রমে তাঁদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। এরপর ফেসবুকের গণ্ডি ছাড়িয়ে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ গড়ে ওঠে। আর সেখানেই নাকি বারে বারে বিবাহবিচ্ছিন্না ওই মহিলাকে গভীর ভালবাসার কথা জানান সন্দীপবাবু।

২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস নাগাদ ওই মহিলার সঙ্গে কলকাতায় পুলিশের গাড়ি নিয়েই দেখাও করতে আসেন সন্দীপ মণ্ডল। দীর্ঘক্ষণ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরির পর ফাঁকা গাড়ির মধ্যেই মহিলার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। ওই মহিলা বাধা দিতে গেলে তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন ওই পুলিশকর্তা।

পরে মহিলার বাড়িতে এসে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেও বিয়ের কথা বলেন। এরপর একাধিকবার একই ভাবে গাড়ির মধ্যেই মহিলার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠছে সন্দীপবাবুর বিরুদ্ধে।

ইতিমধ্যে সন্দীপবাবু বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি হয়ে চলে আসেন। ওই মহিলা তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিতেই তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন পুলিশকর্তা। ফোনে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন।

ওই মহিলা বিধাননগরে তাঁর অফিসে গিয়ে দেখা করলে ফের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কিন্তু কোনও ভাবেই ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাননি সন্দীপবাবু। বছর খানেক আগে সেখান থেকে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়াটার্স) হিসেবে বদলি হয়ে আসেন তিনি। অভিযোগ, এখানে এসেও একই ভাবে ওই মহিলাকে এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন।

কিছু দিন আগে বারুইপুরে সন্দীপ বাবুর দফতরে আসেন ওই নির্যাতিতা। অভিযোগ, সেখানে এলে তাঁকে মারধর করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকী তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ নির্যাতিতার।

এই ঘটনার পর অবশেষে মঙ্গলবার ভবানী ভবনে গিয়ে ডিআইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ সুনীল চৌধুরীর কাছে সন্দীপ মণ্ডলের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই মহিলা। এ বিষয়ে যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর। তবে তিনি এই ঘটনার পর যথেষ্ট আতঙ্কে রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই ছুটিতে রয়েছেন অভিযুক্ত পুলিশকর্তা। এই খবর জানাজানি হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সন্দীপ মণ্ডল বলেন, ‘‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি পুরো ব্যাপারটি। আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।’’