সংবাদ শিরোনাম
সেন্টমাটিনে ভাসমান ট্রলার থেকে মালয়েশিয়াগামী ১২২ রোহিঙ্গা উদ্ধার | রাঙ্গা সম্পর্কে কটূক্তি করার প্রতিবাদে রংপুরে ফিরোজ রশীদের কুশপুত্তলিকা দাহ | ময়মনসিংহে অনলাইন জিডির উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | ইবির ভর্তি পরীক্ষাঃ ‘এ’ ইউনিটে জিরো থেকে হিরো এক শিক্ষার্থী | মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি বাকৃবি প্রশাসন | ঠাকুরগাঁওয়ে বাল্যবিবাহের চেষ্টা, কাজী ও বরকে কারাদণ্ড | টাঙ্গাইলে আবারো কালীমন্দিরে ভাংচুর | ৫ কেজি চালের দামে ১ কেজি পেঁয়াজ! | ‘সিগন্যাল ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণে উল্লাপাড়ায় দুর্ঘটনা’- রেল সচিব | ‘জঙ্গিদের কাছে কোরআন-হাদিসের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে’- গণপূর্ত মন্ত্রী |
  • আজ ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কে ছিলেন রাজশাহীর প্রথম নগর পিতা?

১১:০০ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, জুলাই ৩০, ২০১৮ জানা-অজানা, তথ্য জাদুঘর, দেশের খবর, রাজশাহী

এম নজরুল ইসলাম, রাজশাহী থেকে- রাজশাহীর নগর পিতার লড়াইয়ে এবারের নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি হচ্ছেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও বিএনপির মহানগর সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এ নির্বাচনের মূল লড়াই হবে এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে।

তথ্যমতে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বতর্মান আয়তন ৯৭ দশমিক ১৮ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ৯ লাখ। এবারের সিটি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩।
ইতিহাসের এক নাম রাজশাহী। এই নগরেই সিটি কর্পোরেশন। নগরীর গোরহাঙ্গা এলাকায় আছে সুউচ্চ ভবন। নগর ভবন বলেই চিনেন রাজশাহীবাসী।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। ১১ মার্চ ১৯৯৪ থেকে ২৮ মে ২০০২ পর্যন্ত রাজশাহীর নগরপিতার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

পরবর্তী নির্বাচনেও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশাকে হারিয়ে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হন মিনু। ২৯ মে ২০০২ থেকে ১১ জুলাই ২০০৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এক এগারোর পট পরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন রেজাউন নবী দুদু।

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো রাজশাহীর নগরপিতা নির্বাচিত হন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৮ থেকে ০৯ মে ২০১৩ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০১৩ সালে আবারও মেয়র পদে লিটন-বুলবুলের লড়াই হয়। প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বোমা হামলা মামলায় দীর্ঘদিন কারাবাসে থাকায় বুলবুলকে বরখাস্তও করা হয়।

ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিযাম উল আযীম। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের রায়ে মেয়রের মসনদ ফিরে পেলেও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মেয়র পদ ছেড়ে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন বুলবুল।

এবারের ভোটের লড়াইয়েও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও বিএনপির মহানগর সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তবে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভোটের মাধ্যমেই নগরবাসী ঠিক করবেন কে হবেন রাজশাহীর নগরপিতা।

ইতিহাস সূত্রে জানা গেছে, প্রাচীন বাংলার পুন্ডু সা¤্রাজ্যের অংশ ছিল রাজশাহী। বর্তমান রাজশাহী শহর থেকে মাত্র ৯ কিমি দূরে বিখ্যাত সেন বংশের রাজা বিজয় সেনের রাজধানী অবস্থিত ছিল। মধ্যযুগে বর্তমান রাজশাহী পরিচিত ছিল রামপুর বোয়ালিয়া নামে। রাজশাহী শহরকে কেন্দ্র করে ১৭৭২ সালে জেলা গঠন করা হয়। ১৮৭৬ সালে গঠিত হয় রাজশাহী পৌরসভা। ১৮৭৬ সালের ১ এপ্রিল ঐতিহ্যবাহী মোহন পার্কে টিনের দুটি কক্ষে রাজশাহী পৌরসভার (রামপুর-বোয়ালিয়া মিউনিসিপ্যালিটি) কার্যক্রম শুরু হয়।

এ সময় এই শহরের জনসংখ্যা ছিল ১০ হাজার। পরে মোহন পার্ক থেকে রাজশাহী কলেজের একটি কক্ষে পৌরসভা দফতর স্থানান্তর করা হয়। পৌরসভার কাযর্ক্রম পরিচালনার জন্য রাজশাহী কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ হর গোবিন্দ সেনকে চেয়ারম্যান করে গঠন করা হয় ৭ সদস্যের টাউন কমিটি। সরকার মনোনীত এই কমিটিতে পদাধিকার বলে সদস্য হতেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা প্রশাসক ও মেডিক্যাল অফিসার।

পরবর্তীতে পৌর নিবার্চনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। ১৮৭৬ সালে পৌরসভার একটি মিউনিসিপ্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। ১৯২১ সালে নগরীর সোনাদীঘির পাড়ে পৌর ভবন নির্মাণ করে পৌরসভা দফতরটি স্থানান্তর করা করে। ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশের বিধান অনুযায়ী মিউনিসিপ্যাল বোর্ডই মিউনিসিপ্যাল কমিটি হিসাবে কাজ করে আসছিল। মিউনিসিপ্যাল কমিটির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার আয়তন ছিল ৬.৬৪ বর্গ মাইল। পশ্চিমে হড়গ্রাম বাজার থেকে পূর্বে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পযন্ত ছিল এর এলাকা। লোকসংখ্যা ছিল ৫০ হাজারের বেশি।

১৯৫৮ সালের ৫ অক্টোবর তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কেএমএস রহমান সরকারি নির্দেশে মিউনিসিপ্যাল কমিটি ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করেন। ১৯৭৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে রাজশাহী পৌরসভার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৮৭ সালের ১৩ আগস্ট রাজশাহী পৌরসভা পৌর কর্পোরেশনে উন্নীত হয় এবং এ্যাভোকেট আব্দুল হাদি সরকার কতৃক প্রশাসক মনোনীত হন।

১৯৮৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পৌর থেকে সিটি কর্পোরেশনে পরিণত হলে রাজশাহীর আয়তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আব্দুল হাদি প্রথম মেয়র মনোনীত হন। ১৯৯০ সালের ১৬ এপ্রিল রাসিকের মেয়রের দায়িত্ব পান দুরুল হুদা। একই বছরের ৬ নভেম্বর মেয়র পদে মনোনীত হন মেসবাহ উদ্দীন আহম্মেদ। একমাস পরেই রাজশাহী বিভাগীয় কমশনার সাইদুর রহমান মেয়র মনোনীত হন।

১৯৯১ সালের ৮ মে মাসে দায়িত্ব নেন বিভাগীয় কমিশনার এনএ হবিবুল্লাহ। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে একই সালের ২১ মে মেয়র মনোনীত হন মিজানুর রহমান মিনু। ১৯৯৩ সালে মেয়র মনোনীত হন বিভাগীয় কমিশনার এম আমিনুল ইসলাম।

Loading...